ক্যাটেগরিঃ পাঠাগার

আমি কত বাজেভাবে বই মেলায় যেতে চেয়েছিলাম  সেটা একটা প্রশ্ন। আমার যাওয়ার প্রধান কারণ আমি একুশে বইমেলায় যেতে পারব না । ৪ বছর হতে চলল, একুশে বইমেলা মিসড। বাঙ্গালিরা ভালই বইমেলা উদযাপন করে থাকে । যা দেখলাম, আজ পর্যন্ত ঢাকার বইমেলায় প্রচুর মানুষ প্রচুর ভীড়, অনেক নতুন বই, প্রচুর প্রকাশক।  কলকাতায় একি চেহারা। আসল চিত্র কয়জন অনুধাবন করে ? ব্যাপারটা হল, অনেক কম মানুষ বই পড়ে, অনেক কম বাবা মা তাদের বাচ্চাকে গল্পের বই কিনে দেয়। গল্পের বই কিনে দেয়া তো দূরের কথা কতজন বাবা মা এই যুগে বাচ্চাকে গল্প পড়ে শুনায় সেটা বড় প্রশ্ন।

ঢাকায় থাকার সময় এবং পশ্চিমবঙ্গে পড়তে আসার পর আমি দুই প্রজাতির মানুষকে কাছ থেকে  দেখেছি।

১। যারা গল্পের  বই পড়ে
২। যারা  গল্পের বই পড়ে না

প্রথম শ্রেণীর মানুষদের নিয়ে আমার কোন অভিযোগ নাই। সে যদি গোগ্রাসে চেতান ভাগত আর ফিফটি সেইডস অফ গ্রে ও পড়ে থাকে তাও সে পড়ে, তাকে ফেলে দেয়া যাবে না।

ভিকারুন্নিসা নূন স্কুলে সম্ভবত দশম শ্রেণীতে পড়ার সময়কার কথা।   আমি প্রথম খুব কাছ থেকে দ্বিতীয় প্রজাতির মানুষের সংস্পর্শে এসেছিলাম। বলা বাহুল্য দ্বিতীয় প্রজাতি আজ শুধুই আমার এককালের পরিচিত মানুষ।

একবার কোন বিষয়ের কোচিং ক্লাসে  এক ‘ভাল ছাত্রী, সুন্দরী, ফ্যাশন সচেতন,স্মার্ট(!)’ সহপাঠীর পাশে বসে ছিলাম। কথা শুরু করার বাতিকস্বরূপ আমি কথপকথন শুরু করলাম।

‘ তুমি বইমেলা থেকে কি কি বই কিনলা ?’

আমার দিকে তাকিয়ে কিশোরী  প্রথমে হাসল, এই প্রশ্নে সে একটু অপ্রস্তুত হয়েছে। যাই হোক,  আমি চোখ বড় বড় করে উত্তরের জন্য অপেক্ষা করছি। বলে রাখা ভাল ওইদিন আমার এই প্রশ্ন করার কারণ স্কুলে  যারা আমার  কাছের বন্ধু ছিল তারা সবাই ইতিমধ্যে বইমেলায় দুইবার ঘুরে এসেছে, না আসলেও আমরা যে সব বই কিনেছি সেগুলা ক্লাসে বসেই পরেছে নাইলে বাসায় নিয়ে গিয়েছে ।আমিও দুইবার গিয়েছি ইতিমধ্যে আর দুইবার যাওয়ার স্বদিচ্ছা আছে। আব্বু, আম্মু, আমার আর ছোট বোনের লিস্ট মিলিয়ে কমপক্ষে বিশটা এবং সর্বাধিক ৫১ টা বই কেনা হয়েছিল  সেইবারের বইমেলায়।  যার মানে সাত জন বন্ধুর আমার যে গ্রুপ ছিল তারা সবাই বই পড়ত এবং পড়ে, তাদের সাথে এই বিষয়ে আলোচনারত ছিলাম বিধায় আমি এই প্রশ্ন জিজ্ঞেস করি।

অবশেষে কিশোরী উত্তর দিল, ‘ আমি কোনদিন বইমেলায় যাইনি! কি করে বই পড়ে সবাই, আমি তো ‘হাজার বছর ধরে’,  ‘কবর’ নাটক পড়েই বোওর্ড হয়ে গিয়েছি। ‘

আমি একটু ধাক্কাই খেলাম।

– ‘ তুমি সারাজীবন ঢাকায় থেকেছো না ? তুমি একবারও একুশে বইমেলায় যাও নাই? তুমি স্কুলের টেক্সটবুকের বাইরে  কোন বই পড় নাই ? স্কুল, কোচিং এর পর বাসায় তুমি কর কি ?’

– ‘ কিছু না, টিভি দেখি, ঘুরতে বের হই, ফোনে কথা বলি, বই পড়ার সময় কই ? আর আমার অতো ধৈর্য নেই। কি করে একটা বইয়ের দিকে তাকিয়ে লাইন এর পর লাইন পড়া যায় আই রিয়েলি ডোন্ট গেট ইট!’

আমার কি এই মেয়ের সাথে আর কথা বলা উচিত ?

না ।

কিন্তু আমি ইন্ডিয়া আসার পর এরকম আরেকজনের সন্ধান পাই। ব্যাপারটা একটু বিরক্তিকর তাও বলেই ফেলি। এই মেয়েটা মরিশাস থেকে এসেছে। খুবি অমায়িক, আস্তে ধীরে কথা বলে, ভদ্রতা আর ভালোমানুষি করে একাকার। এই একটা কাজই সে ভাল পারে। আমার আম্মু বলে মাঝে মাঝে বোকা মানুষেরা ভালমানুষ সেজে থাকে, এইটাই তাদের কাছে অস্ত্র।  পাঠ্যপুস্তক ছাড়া তিনি জীবনেও কিছু পড়েন নাই। জ্ঞ্যান  অর্জনের ইচ্ছা তার অনেক কম। কিন্তু সে আমার বন্ধু, এক বছর আমার রুমমেটও ছিল। তাকে আমি গতবছর অনেকটা জোর করে কলকাতা বই মেলা নিয়ে যাই। সে  আমার সাহায্য নিয়ে দুইটা বইও কিনে। আ থাউস্যান্ড স্প্লেনডিড সানস – খালেদ হূসেইনি আর বাকি দুইটা রুপকথার গল্পের বই।  পরে তার ধারনা হয় গল্পের বইটার উপর সে আসক্ত হয়ে পরেছে এবং সে আরেক বন্ধুকে সেটা দিয়ে দেয়।

আমার সত্যি মনে হচ্ছিল আমি এক নতুন জীবের সাথে কথা বলছি । ছয়জনের সাথে না বসলে আমি মাঝে মাঝে আনিকা আর স্বর্ণার মাঝের চেয়ারে গিয়ে বসে যেতাম। তারা ভয়ানক পড়ুয়া মানুষ ছিল, আজও আছে। ক্লাসরুমের ক্লাসিক নার্ড আর গীকের এক অনন্য যুগল । তাদেরকে বইয়ের ভিতর মুখ গুজে বসে থাকতে দেখা যেত, ব্রেক টাইমে এক গম্ভীর ভাব ধরে লক্ষ্মী বাচ্চার মত টিফিন খেত, ক্যান্টিন অবধি গিয়ে আবার ফিরেও আসত সময় মত । তাদের মাঝে বসলে আমি বরাবরই অংক ক্লাসে অংক করতাম, একটা অনুপ্রেরণা আসত তারাতারি শেষ করার। কোচিং এর যদি কোন হোমওারর্ক থাকত ক্লাসে বসে শেষ করতাম। তবে আনিকা আর স্বর্ণা কি সারাদিন পড়াশোনা করত ?

অঙ্ক খাতার উপরে  স্বর্ণা বিশ্বসাহিত্য কেদ্র থেকে নেয়া বইগুলো রেখে পড়ত।  আনিকা ও একই কাজ করত, একটা না একটা বই তার বই বা খাতার উপরে খোলা থাকত।

বাংলাদেশে অবশ্য দুইধরনের পড়ুয়া আছে।

১। যারা হুমায়ুন আহমেদ এর বই পড়ে থাকে

২। যারা হুমায়ুন আহমেদ এবং অন্যান্য বই ও পড়ে থাকেন।

 

আমার মনে আছে ক্লাস এইট না নাইন এ থাকার সময় আমি আর আদিবা মিলে সিডনি শেলডনের ব্লডলাইন বইটা একসাথে, একদিনে পড়ে শেষ করেছিলাম। পিছনের বেঞ্চে দুইজন পাশাপাশি বসে সকাল ৮ টা থেকে দুপুর ১.৩০ টা অব্ধি টানা। এই বইটা পড়ার  পিছনেও একটা কাহিনী আছে।

আমি আগের বৃহস্পতিবার ব্লাডলাইন বাসায় নিয়ে গিয়েছিলাম। নওশিনের বই, রবিবার আদিবা নিবে পড়ার জন্য। অষ্টম-নবম শ্রেণীর যথোপযুক্ত পাঁকা বাচ্চা হওয়ায় আমরা হাতের কাছে অ্যাডালট ফিকশন পেলেই খুশি হয়ে যেতাম। সিডনি শেলডন শুরু করার জন্য ভাল, হুমায়ুন আহমেদের বইয়ের মত তারাতারি পড়ে শেষ করা যায়, অত মাথাও খাটাতে হয় না। বাসায় যে আমার এক পড়ুয়া আম্মা আছে তার কথা তখন মনে পড়ে নাই। ব্যাগ থেকে টিফিন বক্স বের করার সময় আম্মু বইটা পেল আর পরা শুরু করে দিল। একরাতে আম্মুর পড়া শেষ আর পরেরদিন সকালে  আমার বকা খাওয়া শুরু। সকালে আম্মুর প্রথম কথা, ‘ এই বই কার ? ‘

‘নওশিনের।’

‘ এইটা তোমার পড়ার বয়স হয় নাই, তুমি এটা পরের দিন ফেরত দিয়ে দিবা’

আমি মাথা নিচু করে ভয়ে ভয়ে উত্তর দিচ্ছি

‘ ঠিকাছে।‘

আম্মু এইটুকুতেই থেমে যাবে ? হাহ!

‘ বইয়ের পিছনের অংশটা পরলেও তো বোঝা যায় এইটা কি ধরনের বই! এইসব পড়ার অভ্যাস বানাইসে। ‘

এটা অনেক্ষন ধরে চলে, শেষে আব্বুকে বলে আম্মু তার রাগের সমাপ্তি ঘটায়।

এই কারণে রবিবার আমি আর আদিবা মিলে বইটা শেষ করি। কই ক্লাসওয়ার্ক, কই লেকচার, সব একদিকে আমাদের বইপড়া আরেকদিকে।

এবার মুম্বাই আর  গোয়া ভ্রমণে যাওয়ার সুযোগ হয়েছিল । বিলি এর আগে ইন্ডিয়ান রেইলওয়ের সাথে সুদীর্ঘ ভ্রমণ করেছে যেটা আমার কাছে একদমই নতুন। সবকিছুর অভিজ্ঞতা থাকা ভাল।শীতকালে ভ্রমণ করব তাই আমরা যেই টিকিট কনফার্ম পেয়েছি সেটাই কেটেছি।  দুইজন মেয়ে স্লিপার ক্লাসে চড়ে কলকাতা  থেকে মুম্বাই যাচ্ছে । এইদিকে বিলি মঙ্গোলিয়ান আর আমি বাংলাদেশী । পুরো কম্পার্ট্মেন্টে (লিখে দিয়ে বলতে পারি)  আমি আর বিলি শুধু বই পরেছিলাম। ৩৭ ঘণ্টার সেই অতিরিক্ত লম্বা ট্রেন ভ্রমণে আমি হয়ত মরেই যেতাম যদি ‘ইনফারনো-ড্যান ব্রাউন’  বইটা না থাকত। বিলি পড়ছিল  নিঃসঙ্গতার ১০০ বছর- গ্যাব্রিয়েল গারসিয়া মারকেজ। আমাদের বগি থেকে পাশের দুইটা বগিো দেখা যাচ্ছিল, সেখানে বিভিন্ন পেশার বিভিন্ন বয়সের মানুষ ছিল। আমাদের মত স্টুডেন্ট ছিল অনেকে, আঙ্কেল ছিলেন কয়েকজন যারা সবাই  ফেরিওয়ালার কাছ থেকে খাবার কিনে খাচ্ছিলেন, এক ছোট ভাই তার বড় বোনকে শ্বশুর বাড়ি পৌঁছে দিয়ে আসছিল, কেও তার পরিবার নিয়ে যাচ্ছিল। ব্যাপারটা হল, ট্রেনে তারা হয় শুধু খাবে, ঘুমাবে, ফোনে কথা বলবে , ফেসবুকের পেইজ বার বার দেখবে, ওয়াটসঅ্যাপ এ চ্যাট করবে, গান শুনবে, ভিডিও দেখবে কিন্তু বই কেও পড়বে না। একটা বই নিজের কাছে রাখার বা পড়ার চিন্তাও হয়ত তাদের মাথায় কখনও আসে না। যেই বোনটা শ্বশুর বাড়ি যাচ্ছিল সে ডিগ্রি পাস করা মেয়ে, অধিকাংশ সময় সে জানালার বাইরে উদাস চোখে তাকিয়ে পার করে দিয়েছে। হা করে মেয়েদের দিকে তাকিয়ে থাকে এরকম প্রজাতিরও  কমতি ছিল না । জেনারেল স্লিপার ক্লাসে যার খুশি সেই ঢুকছে, বসছে। এক এর পর এক ফেরিওয়ালা, চাট, সিঙ্গারা, বিস্কুট, পানি , দই , মুড়ি ইত্যাদি বিক্রি করতে আসছে, বইয়ের ফেরিওয়ালা একটাও নেই!

 

গোয়া থেকে ফেরত আসার সময় আমরা  থার্ড এসিতে টিকিট পেয়েছিলাম। পুরা একমাস লেগেছিল কনফার্ম হতে। আর যাই হোক ভাগ্যের প্রতি আমরা কৃতজ্ঞ। জানুরারীর প্রথম দিন তাই বোঝা যাচ্ছে থারটি ফার্স্ট পালন করে দলে দলে বিদেশী পর্যটকেরা এখন পরবর্তী গন্তব্যের দিকে যাচ্ছে। মাডগাও স্টেশনে নানা দেশের নানা বর্নের মানুষে ভর্তি। ভাসকো দা গামা থেকে হাওড়া যাওয়ার এই একটাই সরাসরি ট্রেন। আমাদের কম্পার্ট্মেন্টে তো বটেই পাশের প্রায় সবগুলোতেই ৩-৪ জন বিদেশী পর্জটক ছিল। মজার ব্যাপার হল সবার হাতে বই ছিল। আশ্চর্য হলেও সত্যি, আমরা ফিনল্যান্ড, জার্মানি, রাশিয়া, ইংল্যান্ড থেকে আগত বেশ কয়েকজনের সাথে কথা বলেছি যারা সবাই গত রাতের নতুন বর্ষ উদযাপনের পর ক্লান্ত, আপাতত বই পরছে , ঘুম পেলে ঘুমিয়ে যাবে। তারা ঘুম থেকে উঠার পরও বই পরা অব্যাহত রেখেছিল।

অপরদিকে আমাদের সাথে দুটি ভারতীয় পরিবার ভ্রমণ করছিল। সবচেয়ে কাছের পরিবারটিতে বাবা-মা আর তাদের ৪ বছরের ছেলে। বেচাড়া বাচচাটা  প্রচুর কথা বলে। ক্লাসিক ইন্ডিয়ান রেইলে ভ্রমণকারীদের মত প্রত্যেক ফেরিওয়ালা কে থামিয়ে থামিয়ে বাবা( যিনি বিশাল ভুরীওয়ালা বাঙ্গালী চার্টার্ড অ্যাকাউন্ট্যান্ট) তার ছেলেকে ভাল খারাপ আজে বাজে সব কিছুই খায়িয়ে যাচ্ছেন। বাচ্চাটা অনেক জোড়ে কথা বলে তাই আমাদের ঘুমে ব্যাঘাত ঘটেছিল। ঘুম থেকে উঠে যথারীতি আমরা কিছু খেয়ে আবার বই পড়তে শুরু করেছি। এবার  বিলি আর আমার বঈয়ের  অদল বদল হয়েছে।

একটা বাচ্চা যে ৩৬ ঘণ্টা ট্রেনে সে অস্থির হবেই, বোওর্ড হওয়া বাধ্যতামূলক। তার  শিক্ষিত বাঙালি বাবা মা অরিত্রর( বাচ্চাটার নাম) জন্য  প্লে স্টেশন পোর্টেবল স্ট্যান্ডবাই রেখেছ, একটা রঙ করার বই আর প্যাস্টেল হাতের কাছেই। কিন্তু ছোট মানুষ নিচের বার্থ থেকে মই বেয়ে উপরের বার্থে উঠা আর নামাতে বেশী মজা পাচ্ছে । বার বার আমার আর বিলির কাছে এসে জিগ্যেস করছে আমরা কি পড়ছি। পিএসপি এর চেয়ে তার বা মায়ের স্মার্টফোনের গেইমে বেশী আগ্রহ। এক দিন কেটে যাওয়ার পর তার কান্না! সেও বই পড়বে, অথবা তাকে পড়ে শুনাতে হবে। বেচারা বাবা-মা অনেক করে বুঝানোর চেষ্টা করছে এটা কর ওটা কর , বই তো তাদের কাছে নেই। তারা নিজেরাও পড়ে না বাচ্চা পড়বে কি! পড়ে শুনানোর ও আইডিয়া তাদের এখনও আসে নাই।

ওইদিন আমি অরিত্রর বাবা- মা কে গল্প শুনালাম।

আমার যখন ২৬ দিন বয়স আম্মু আব্বু আমার জন্য কেনাকাটা করতে গিয়েছে । তারা নতুন মা – বাবা,  আমার জন্য যাবতীয় দরকারি অদরকারী জিনিস যেমন বেবি টয়লেট্রিজ, সব রঙের জামা, জামার সাথে মিল করে জুতা, ব্যান্ডস ইত্যাদি কেনা শেষ। আসার পথে তাদের মনে হল কিছু একটা বাকি আছে। কি জানি কিনে নাই। শেষ মেষ তারা একগাদা বই কিনে বাসায় ফিরেছিল। আম্মু যখন এই কাহিনী আমাকে বলেছিল তখন সে বিশাল একতা হাসি দিয়ে দুই হাত ছড়িয়ে আমাকে দেখিয়ে বলেছিল ,

‘এত্তোগুলা!’

 

আমার মনে হল এতে তারা কিছু বুঝে নাই। তাই আমি আবার বলা শুরু করলাম। আমার ছোট বোনের বয়স যখন ৩ কি চার , আব্বু তাকে প্রতিরাতে গল্পর বই পড়ে শুনাতো। বই পড়া শেষ হয়ে গেলে আব্বু বানিয়ে বানিয়ে রাক্ষসের ভাই খোক্ষশে গল্প বলত। ওর যখন ৪ বছর বয়স, ছোট(আমার বোনকে আমি ‘ছোট’ বলে ডাকি) গল্পের বই পড়তে পারত না কিন্তু বই তার মুখস্ত, বইয়ের পাতা উলটিয়ে উলটিয়ে হুবুহু পড়ে যাচ্ছে। ওই বছরই ছোট জাতীয় শিশু পরস্কার প্রতিযগিতায় গল্প বলে তৃতীয় হয়েছিল । পরবর্তী বছরগুলোতে সে ‘ আমি তপু’ প্রতিদিন একবার করে পড়ত। মুহাম্মদ জাফর ইকবালের সব বই তার সংগ্রহে থাকতে হবে এমন একটা নেশা তৈরী হল। আব্বু হাশিমুখে এই আবদার পরিপূর্ণ করে যাচ্ছে।

এইবার বেচারা মা একটু উৎসাহিত হল, তার ছেলের বাবা এতক্ষণ অন্য কোথাও ছিল, তাকে এই কাহিনী বলল। লোকটার বেরসিক উত্তর ,’বাহ!’

 

আজকে মুহাম্মদ জাফর ইকবাল স্যারের ‘ছোটদের জন্যে লেখা’ পড়ে, অনেকদিন আগে লেখা আমার এই অনুভূতিগুলো প্রকাশ করার সাহস পেলাম। আজকে যখন আমার ছোট ভাই আমাকে ফোন করে বলে, দিদি আমি হ্যারি পটার এন্ড ফিলসোফার্স স্টোন পড়ে শেষ করেছি, আমি খুব গর্বিত হই। যদিও আমার আম্মু তেমন কিছু বলে না, ভাবসাব এরকম যে ,’এটা আর এমন কি! খুব স্বাভাবিক ব্যাপার!’