ক্যাটেগরিঃ মতামত-বিশ্লেষণ

শুদ্ধ ভাষা বা অশুদ্ধ ভাষা মানে কি? বাংলা ব্যাকারনের অ থেকে চন্দ্র বিন্দু মেনে চলাই কি বাংলা? যাই হোক আমি যেহেতু পাকা লেখিয়ে নয় আমি আমার ভাবনাটা আমার মতই বলে (ভাগাভাগি/SHARE) যেতে থেকি। আমরা মুলত বাংলা ভাষার তিনটি রুপ দেখে থাকি এক গুরু ধরে ভাষা শেখা অর্থাৎ বাংলা একাডেমীর প্রমিত বাংলা যার মুল সারাংশ বা যা কিছু আছে তা হল উচ্চারন আর এই প্রমিত বাংলা বা সহি শুদ্ধ উচ্চারন রপ্ত করনে দেশে বিভিন্ন পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়কে ঘিরে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান কাজ করে যাচ্ছে যেমন শিমুল মুস্তফা তার প্রতিষ্ঠান নিয়ে ঢাবি তে কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছেন। আর এই প্রমিত উচ্চারন বেশ কঠিন বটে তবে আমাদের দেশের টাকা ওয়ালা বাবা মার যেই সব সন্তান ভিকারুন্নেসা বা আইডিয়ালে পড়ছে তারা যেই শুদ্ধ ভাষার ভিত্তিতে সমাজের ভদ্র অভদ্র শ্রেণি নির্ণয় করে থাকে তা এই প্রমিত বাংলা উচ্চারনের শিশুতোষ কোমল রুপ। আরেকটি হল সেই হতভাগ্য রুপ যাকে ‘পাগলেরা’ বলে অশুদ্ধ! আসলেই কি তা অশুদ্ধ?

প্রকৃত পক্ষে প্রমিত (বাংলার) উচ্চারনের পরে তার সহজ উচ্চারন কে আমরা শুদ্ধ ভাষা বলে সনাক্ত করলেও অশুদ্ধ ভাষা বলে বাংলার কোন রূপের জাত নির্ধারন করতে পারিনা কারন তা আর কিছু না তা হল আমাদের মায়ের ভাষা যাকে বলি আঞ্চলিক ভাষা। নোয়াখাইল্লা, সিলটি ও চাটগাইয়া এই গুলো কোন অসুদ্ধতা নয় যা আমাদের মাঝের আজব টাকা ওয়ালারা মনে করে থাকে। ব্যাপারটা অদ্ভুত যেই মায়ের ভাষা/আঞ্চলিক ভাসায় কথা বলে আমরা বড় হই ঢাকায় আসার পরে, হাতে টাকার গরম ও দামি গাড়ির ছোঁয়া পেলেই তাকে অশুদ্ধ ঠাহর করে ওই শিশুতোষ উচ্চারনটাকে নিয়ে নিজেকে সাহেব সার মনে করা শুরু করি আর যারা মায়ের ভাষা/আঞ্চলিক ভাষায় কথা বলে তাদের রিক্সা ওয়ালা দারোয়ান শ্রেণি ভাবা রপ্ত করে ফেলি।

শুনুন, যখন কবিতা আবৃতি করবেন তখন তার উচ্চারন হবে প্রমিত যখন মাইক নিয়ে কথা বলবেন তখন বলবেন শুদ্ধ ভাষা আর যখন নিজের জেলার ভাই বেরাদারদের সাথে থাকবেন বা নিজের ঘরে, তখন আপনার সন্তানদের শুদ্ধ ভাষার সাথে সাথে আঞ্চলিক ভাষাটা রপ্ত করান। এমনিতে আমাদের দেশে ভাষা বৈচিত্র নেই বলাই চলে, সাঁওতালি ভাষা সহ উপজাতিও ভাষা গুলো বেশ বিপদেই ছিল এতদিন এখন আশার আলো দেখা যাচ্ছে যেমন সাওতালি ভাষার কম্পিউটার কি বোর্ড বের হয়েছে, পার্বত্য অঞ্চলে স্কুলে ৫ম শ্রেণি পর্যন্ত চাকমা মারমা ভাষা শেখানো হচ্ছে আর মায়ের ভাষা বাংলার বৈচিত্র্য অলঙ্কার সৌন্দর্যই হল আঞ্চলিক ভাষা যা আজ বিপদেই আছে। সিলটি বাংলার নিজস্ব বর্ণমালা ‘সিলটি নাগরি’* আজ কোথায়? এক জন নোয়াখালীর লোক ভাবে নয়াখাইল্লা বললেই বুঝি মান সম্মান যাবে প্রকৃতপক্ষে বললেই বরং ভাষার মান রক্ষা হবে, বৃদ্ধি পাবে। একদিন আমরা বন্ধুরা মিলে খাবার হোটেলে গেলাম সেখানে দেয়ালে লেখা দেখলাম ‘ধন্যবাদ আবার আসবেন’ তখন আমরা বললাম হোটেল মালিকসহ এই এলাকার সবাই যেহেতু ঢাকাইয়া তাই দেয়ালে প্রথমে লেখা উচিত ছিল ‘ধন্যবাদ আবার আইয়েন’ পরবর্তীতে ‘ধন্যবাদ আবার আসবেন’। * ‘সিলটি নাগরি’ সম্পর্কে আরেকটি কথা যে কোন ভাষা লিখনে একাধিক আলাদা বর্ণমালা থাকতেই পারে বরং তা ভাসাটির জন্যে আলঙ্কারিক বৈচিত্র বটে তবে ৭১ এর পর একক বাংলা ভাষার রাজত্বের ভূত আমাদের নিতি নিদ্ধারকদের ৫২ এর চেতনা থেকে দূরে ঠেলে দেয় কারন ৫২ মানে হল ভাষার স্বাধীনতা। এই চেতনাই সাওতালি মারমা ভাষা নাগরি বর্ণমালা রক্ষার ম্যাগ্না কারটা। শেষ মুহূর্তে আমি নিজেকেই সতর্ক করছি যে আমি সচেতন ভাবেই ডিজুস ভাষাকে আলোচনায় আনতে চাইছিনা।

[ ‘সিলটি নাগরি’ বর্ণমালার নমুনা দেখতে ক্লিক করুন]