ক্যাটেগরিঃ নাগরিক আলাপ

আজ এক সহব্লগারের পোষ্টের পিঠেই আমার এই পোস্ট। শহিদ মিনারে আমরা ফুল দিয়ে কেন শ্রদ্ধা জানাই? এর উত্তরে নানা মুনির নানা মত হবে তা খুবি স্বাভাবিক কিন্তু আমার নিজের একটা ভাবনাও আছে যেমন আছে শহিদ মিনারের যে শিল্পী নকসা করেছিল তার। তবে অন্যের উপর নিজের মত না চাপিয়ে নিজের যে কোন মত ও চিন্তার লালন ও পালনের স্বাধীনতা আছে বলেই আমি তা শেয়ার করছি। প্রথমে জেনে নেই শহিদ মিনারের শাব্দিক অর্থ শহিদঃ (আরবি) সাক্ষ্যদাতা। ইসলামী পরিভাষায় শুধু ইসলামধর্মের পথে যে জন মৃত্যু কে গ্রহণ করে আর উপমহাদেশীয় ভাবনায় তা আরও ব্যাপকতা পেয়েছে যে জন ন্যায়ের পথে আত্মদান করেছেন সে মুসলিম অমুসলিম মুনিব কিংবা স্রমিক যেই হোক। মিনার সাধারণ অর্থ টাওয়ার। এবার মূল ভাবনা। আত্মা ধর্ম টোটেম এই গুলো সব বিশ্বাস সংক্রান্ত ব্যাপার এর আলোকে যদি শহিদ মিনার কে দেখতে যাই তাহলে কথা গুলো এমন হবে অমুসলিম ধর্ম মতে *যখন আমরা শহিদের আত্মার উদ্দেশ্যে ফুল দিয়ে ভালবাসা উৎসর্গ করবো তখন শহিদের আত্মা বলবে আমরা তোমাদের ফুল দান ও ভালবাসায় মুগ্ধ আর খবরদার আমাদের চেতনাকে কখনো ভুলণ্ঠিত হতে দিওনা। আর ইসলাম অনুযায়ি শহিদেরা বলবে এই সব ফুল দেয়া অপচয় এই টাকা গুলো তোমরা দান করে দাও আর বিশেষ কোন স্থাপনার সামনে ফুল দেয়া ও আত্মাকে শ্রদ্ধা জানানো কুফর। আমাদের ও নিজেদের গুনাহগার করনা। ভাষার জন্যে মারা গেলেই স্বর্গ প্রাপ্তি হয় না আল্লাহ ভীতি ও আল্লাহ প্রীতি থাকতে হয় সাথে ইসলামে বিশ্বাস থাকা ফরজ। আর সাধারণ ভাবনা, শহিদ মিনার কোন ধর্মীয় স্থাপনা বা ধর্ম বিরোধী স্থাপনা নয় বরং ধর্ম নিরপেক্ষ স্থাপনা। একটি ধর্মীয় স্থাপনায় ধারাবাহিক* ভাবে অন্য ধর্মীয় রীতি পালন করা যায়না। আর ধর্ম নিরপেক্ষ ভাবনায় আত্মার ভাবনাটা স্থগিত এর আলোচনা ধর্মের জন্যে রেখে দেয়া হয়েছে। সুতরাং ফুল দিয়ে শহিদের আত্মাকে শ্রদ্ধা জানানো ইহা শত ভাগ প্রতিকী বরং শহিদ মিনারে ফুল দেয়ার অর্থ হল আজ আমরা সবাই বাংলাদেশী কেউ ধনী গরিব হিন্দু মুসলিম নয় সবাই সেই ৫২ ও ৭১ এর চেতনায় ভাস্বর, শহিদ সালাম বরকত যেই চেতনাই জীবন দিয়েছিলেন তা আমরা এতো দিন পরেও ভুলি নাই যেমন একজন মুসলিম কে তার মনে ও মুখে কলেমা জীবন ভর জারি রাখতে হয়। এখানে ধর্মকে অবজ্ঞা করা হয়নি বা টানাও হয়নি অতএব বেদাতের প্রশ্ন অপ্রাসঙ্গিক।