ক্যাটেগরিঃ প্রবাস কথন

আচ্ছা আমাদের দেশের অর্থনীতিতে প্রবাসীদের পাঠানো রেমিটেন্সের প্রভাব কতোটুকু তা জানেন?
.
যার উপর ভিত্তি করে বাংলাদেশ বাংক সবার উপর মাতব্বরি করে, মাস শেষে বিলিয়ন বিলিয়ন ডলার রিসার্ভ দেখায়। মন্ত্রী-মিনিষ্টার’গণ বুক ফুলিয়ে বলেন আমরা পাকিস্তানের অর্থনীতিকে টপকে গেছি, আমাদের অর্থনীতি এখন ওদের চেয়েও ভালো। কিন্তু কিভাবে? কাদের উপর নির্ভর করে দেশের অর্থনীতি নিয়ে এত লাফালাফি? নিজের বাপের সম্পত্তি বিক্রি করে? এই জন্যে প্রবাসীদের পাঠানো রেমিটেন্সের প্রভাব কতোটুকু খুঁজে দেখেছেন? এইসবের কোনো হিসাব রাখেন?

.

আফসুস এইসব নিয়ে কেউ মাথা ঘামায় না! ভালো কিছু হলে ঐটা নিয়ে সবাই লাফালাফি করে, কিন্তু কি করে হইলো বা কারা করলো এইসব নিয়ে কেউ কথা বলে না, কেউ কিছু লিখেও না। সোসিয়াল সেলিব্রেটি’গণ দেশের অভ্যন্তরীণ বিষয় নিয়ে লিখে নিজেদের লাইক কামাতে তত্পর, এইসব নিয়ে লিখার মত সময় উনাদের নেই।

.

গত কাল অনেক বড় একটা ঘটনা ঘটে গেলো। ছুটিতে দেশে যাওয়া কিছু প্রবাসী ভাইদের লাগেজ চুরি হয়ে যায় বিমানবন্দর থেকে। এই নিয়ে বিমানবন্দরের ভিতরে অনেক হট্টগোল হয়। পরিশ্রমী ভাই গুলো লাঞ্চিত হন বিদেশ থেকে কাজ করে নিজ দেশে পা রাখতেই।  ঘটনার ভিডিও হয়ত অনেকেই ইতিমধ্যে দেখেছেন। অবশ্য এই ঘটনা নতুন নয়, এর আগেও অনেক বার হয়েছে।

.

একবার ভেবে দেখুন তো, কতো কষ্টে তারা গায়ের রক্ত পানি করে খেয়ে না খেয়ে বছরের পর বছর অক্লান্ত পরিশ্রমের পর উপার্জিত টাকায় লাকেজ গুলো ভরেছে, অবশ্যই কোনো অসৎ উপায়ে নয়। আর দেশে পৌছা মাত্রই এই তাদের প্রতিদান? শুধুই ধিক্কার আর তীব্র ঘৃণা এইসব ঘটনার জন্য। পরদেশে খেটে খাওয়া মানুষগুলোর সাথে গত কালকে ঘটে যাওয়া ঘটনা’টা সত্যি গোটা বাংলাদেশের জন্য লজ্জাজনক।

.

জানিনা এইসব নিন্দনীয় বিষয়ের সমাপ্তি কখনো হবে কি না! তবুও সংশ্লিষ্ট কর্তিপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ যে অন্তত নিজেদের গায়ের চামড়ার সম্মানটুকু রাখুন। একবার নিজেদের প্রশ্ন করুন এই পরিশ্রমী মানুষগুলোর সাথে এইসব কি ঠিক হচ্ছে?

.

কতো  কষ্ট অপমান  লাঞ্চনা বঞ্চনা সহ্য করে এই খেটে খাওয়া মানুষগুলো দূর পর দেশে পড়ে থেকে অবিরত কাজ করে যাচ্ছে সুখ নামক মরিচিকার আশায়। এই সুখ অবশ্যই নিজের জন্য নয়! আপন পরিবার পরিজনের জন্য, দেশের জন্য।

.
.

—— কাওছার, ৩১-আগস্ট ২০১৫