ক্যাটেগরিঃ রাজনীতি

ঘটনা: আসলে জয়নাল আবেদিন কে নিয়া যে সব কথা বা আলোচনা উপরে করা হয়েছে তা অত্যন্ত দুঃখ জনক। এখানে খুব দূর থেকে ব্যাপারটিকে নিরপেক্ষভাবে উপলব্ধি করতে গেলে যা দাঁড়ায় তা হল, কি ঘটনার প্রেক্ষিতে এই পরিস্থিতির অবতারণা সেটি হবে আলোচনার বিষয়। আমরা সবাই টিভি চ্যানেল দেখেছি। প্রথমে জয়নাল আবেদিন সহ বেশ কয়েক জন মিলে একটি মিছিল নিয়ে গান গাইতে গাইতে সংসদ এলাকাই প্রবেশ করে। গানের একটা বাক্য অবশ্য কিছুটা আপত্তিকর ছিল। সৌভাগ্য ক্রমে সেই সময় আমি ঘটনাস্থল থেকে কোয়াটার কিমি দূরে ছিলাম। কিন্তু সাংসদ এলাকা বা তার আশপাশে রিক্সা ও সিটি করপোরেশনের আবর্জনার গাড়ি ছাড়া কোন যানবাহন ছিলনা। হটাত করে পুলিশ বাহিনীর একটি দল মিছিলে বাধা দেয়। সেই জাগাতে পুলিশ এবং জয়নাল আবেদিনের মাঝে বেশ বাক-বিতণ্ডা হয়। পুলিশ বাহিনী মিছিলকে সামনে না আসার জন্য শারীরিকভাবে বাধা দেয়। গাড়িতে ঢিল ছোঁড়ার মত কোন ঘটনা হয় নাই। পুলিশ জয়নাল আবেদিনের জামা ধরে টানাটানি করার সময় জয়নাল আবেদিন সাহেব ও তার জামা ছাড়ানোর চেষ্টার একটা পর্যায়ে পুলিশ কর্মকর্তা ছিটকে পড়ে যান এবং জয়নাল আবেদিনের উপর চড়াও হন । শৃংখলা বাহিনী হিসাবে পুলিশ কর্মকর্তার আচরণ ছিল অত্যন্ত উদ্যত । চড় বা থাপ্পড় মারার কথা বাদই দিলাম। আসেন আমরা সবাই এই ঘটনার প্রেক্ষিতে মন্তব্য করি।

মন্তব্য: জয়নাল আবেদিন যদি বদরাগি হন, তিনি যদি অভদ্র হন, তার জন্য পুলিশ দিয়ে এভাবে জনসম্মুখে সংসদ এলাকাই লাঠি দিয়ে তাড়া করবার ও শারীরিক নির্যাতন করার মত দুঃসাহস যদি আমরা সুশৃংখল বাহিনীকে দিয়ে থাকি তাহলে আগামী দিনে এর চেয়ে আরও অমানবিক বর্বরতার পথে এ দেশ তথা নিজেদেরকে ইচ্ছাপূর্বক আরেকটি ১/১১ এর দিকে নিয়ে যাচ্ছি না কি । এখানে জনাব সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরি-র কথা উদাহরণ হিসেবে বলা যায় । সালাউদ্দিন কাদের ধোঁয়া তুলসি পাতা না হলেও তিনি সত্য ও স্পষ্ট কথা বলার চেষ্টা করতেন। বাংলাদেশ আওয়ামীলীগ ক্ষমতাই আসার পর সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরির উপর বর্তমান সরকার তেলে-বেগুনে ক্ষিপ্ত হয়ে তথাকথিত সেই যুদ্ধাপরাধীর মামলা দিয়ে তাকে যে শারিরীক নির্যাতন করা হচ্ছে তা সত্যই অগনতান্ত্রিক । অপরাধী হলে তাকে আইন অনুযায়ি শাস্তি দেওযা উচিত ছিল । যদি সরকারের কার্যকলাপ নিয়ে বিরোধী দলগুলোকে যুক্তি ভিত্তিক সমালোচনা করার অধিকার টুকুও না দেওযা হয়, তাহলে এদেশের শাসন ব্যবস্থাকে এক দলিও বা বাকশালী পদ্ধতির শাসন ব্যবস্থা ছাড়া আর কি বলতে পারি আমরা । সরকার ও বিরোধী দলের স্বার্থকে প্রতিষ্ঠিত করার জন্য সরকার তার ক্ষমতার যথাযথ প্রয়োগ দেখান এবং বিরোধীদলও তার সমর্থকদের নিয়ে পথে পথে বিক্ষোভ সমাবেশের মাধ্যমে সরকারি শক্তির জবাব দেন । শুরু হয় নৈরাজ্য ও বিশৃংখলা। দোষ কার । বিচার করবেন আপনারা ।