ক্যাটেগরিঃ রাজনীতি

 

বেশ কিছুদিন যাবত অত্তন্ত মনোযোগের সহিত যামাত-শিবিরকে নিয়ে লেখা প্রতিটি মুল্যবান টপিকস পড়তেছিলাম । স্বাধীনতার পরের প্রজন্ম হিসেবে ক্ষুদ্র অভিজ্ঞতার আলোকে বলতে চাই বা প্রশ্ন জাগে – কেন – কেন – কেন ?

১। মেধাবি ছাত্ররা কেন আজকে হিজবুত তাহারি বা জামাত শিবিরের সাথে মিশে আত্মত্যাগ করতে প্রস্তুত ?
২। পুলিশ কেন আজকে জামাত-শিবিরকে দেখে ভয়ে সরীসৃপের মত পালিয়ে বেড়াই ?
৩। নির্বাচনী ইশ্তেহার বাস্তবায়নের চেয়েও অধিক গুরুত্ব দিয়ে ক্ষমতাশিন দলের সরকার কিসের ভয়ে ভিত হয়ে যামাত-শিবিরকে রুখে দাঁড়ানোর জন্য উঠে পরে লেগেছেন ?

স্বাধীনতার পরে বি,এন,পি বা আওয়ামীলীগ এই দুটি বৃহৎ রাজনৈতিক দলের কাছ থেকে পরমত সহিষ্ণুতা, ন্যায়পরায়ণতা এবং আদর্শিক রাজনৈতিক দর্শনের প্রচণ্ড অভাবের কারনেই শুধু তরুন প্রজন্ম আজ ঠুনকো জামাত শিবিরের আদর্শে উদবুদ্ধ হয়েছে । আমি আমার বুকে হাত রেখে নির্ভয়ে বলতে পারি যে, বৃহৎ দুই দলের ভিতরে আদর্শ তথা মানবতা ও গণতন্ত্রের নুন্নতম চর্চার লেশ মাত্র ও নেই । কিছু ঠক, কালোবাজারি ব্যাবশ্যিক পুঁজিবাদী, কালো টাকা ও পেশি শক্তির বলে বলিয়ান হয়ে বৃহৎ দুটি দলের অভ্যন্তরে প্রবেশের কারনে স্কুল, কলেজ ও ইউনিভার্সিটির মেধাবী ছাত্ররা তাদেরকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে জামাত-শিবির বা হিজবুত তাহারির মত গোত্রের সাথে নিজেদেরকে মিলিয়ে ফেলেছে ।

দেখতে দেখতে ৪০ টি বছর অতিবাহিত । কোথাই নিয়ে যাচ্ছি আমাদের এই তাজা কচি তরুণদেরকে ? প্রধান দুটি দলের কোন প্রকার নৈতিক অধিকার নেই এই যামাত-শিবিরকে নিশিদ্ধ ঘোষণা করার । এই যামাত-শিবিরের শিওরে বসে হাত পাখা দিয়ে বাতাশ করার মত পরিবেশ মনে হয় প্রতিটি সচেতন নাগরিকের দৃষ্টি গোচর হয়েছে কোন এক সময় । সন্মানের সাথে নিরপেক্ষ সচেতন নাগরিকের কাছে বিনীতভাবে যামাত-শিবিরের আজকের দেয়া হরতালের ব্যাপারে মন্তব্য চাইব । ৭১- র ঘাতক দালাল বা রাজাকারদের এই দলকে নিষিদ্ধ ও করতে পারব না, আবার অন্য দিকে তাদেরকে মিছিল- মিটিং ও করতে দিব না (সরকার) । কিন্তু তাদের দেয়া হরতাল ও ঠেকাতে পারব না । তাহলে সমীকরণে আমরা কি দেখতে পাই । যুগে যুগে এহেন আচরনে ক্ষুব্ধ ও ক্ষিপ্ত হয়ে যখন কোন দিশেহারা জাতিগোষ্ঠী পরিত্রানের পথ খুঁজতে থাকেন এবং সেই পথেই নিজেকে সমাপ্ত করার জন্য যখন অঙ্গিকারবদ্ধ হন তখনই এই ধরণের জাতিগোষ্ঠীকে জঙ্গি বা মৌলবাদী উপাধি দিয়ে থাকে শাসক শ্রেণী ।

উনবিংশ শতাব্দির প্রথম থেকে ষাটের দশক অবধী মেধাভিত্তিক ছাত্র রাজনীতির প্রচলন ছিল । কিন্তু বিংশ শতাব্দিতে এসে মেধাবী ছাত্ররা, পেশি শক্তির বলে বলিয়ান ছাত্রদের অশুভ করাল থাবার গ্রাশ হতে নিজেদেরকে বাঁচিয়ে কোনমতে একটুকরো সনদের কাগজ হাতে নিয়ে শিক্ষালয় ত্যাগ করে ঘরে ফিরে । অশুভ পেশি শক্তি আর অস্ত্রের মহড়াই ধীরে ধীরে বিশ্ববিদ্যালয় হয়ে উঠে কারবালার রণক্ষেত্রে । কোন এক জেলা শহরের বর্তমান ছাত্র রাজনীতির দুজন দায়িত্তপ্রাপ্ত নেতাকে (সভাপতি ছাত্রলীগ ও সভাপতি ছাত্রদল) জিজ্ঞাসা করেছিলাম “ এই জেলাই স্কুল, কলেজ ও মাদ্রাসা মিলে কতজন ছাত্র অধ্যায়ন করছে, বিশেষকরে পি’এস’সি, জে’এস’সি, এস’এস’সি ও দাখিল পরীক্ষার্থীদের থেকে ফরম ফিল-আপ বাবদ কত টাকা নেয়া হয়েছে এবং গরিব মেধাবী ছাত্রদের আর্থিক সহযোগিতায় ও সবার জন্য শিক্ষা বাস্তবায়নে তাদের ভুমিকা কি ছিল । তারা প্রতুত্তরে বলেছিলেন এই সব বাজে ফালতু প্রসঙ্গ কখনই না-কি দরকার হয়নি এবং হবেও না আগামিতে । উপরন্ত তারা আমাকে তাদের দায়িত্ব সম্পর্কে সচেতন করে বললেন, স্কুল, কলেজ ও মাদ্রাশার (ভবন) উন্নয়নে যে টাকার বাজেট এসেছে সেই অর্থ সঠিকভাবে ব্যাবহার হচ্ছে কি-না এবং ঠিকাদারি কাজের তদারকি করাই তাদের গুরু দায়িত্ব । ঢের বলেছেন, অবশ্য অস্বীকার করার যো আমার নেই । আমরা কখনই শাসকশ্রেণীদেরকে এই সব ব্যাপারে তৎপর হতে দেখিনাই ।

উপসংহারে বলি এই শাসকশ্রেণী কিন্তু এখানেই ক্ষান্ত নয়, তারা বিশ্বরাজনীতির চালিকা শক্তির উৎস বলে পরিচিত সেই অ্যামেরিকানদের দারে দ্বারস্থ হয়ে এই সব জঙ্গিদের উচ্ছেদের জন্য ভিক্ষা প্রাথনা করেন । শুরু হয় শোষণের নতুন রুপ । হয়ত আগামিতে এই রুপ পরিবর্তিত হয়ে অরুপ রুপে আসিন হবে ।