ক্যাটেগরিঃ রাজনীতি

পরিশ্রান্ত রাজপথের একজন সাহসী পথিক হিসেবে আমার সংগ্রামী সুভেচ্ছা রইল। প্রায় দীর্ঘ দিন পর আপনার সাথে যোগাযোগের মাধ্যম হিসেবে এই ওয়েব সাইটের সন্ধান পেয়েছি । বর্তমান উত্তাল রাজনীতির কণ্টক আবৃত পথের একজন ক্লান্ত সিপাহী সৈনিকের ভুমিকাই নিজেকে জলাঞ্জলি দিয়ে রাজনীতির এই প্রান্তে এসে কিছু লেখার সাংঘাতিক দুঃসাহস করেছি । অল্প কথায় বলতে গেলে অনেকের বোধগম্য নাও হতে পারে। বিএনপি-র রাজনীতিতে একটি প্রবাদ আছে, বগুড়ার মাটি বি,এন,পি-র ঘাঁটি। এর মুল কারন হল শহীদ প্রেসিডেন্ট রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রাহমানের জন্মভুমি এই জেলাতেই । তাছাড়া খুব সহজেই এদেশের মাটি ও মানুষকে তিনি অত্যন্ত আপন করে নিয়েছিলেন।

স্বাধীনতার পর বাংলাদেশে এই প্রথম কোন রাজনৈতিক দলের আগামীর কর্ণধার হিসেবে তারেক রহমানই কেবল শতভাগ সাফল্লের সাথে দল গোছানোর কাজে তৃনমূল পর্যায়ে রাজনীতিতে বৈপ্লবিক পরিবর্তন ঘটান। যার ফলস্রুতিতে বর্তমান ক্ষমতাসীন আওয়ামীলীগ-এর চক্ষুশূল হয়ে উঠেন খুব অল্প সময়ে । রাজনৈতিক আধিপত্য ও জনসমর্থনের বাঁধ ভাঙ্গা জোয়ার দেখে হত-বিহব্বল হয়ে পড়ে আওয়ামী নেতৃত্ব। শুধু এই জনসমর্থনের ভয়ে এবং হিংশাতে হিংস্র হয়ে আগামী দিনের দেশ কর্ণধার জনাব তারেক রহমানকে মামলা- হামলা , শারীরিক নির্যাতন সহ গৃহছাড়ার মত হিংস্র থাবা বসিয়ে লণ্ড-ভণ্ড করে দেয় আগামীর রাজনৈতিক জীবন । ভেঙ্গে পড়ে দলের আভ্যন্তরীণ চেইন অফ কমান্ড । বি,এন,পি-র রাজনীতিতে যারা পিছনের ৩নং সারির কর্মী ছিলেন তারা নেতৃত্ব শূন্যতার সুযুগকে কাজে লাগিয়ে রাতা-রাতি সামনের সারিতে আসিন হন । এখন পর্যন্ত দলের অভ্যন্তরে ৩নং সারির নেতৃত্বের কাছে দল জিম্মি হয়ে আছে । তৃণমূল থেকে কেন্দ্র পর্যন্ত এই চেয়ার বাণিজ্য এখনও বিরাজমান ।

বগুড়া জেলার একজন স্থায়ি বাসিন্দা এবং বিএনপি-র রাজনীতিতে বিশ্বাসী ব্যাক্তি । আমি আম-জনতার সারির একজন সাধারন সমর্থক হিসেবে বগুড়ার রাজনীতির প্রচলিত অধ্যায় নিয়ে সংক্ষিপ্ত আলোচনা করার চেষ্টা করছি । সারা দেশের মধ্য এই জেলার রাজনীতি অনেকেই অনুসরন করেন । মোটামুটিভাবে উত্তরবঙ্গের রাজনীতির নিতি নির্ধারণ কেন্দ্র হিসাবে বগুড়ার স্থান শীর্ষে তা কম-বেশি সবারই জানা আছে । দীর্ঘদিন পর বগুড়া জেলা যুব দলের পুন্নাঙ্গ কমিটি গঠনের সিদ্ধান্ত আসে কেন্দ্র থেকে । সভাই সম্মিলিত সিদ্ধান্ত হয় যে, এবার ভোটের মাধ্যমে নেতা নির্বাচন করা হবে । দলীও সংবিধান অনুযায়ী ভোটের বাবস্থা করা হয় । কিন্ত এবারও বিধি বাম । ভোট হয়ে গেল, নেতা নির্বাচন করা হল, কিন্তু কি -যে এক অদৃশ্য কারনে কমিটি করা হয়নি তা আজ অবধি সবারই অজানা । এই ঘটনাগুলো একের পর এক ধারাবাহিকভাবে ঘটে চলছে । আসলে কোনটা লিখব তা আমি নিজেই পরিস্কারভাবে বুঝতে পারছিনা । কারন এইরকম হাজারো ঘটনার জলন্ত দাহ ছড়ীয়ে পুড়ে মারছে সাধারন কর্মী-সমর্থকদের মানসিকতাকে । শুধু বগুড়াতে নয় সারা দেশে এই আবহাওয়া প্রবাহিত । আদৌ কি এর কোন পরিত্রানের পথ আছে ? না-কি সু-বচন নির্বাসনে । মেঘ যতই ঘনতর ও গভির হয়ে আসুক না কেন, একসময়ই মেঘ কেটে যাবে এবং সূর্য হেঁসে উঠবেই উঠবে । “শ্রাবণের মেঘ, শ্রাবণেই শেষ” । এই বানি টুকু বক্ষে ধারণ করে আমরাও সহস্রবার আশাবাদি হতে চাই, এবং আপনার (তারেক ভাই) হাতে হাত রেখে আগামির সোনালি সূর্যকে জয় চাই ।

আগামীতে বি,এন,পি-র আভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে এক ভয়ঙ্কর সুনামীর অবতারনা হতে যাচ্ছে । বিশেষজ্ঞরা মনে করেন (তারেক রহমানের) আপনার অনুপস্থিতি কারন হিসেবে প্রথম ও প্রধান । আমার এই ক্ষুদ্র জিবনের যতটুকু ভাল অর্জন তার সব টুকু জিয়া পরিবারের দায়িত্বশীল সন্তান হিসাবে আপনার চরণতলে সমর্পণ করে অণুরোধ করে বলতে চাই, Please come soon & take a charge to Develop our country & People. যে সব পিছনের সারির আত্ম-ভাগ্য উন্নয়নে ব্যাস্ত নেতারা দলের বিভিন্ন অংশে যে যেখানে যেভাবে অবৈধ দখলদারির মত চেয়ার আঁকড়ে ধরে আছেন প্রথমে তাদের জন সমর্থন পরিষ্কারভাবে নির্ণয় করবেন । দেখবেন শুধুমাত্র এই একটি সিদ্ধান্ত বাস্থবায়ন করলেই বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বি,এন,পি) মানুষ রূপী হায়ানার করাল থাবা হতে পরিত্রান পাবে । আগামী সোনালী সূর্যের পরশে বি, এন, পি-র রাজনীতির মাঠ হবে আগাছা মুক্ত । এই প্রত্যাশায় প্রত্যাশী হয়ে শেষ বারের মত বলতে চাই আপনার পিতার জন্মস্থান হিসেবে এই বগুড়া জেলা থেকেই শুরু হোক জাতীর চির কাঙ্খিত সেই সোনালী সূর্যের কার্যক্রম এবং ঘোষণা করা হোক বগুড়া মডেল সিটি । জয় অনিবার্য । বিদ্রোহী নজরুলের বিদ্রোহী কবিতাকে কণ্ঠের মাধ্যমে বলতে ইচ্ছে করে –

বন্ধু গো আর সইতে পারিনা বড় বিষ জ্বালা এই বুকে
দেখিয়া শুনিয়া ক্ষেপিয়া গিয়াছি তাই যাহা আসে কই মুখে
রক্ত ঝরাতে পারিনা তো একা তাই লিখে যাই বুকের রক্তে লেখা
প্রাত্থনা করো যারা কেড়ে কেটে খাই ষোল কটি মুখের গ্রাস
যেন লেখা হয় আমার রক্তে তাদের সর্বনাশ

***
খান সোবহানী
বগুড়া