ক্যাটেগরিঃ রাজনীতি

গণতন্ত্রের আঁতুড়ঘরে জন্ম আওয়ামী লীগের, যারা সূচনা লগ্ন থেকেই আন্দোলন করেছে মানুষের অধিকার আদায়ে। এতদঅঞ্চলে মানুষের স্বাধীকার আন্দোলন, ভাষার আন্দোলন, বাক স্বাধীনতার আন্দোলন, অর্থনৈতিক মুক্তি আন্দোলন সহ সকল গণতান্ত্রিক আন্দোলনে তাদের সংগ্রাম, আত্মত্যাগ এ জাতির ইতিহাসে চির স্মরনীয় হয়ে থাকবে। ৫২’এর ভাষা আন্দোলন, ৫৪ এর যুক্ত ফ্রন্টের নির্বাচন, অসহযোগ আন্দোলন আর ৭০ এর নির্বাচন। এদেশের স্বাধীনতা আন্দোলন তাদের নেতৃত্বেই হয়েছে। অনেক রক্ত, আত্মত্যাগ সম্ভ্রমের বলী দিয়ে ১৯৭১ সালে এদেশের মানুষের স্বাধীনতা মিলেছে এতে আওয়ামী লীগেরই মুল অবদান। আন্দোলন, সংগ্রাম আর দাবী আদায়ে তাদের জুড়ি মেলা ভার। দূরদর্শী চিন্তাধারা ক্যারিশম্যাটিক নেতৃত্ব তাদের করেছিল অজেয়।

কিন্তু স্বাধীন দেশে ক্ষমতায় আরোহন করে তারা ভুলে গেল তাদের গৌরবময় অতীত, জনসাধারনের আশা-আকাঙ্খা আর বিগত সময়ে বলা তাদের বক্তব্য ও লেখনী। স্বাধীন-গণতান্ত্রিক দেশে তারা সমালোচনা, ভিন্নমত সহ্য করতে পারেনি। তাইতো ১৯৭১ এ কাঁধে কাধ মিলিয়ে যুদ্ধ করা বামপন্থীরা যখন সরকারের বিভিন্ন অগনতান্ত্রিক পদক্ষেপ, দুর্নীতি রাহাজানির বিরুদ্ধাচারণ করলো সরকার বীরবিক্রমে নৃশংসভাবে তাদের উপর ঝাঁপিয়ে পড়লো যার ফলে প্রায় ৩০ হাজার মুক্তিযোদ্ধাকে হত্যা / গুম করা হলো। সারাদেশে এক অরাজক পরিস্থিতি তৈরী করলো গুটি কতক তল্পিবাহক ছাড়া সকল মত প্রকাশের মাধ্যম বন্ধ করে দিলো । এমনকি মানুষের কন্ঠ স্তব্দ করার জন্য একদলীয় ”বাকশাল” গঠন করলো। দুর্ভিক্ষ সারাদেশে ছড়িয়ে পড়লো। মানুষের পেটে ভাত নেই, পরনে কাপড় নেই, কথা বলার স্বাধীনতা নেই, লেখার স্বাধীনতা নেই, চলছে ব্যাংক লুট, হত্যা, সন্ত্রাস ! সে এক বিভিষীকাময় পরিবেশ ! বাংলাদেশ স্বাধীন হবার দু’তিন বছরের মাথায় একি অবস্থা দেশের ! এ কি স্বাধীনতা, এ কি মুক্তি, এ কি গণতান্ত্রিক দেশ, এ কি মুক্তিযোদ্ধাদের আত্মত্যাগের ফসল, এ কি লক্ষ লক্ষ নারীর সম্ভ্রমের মূল্য ? আওয়ামী লীগ সব ভুলে গেছে তারা কী করেছিল আর কী বলেছিল ১৯৭১ এর আগে আর ১৯৭১ পরবর্তী কি করছিল। এ দমবন্ধ পরিবেশ থেতে মুক্তির জন্য কিছু লোক বেছে নিয়েছিল নিষ্ঠুর জঘন্যতম পন্থা যার পরিণতি ৭৫ এর নৃশংস হত্যাযজ্ঞ যা অগ্রহনযোগ্য ও অসমর্থিত।

দীর্ঘদিন তারা ক্ষমতার বাইরে এর মাঝে আমাদের শাসন করলো সামরিক শাসকেরা, এরপর ১৯৯০ তে হল গনতন্ত্রের উত্তরনের যাত্রা ১৯৯১ নির্বাচনের মাধ্যমে শুরু হলো গনতন্ত্রের লেংড়ানো পদযাত্রা, কারন দুটি বৃহত জোটের একটি ক্ষমতায় যার নেতৃত্বে বিএনপি অপর জোট ক্ষমতার বাইরে যার নেতৃত্বে আওয়ামী লীগ। শুরু হলো আওয়ামী লীগের ক্ষমতায় যাওয়ার আন্দোলন মানূষের অধিকার আদায়ের নামে। এরপর ক্ষমতার পালাবদল ১৯৯৬ তে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায়। এবার আবার শুরু ক্ষমতার রশি টানাটানি আর জনগনের ভোগান্তি। আবার পালাবদল ২০০১ সালে বিএনপি জোট ক্ষমতায়। কোন হেন কাজ নাই যে তারা করে নাই। চুরি চামারী, খুন ডাকাতি, জঙ্গিবাদী সবই করেছে। পাশাপাশি চললো আওয়ামী লীগের ক্ষমতা দখলের লড়াই। কিম্ভুত ধরনের তত্বাবধায়ক সরকারের পর মুক্তিযুদ্ধে নেতৃত্ব দানকারী দলটি আবার ক্ষমতায়। এবার আওয়ামী লীগ তাদের অতীতের সকল সময়ের চেয়ে বেশী বেপরোয়া, গত আমলের বিএনপির সকল অপরাধকে ছাড়িয়ে যাওয়ার তীব্র জিঘাংসা। স্বভাবতই সফল। নতুন বোতলে পুরাতন মদের সাথে একটুখানি তেতো আর তাতেই ডিজিটাল। পরমত অসহিষ্ণুতায় বিএনপির চেয়ে আওয়ামী লীগ এক কাঠি বাড়া। ধংস আর নৃশংসতায় চ্যাম্পিয়ন। আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় গেলে তাদের অতীত গৌরবময় ইতিহাস ভুলে যায়। ভুলে যায় মানুষের অধিকার আদায়ে আত্মত্যাগের কথা। সেজন্য মনে হয় এদেশের রাজনীতিতে মাঠে, মঞ্চে-ময়দানে আওয়ামী লীগই সেরা। তারা বিরোধী দল হিসাবে আন্দোলনকারী হিসাবেই উপযুক্ত ও সফল কিন্তু দেশের শাসক হিসাবে নয়।