ক্যাটেগরিঃ রাজনীতি

গণতন্ত্রের সেবা করতে গিয়ে তৈরি হয়েছে বড় বড় রাজনৈতিক দল ও রাজনৈতিক ব্যাক্তি বিশেষের । এশিয়া মহাদেশে বিশেষ করে আমাদের এই সোনার বাংলাদেশে যারা আজ চরমভাবে প্রতিষ্ঠিত, যারা কি-না নির্বাচনের নমিনেশন পেপার জমা দেওয়ার জন্য হেলিকপ্টার ব্যবহার করে থাকেন, যে দেশের প্রধানমন্ত্রী ও রাষ্ট্রপতি সামান্য সর্দি-জ্বরে পশ্চিমা দেশের প্রচলিত চিকিৎসা সেবা গ্রহণ করে থাকেন, সেই দেশের কর্ণধার হিসেবে সরকার প্রধান ও মন্ত্রিরা যখন গণতন্ত্রের কথা বলেন তখন সত্যই বাঘের মাথায় মাংসের ডালির নিরাপত্তার মত মরার আগেই মরে যাই ।

৬৯ এর অভ্যুত্থানে, ৭১র স্বাধীনতা, ৭২ থেকে ৭৪-র শাসন আমল দেখার সৌভাগ্য আমার হয় নাই । কারন আমি ছিলাম অনুজ । তবে ৮০র দশকের প্রথমাংশের দিকে আমার যতদূর আবছা আবছা মনে পড়ে শাহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রাহমান স্কুল কলেজ মাদ্রাসা সহ সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের নিয়ে খাল খনন কর্মসূচী-র মাধ্যমে ব্যাপকভাবে আলোকিত হয়েছিলেন এবং তার হাত দিয়েই কৃষিতে বিপ্লব ঘটানো সম্ভব হয়েছিল । আশির দশক থেকে অদ্যাবধি (২০১১) পর্যন্ত যত সরকার দেশের শাসনকাজ পরিচালনা করেছেন তা মোটামুটিভাবে আমি প্রত্যক্ষ করে আসতেছি। মজলুম জননেতা মরহুম মৌলানা ভাশানী, স্যার শাহীদ সোহরাওয়ার্দি, স্যার শাহীদ সলিমুল্লাহ, এ, কে, এম ফযলুল হক আরও অনেক ব্যক্তিত্বের কথা আমরা ইতিহাসের পাতা থেকে জেনেছি । সত্যি তাদের রাজনৈতিক শিষ্টাচার, গবেষণা, দূরদর্শিতা ও মানবতার কাহিনী শুনে আমরা গৌরববোধ করি যে, উনারা এ দেশেরই মানুষ ছিলেন এবং দেশের মানুষের জন্যই নিজেদেরকে বিলীন করে দিয়ে গেছেন । তারা এখন শুধুই ইতিহাস ।

আমি বিশেষ শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করছি বঙ্গবন্ধু শেখ মজিবুর রহমানকে । এই লেখনীতে যদি বঙ্গবন্ধু শেখ মজিবর রহমানের আত্মত্যাগের কথা না লিখি তাহলে হইত আমার এই লিখাটি একেবারেই অর্থহীন হয়ে যাবে । যার বলিষ্ঠ নেতৃত্তের কারনেই আমরা এই সার্বভৌমত্ব উপভোগ করছি । কিন্তু অভাগা লিপ্সিত জাতিরা তাকে এই ভূস্বর্গ থেকে নিঃশেষ করে দিল চীরতরে । যার বোঝা জাতী আজও বহন করে যাচ্ছে যুগান্তর যুগান্তরে । তবে একদলীয় বা বাকশালীও পদ্ধতির প্রচলন করতে গিয়ে তিনি যথেষ্ট সমালোচনাই সমালোচিতও হন । সদ্য স্বাধীনতা প্রাপ্ত ধ্বংস স্তূপের এই মাতৃভূমির পরিচালনার দায়িত্ব নিয়ে যথেষ্ট হিমসিম ক্ষেতে হয় এই ত্যাগী নেতাকে । দেশজুড়ে হাহাকার, অভাব-অনটন, দুর্ভিক্ষ, রোগ-মহামারিতে তৎকালীন আওয়ামীলীগ সরকার দিশেহারা প্রায় । জনগনের ন্যায্য দাবি আদায়ের জন্য বলিষ্ঠ নেতৃত্বে সারা বিশ্বে অদ্বিতীয় ছিলেন এই কিংবদন্তি নেতা । উদারপন্থী রাজনীতিতে বিশ্বাসী ছিলেন আমাদের এই বিশাল নেতা । শুধুমাত্র উদারতার কারনেই খুব কাছের মানুষ সুযোগের সদ্ব্যবহার করে রাতারাতি কোটিপতি বনে যান । বর্তমান দেশ বরেণ্য বুদ্ধিজীবীগণ যারা তদানিন্তন শেখ মজিবর রহমান-এর সম-সাময়িক রাজনীতি করতেন তারা খুব সহজেই বর্তমান আওয়ামীলীগ সরকারের গঠন, কার্যপ্রণালী ও শাসন ব্যবস্থাকে ইতিহাসের মাৎস্যন্যায় যুগের সাথে তুলনা করেছেন । ভুলে গেলে চলবে না যে, একটি রাজনৈতিক দল হিসেবে আওয়ামীলীগ সময়ের প্রয়োজনে রাষ্ট্র চিন্তায় মগ্ন বিজ্ঞ ও বিশেষজ্ঞদের নিয়ে মানবধিকার ও গনতন্ত্র রক্ষার জন্য অঙ্গীকারবদ্ধ হয়ে আবর্তিত হয় ।

বর্তমানে বাংলাদেশে যতগুলো রাজনৈতিক দল বা প্রতিষ্ঠান আছে তার মধ্যে বাংলাদেশ আওয়ামীলীগ একমাত্র ঐতিহ্যবাহী সংগঠন । কিন্তু বর্তমানে এ দলের ধারাবাহিক ঐতিহ্য বলতে দুর্নীতি, দুঃশাসন আর মিথ্যাচারে জর্জরিত অগ্নি মরুভুমির কাঁটা হীন বৃক্ষের ন্যায় দণ্ডায়মান । পৈশাচিকতা, রক্তক্ষুধা, যৌন-জৌলুষলিপ্ত মুখের বিষ লালার মত সংক্রামক ব্যাধি দারা আক্রান্ত আজকের এই ঐতিহ্যবাহী দল বাংলাদেশ আওয়ামীলীগ । কবি গুরু ঠাকুর ব্রিটিশদের বলতেন বিষ লালা আছে ওদের মুখে । আমি যেন তারই প্রতিচ্ছবি দেখতে পাচ্ছি এদের ভিতর । বলিতে আপন দুঃখ পরনিন্দা হয় – কথাটি নারী জাগরণের উজ্জ্বল নক্ষত্র বেগম রোকেয়া’র । বড়ই পরিতাপ হয় এ দলে কি একটিমাত্র সত্যিকারের দেশপ্রেমিক নিবেদিত মানুষ ও নাই যিনি শোষণহীন, আগাছা বা পরগাছা মুক্ত পরিচ্ছন্ন দল উপহার দিতে পারে ? যেটা ঘটে গেছে তা অতীত কিন্তু যা আগামীতে আসতেছে তা ভবিষ্যৎ আর যা ঘটিতেছে তা-তো সবার সম্মুখেই পরিলক্ষিত । এখন বৃষ্টি হচ্ছে তাই সবাই বৃষ্টির কথাই বলছেন । এখনই সময় অত্যন্ত বুদ্ধিমত্তার সাথে সিদ্ধান্ত মোতাবেক সামনে যাবার । আগামি দিনে কিন্তু ভয়াভহ রাজনৈতিক সুনামির দৃশ্যপটের কু-সম্ভাবনা কারোই কাম্য নয় । শালিস মানি কিন্তু তালগাছ আমার – এই হীন মানসিকতা বর্জন করে ভোগে নয় ত্যাগেই প্রকৃত শান্তি মতবাদকে মাথাই নিয়ে জয় বাংলা শ্লোগানকে প্রতিষ্ঠিত করতে হবে ।