ক্যাটেগরিঃ নাগরিক আলাপ

১। ব্যাবসায় পুঁজি হিসেবে নগদ অর্থ বিনিয়োগ করার সাথে সাথে সময়, পরিশ্রম ও মেধা ব্যায় বিনিয়োগ করতে হয় কিন্তু আমাদের দেশে আরো দুটো জিনিস পুঁজি হিসেবে পরিগণিত হচ্ছে এক সন্ত্রাস দ্বিতীয় রাজনীতি আবার ব্যবসা করে টাকার পাহার গড়তে এই দুটোকে একসাথে গাঁটছারা বাঁধতে হয়। প্লট ব্যাবসার কথাই ধরি এই ব্যবসায় সন্ত্রাস এবং রাজনৈতিক শক্তির পৃষ্ঠপোষকতাই মুল বিনিয়োগ। তার মানে আমাদের প্লট ব্যবসায়ীরাই রাজনিতিক তারাই সন্ত্রাস বা আমাদের রাজনীতিবিদরাই প্লট ব্যবসায়ী ও সন্ত্রাস অথবা সন্ত্রাসীরাই আমাদের প্লট ব্যবসায়ী ও রাজনিতিক। বাঃ এই তো হল বারমুডা ট্রায়াঙ্গল! আমরা ফাইসসা গেছি হালায় মাইঙ্কার চিপায়!

২। বিশ্ব দরবারে একটি দেশের প্রতিনিধিত্ব, প্রতীক বা ভাবমূর্তি কেমন হওয়া উচিৎ? ধনী দেশগুলোর কাছে বাংলাদেশ বন্যা দুর্যোগ ও দুর্নীতির দেশ। ধনী দেশগুলোতেও প্রাকৃতিক দুর্যোগ আঘাত করে কিন্তু তারা তার খতি কাটিয়ে উঠতে পারে কিন্তু আমরা তা পারিনা। ঐ সব দেশের মানুষ মৌলিক অধিকারগুলো থেকে বঞ্চিত হয়না আমরা হই। কিন্তু এত সব নেতিবাচকের ভিড়ে আমাদের সামস্তিক কিছু সাফল্য ও অহং আছে আর সেই সাফল্য ও অহং আমরা এই জাতি অর্জন করেছি ব্যাক্তি ও সামস্তিক পর্যায়ে যেমন ভাষা আন্দলন স্বাধীন বাংলাদেশ আবার ব্যাক্তি পর্যায়ে যে ব্যপারগুলো আমাদের এই জাতিকে এই দেশকে বিশ্ব দরবারে আলোচিত প্রশংসিত করেছে তা হল নোবেল বিজয় এভারেস্ট বিজয় ইত্যাদি। আসলে আমার এই স্ট্যাটাসের উদ্দেশ্য হল এই এভারেস্ট বিজয়ই কে নিয়েই। একটি ব্লগে দেখলাম কেউ একজন হিসেব দিচ্ছে যে এই দরিদ্র দেশের মানুষের জন্যে এভারেস্ট বিজয় বাহুল্য অপব্যায়। ইসলামে আমলের ক্ষেত্রে দুটো ব্যপ্র আছে একটি হল ফরজে আইন যেমন ৫ অক্ত নামাজ প্রত্যেকটি মানুষের জন্য তা বাধ্যতা মূলক অন্যটি হল ফরযে কেফায়া যেমন জানাজার নামাজ মহল্লার গুটি কয়েক জন আদায় করলেই মহল্লার বাকি সবার দায়িত্ব পালন হয়ে যায়। এমনি কিছু কাজ আছে যা একটি দেশ ও জাতিকে বিশ্ব দরবারে ইতিবাচক ভাবে তুলে ধরে সম্মানিত করে। আমাদের দেশে দুর্নীতি হয় এর হিসাব করলে দেশ এগিয়ে যাবে কিন্তু এভারেস্ট জয়কে মাপতে গেলে এমন হবে যে আমাদের আমও নেই ছালাটুকু তো আগেই হারিয়ে আছি।

৩। কথাটা ঠিকই! নাৎসিদের যেমন সরকারি চাকরিতে নিয়োগ দেয়া হয়না তেমনি বাংলাদেশেও সরকারি আধা সরকারি সায়িত্ত শাসিত প্রতিষ্ঠান ও স্কুল কলেজ ভার্সিটি মাদ্রাসাতে জামাত শিবির স্থায়ী ভাবে নিষিদ্ধ করা হোক। কারন তারা মূলত বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে নিজেদের যায়গা তৈরি করে তারাই নিতি নির্ধারকে পরিণত হতে চায় হয়ে থাকে। জামাত শিবির ENTRYISM বিশ্বাসী একটি দল। তাদের শুধু আইনি ভাবে নয় সামাজিক ভাবেও প্রতিহত করতে হবে কেননা তারা উপমহাদেশীয় ইসলাম ভাবনার সম্পূর্ণ বিপরীত যেমনটি শিয়া সুন্নির বৈপরিত্ত। তাই আমাদের উচিৎ যারা ধর্ম পালন করে থাকে সুন্নি বিশ্বাসে তারা নিজের সন্তানদের কোরান শিক্ষার জন্যে জামাত শিবিরের কাউকে নিয়োগ দিবেন্না তাদের পিছনে নামাজ পড়বেননা।

৪। ছাত্র রাজনীতিকে আমি প্রচুর অপছন্দ করতাম। এখন আর করছিনা কারন মাঠে যদি ছাত্র দল বা লীগ না থাকে তার বদলে যুব লীগ বা দলের মত বহুত স্মার্ট উপদলগুলো থাকে তাহলে সেই দিন দূরে নয় যেদিন বাংলাদেশ সংসদের ৮০% (A+) আসন হাজি সেলিম ও চৌধুরী আলমের মত অক্সফোর্ড স্কলাররা অলংকৃত করবে!!!!!

৫। মাদাম মন্টেসরি মেরি কুরি জোয়ান অফ আর্ক ফ্লরেন্স নাইতেঙ্গেল মাদার তেরেজা বেগম রোকেয়া মারগারেত থেচার হিলারি ক্লিনটন কে সবায় অনুসরণ করে যোগ্য একটি বিশ্ব সমাজ গড়ে তোলা জেতে পারে তবে তা গড়তে হলে আমাদের একটি সু নির্দিষ্ট শত্রু চিনহিত করে যুদ্ধে নামতে হবে আমাদের সেই শত্রু যা আমাদের মানব সমাজকে নারি পুরুষ বা অবলা সবল এই দুই ভাগে বিভক্ত করে রেখেছে তা হল ইউনিলিভার ও তার পণ্ডস এজ মিরাকল ফেয়ার এন্ড লাভ্লি ও লাক্স সুন্দরিরা। মেধা ও পরিশ্রম নয় হেরেমের কোমল রূপ কোমল দেহই যেন সব!!!

৬। আমাদের ব্লগগুলোতে এক ধরনের হাস্যকর বাক স্বাধীনতার চর্চা হয় যেখানে মুহাম্মাদ (সঃ) সমালোচনা হয়ে থাকে কিন্তু শেখ সাহেবের নয় এই দৃষ্টি ভঙ্গি কখনই আমাদের কাঙ্ক্ষিত গণতন্ত্র বা বাক স্বাধীনতার স্বাদ আস্বাদন করতে দিবেনা।

৭। এক জন মেয়েব্রেটি যার ফেসবুকে একটি পেজ আছে আর সেই পেজের ১৬০০ লাইকদাতার এক জন আমি। তার সুন্দর মুখের নাজিল দেখতে দেখতে আর ভালো লাগছেনা। চেহারা দেখানো আর পণ্ডস এজ মিরাকলের বিজ্ঞাপনের ফারাক টা কি তা বড় জানতে ইচ্ছে করে!!!

৮। সচেতন তরুণ যুবা ও ছাত্রদের জন্যে সময় এসেছে “বহু দলীয় গণতন্ত্র ও বাকস্বাধীনতা” এই দুটো ব্যাপারকে সামনে রেখে বাম ধারার রাজনীতির উপর চোখ রাখার। কারন আমি আপনি আমরা সবায় এখন বুঝি যে দেশকে নিলামে তুলে ৫টি বছরের জন্যে ক্ষমতায় যাওয়ার রাজনীতিই চলছে এই দেশে, কেউ ভারতের সাথে রফা করে কেউ চিনের সাথে। আর আমি এখানে “বহু দলীয় গণতন্ত্র ও বাক স্বাধীনতা” কথাটাকে এই জন্যে এনেছি যে বাংলাদেশ চিনের মত এক দলীয় শাসনের মুখে না পরুক তাই।

৯। ব্যাপারটা মানবিক ব্যাপারটা পুঁজিপতির। ঢাকাকে যেমন মসজিদের নগরী বলা হয় এখন চাইলে ATM বুথের নগরী বলা যেতে পারে তবে এর কৃতিত্ব ৮০% ডাচ বাংকা ব্যাংকের। এই বুথের কারনে চোখ বুঝে অনেক ছাত্র ছাত্রি ডাচ বাংলায় স্যাভিং একাউন্ত খুলেছিল। এতে তাদের গ্রামে থাকা অভিভাবকদের জন্যে তাদের জন্যে ঢাকায় পড়ুয়া সন্তানদের কাছে টাকা পাঠানো প্রায় নির্ভেজাল ঝামেলাহিন হয়েছিল কিন্তু হায়! হায়! হায়! ব্যাংক মালিক পূজীপতি মধুর লোভী এতো দিন ফাও খাইয়ে এখণ সুদ সহ দিল টান। পূর্বে স্যাভিং একাউন্ত এ ৫০০ টাকা রেখে বাকি টাকা অনায়াসে তোলা যেত কিন্তু এই সামনের এক তারিখ থেকে ন্যূনতম ২০০০ টাকা রেখে দিতে হবে! হায়রে সুদখোর তোদের এই বুথ তো ঢাকায় পড়ূয়া ছাত্ররাই চালীয়ে রাখে ওদের দিকে একটু তাকা খূব তো বলে বেরাস প্রতি বছর ২ কোটী টাকা তোরা মেধা বৃত্তি দিস! সেই টাকাই কি আবার ওদের পকেট কেটে নিবি!?!