ক্যাটেগরিঃ অর্থনীতি-বাণিজ্য

 

দ্রব্যমূল্য অস্থিতিশীল হয়ে পড়ছে মুদ্রাস্ফীতির জন্য। শুধু মুদ্রাস্ফীতির সাথে বিনিময় হারের উর্দ্ধমুখী প্রবনতা, ব্যাংক হারের তারল্য সংকট এবং ঋনের উচ্চ সুদের কারনে মুদ্রাস্ফীতির লাগামহীন হয়ে পড়ছে। ডলারের দামের বিপরীতে টাকার মান অব্যাহতভাবে কমে যাচ্ছে। এই অস্থিতিশীলতার জন্য দায়ী মুদ্রাস্ফীতির। বিশ্বব্যাপী মুদ্রাস্ফীতির হার যেখানে ২ থেকে ৩ শতাংশের মত সেখানে আমাদের দেশের মুদ্রাস্ফীতির হার ১১ শতাংশ (সরকারীমতে ৭.৫)। মুদ্রাস্ফীতির কারনেই আমানতের ও ঋণ উভয় ক্ষেত্রেই সুদের হার বাড়ছে (১৮ থেকে ১৯ শতাংশে) অথাৎ ডলারের দাম বাড়ছে, বাড়ছে সোনার দাম এবং সুদের হারও উর্ধ্বমুখী। সবমিলিয়ে দ্রব্যমূল্যের একটি অস্থিতিশীল পরিস্থিতির দিকে ধাবিত হচ্ছে।

বর্তমানে ব্যাংকগুলোর ঋণ প্রবৃদ্ধি অনেক বেশি। যেখানে আমাদের দেশে ১৮ থেকে ১৯ শতাংশই যথেষ্ট, সেখানে বর্তমানে আমাদের ঋণ প্রবৃদ্ধির হার ২৮ শতাংশ। এ হার বেশি হলে দেশে মুদ্রাস্ফীতি বাড়ে। ব্যাংকগুলো বর্তমান সময়ে অনুৎপাদনশীল খাতে ঋণ দিচ্ছে। যে খাতের জন্য ঋণ দেওয়া হচ্ছে সে খাতে এই ঋণ ব্যবহার করা হচ্ছে না। এগুলে নিয়ন্ত্রন করে উৎপাদনমূলক কার্যক্রমে ঋণ দেওয়ার ব্যাপারে বাংলাদেশ ব্যাংককে যথাযথ তদারকি করা প্রয়োজন। সরকার বানিজ্যিক ব্যাংকগুলো থেকে প্রচুর পরিমানে ঋণ নিচ্ছে যাতে করে মূল্যস্ফীতি তরান্বিত হচ্ছে।

মুদ্রাস্ফীতির নিয়ন্ত্রনে বাংলাদেশ ব্যাংকে সংকোচনমূলক মুদ্রানীতি গ্রহন করেছে ঠিকই বাস্তবে দেখা যাচ্ছে মুদ্রা সরবরাহ অনেক বেশি। সাম্প্রতিক সময়ে মুদ্রাস্ফীতির হার বাড়ার পেছনে বিনিময় হারের প্রভাবও কাজ করেছে। বিনিময় হার বেড়ে গেলে ডলারের বিপরীতে টাকার মান কমে যায়। টাকার বিপরীতে আমদানি মূল্য বেড়ে যায়। এতে করে দেশের ভিতরে মুদ্রাস্ফীতির হয়। আমাদের রপ্তানির পরিমান বাড়লেও আমদানি পরিমান তুলনামূলকভাবে অনেক বেশি হওয়ায় ডলারের ওপর অতিরিক্ত চাপ পড়ছে। এছাড়াও ওভার ইনভয়েসের মাধ্যমে ডলার বিদেশে পাঠিয়ে দেওয়া হয় বলে অভিযোগ শোনা যায়। বিদেশে জ্বালানির দাম বৃদ্ধি এবং বিপুল পরিমান খাদ্যদ্রব্য আমদানির কারনে আমদানি ব্যয় বেড়ে যাচ্ছে। মূলধনী দ্রব্য, শিল্পের কাঁচামাল এবং বিভিন্ন জিনিসপত্রের দাম বাড়ার এটি একটি কারন হয়ে দাঁড়িয়েছে। এ অবস্থায় আমদানির পরিমান কমাতে হবে এবং রপ্তানি খাতকে বহুমুখীকরণ করতে হবে। শুধু তৈরি পোশাক খাতের ওপর নির্ভর করে থাকলে চলবে না এছাড়াও হালকা যন্ত্রপাতিসহ বিভিন্নধরনের পণ্যের রপ্তানিতে জোড় দিতে হবে। পাশাপাশি বাড়াতে হবে রেমিট্যান্স আয়। বিভিন্ন সমস্যা ও খরচ বেশি পড়ে যাওয়ার কারণে এখন অনেকের পক্ষেই বিদেশে চাকরি নিয়ে যাওয়া সম্ভব হচ্ছে না। এ বিষয়গুলো মাথায় রেখে দক্ষ জনশক্তি পাঠানের ব্যাপারে উদ্যোগ নিতে হবে।

অর্থনীতি মোকাবেলায় আগামী অর্থবছরে কয়েকটি বিয়য়ের প্রতি নজর দেওয়া দরকার। প্রথমত,সরকার ও বাংলাদেশ ব্যাংকের সংকোচন মূলক রাজস্বনীতি ও আর্থিক নীতির প্রয়োজন। বিনিময় স্থিতিশীল রাখতে হলে আমদানির পরিমান কমিয়ে আনতে হবে। অপ্রয়োজনীয় দ্রব্যাদির পরিমান কমিয়ে আনার ব্যাপারে সচেষ্ট হতে হবে সরকারকে। বাড়াতে হবে রপ্তানি ও রেমিট্যান্স আয়ের পরিমান। তাছাড়া মুদ্রাস্ফীতি কমিয়ে আনতে অভ্যন্তরীন খাত থেকে সরকারের ঋণের পরিমান হ্রাস করার পাশাপাশি বেসরকারি খাতে ঋণ প্রবাহ নিয়ন্ত্রন করার ব্যাপারে সরকার ও বাংলাদেশ ব্যাংকের নীতিমালার সামঞ্জস্য থাকতে হবে। পাশাপাশি নিয়ন্ত্রন ব্যবস্থা অনুযায়ী বৈদেশিক ঋণের অর্ধ ছাড় করাতে সরকারকে যথাযোগ্য ভূমিকা পালন করতে হবে। রেমিট্যান্স আয় বাড়াতে কূটনৈতিক প্রচেষ্টাও চালাতে হবে। সর্বোপরি বানিজ্য মুদ্রা এবং রাজস্বনীতিতে একটা সমন্বয় থাকা প্রয়োজন।

দ্রব্যের আমদানির কারনে ডলারের ব্যয়ের পথ সম্প্রসারিত হয়ে পড়ায় বিনিময় হারের নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে। অব্যাহতভাবে পড়ে যাচ্ছে টাকার মান। মুদ্রাস্ফীতি বাড়ার এটি একটি কারন হয়ে দাঁড়িয়েছে। এ অবস্থায় আমদানির পরিমান কমাতে হবে এবং রপ্তানি খাতকে বহুমুখীকরণ করতে হবে। শুধু তৈরি পোশাক খাতের ওপর নির্ভর করে থাকলে চলবে না এছাড়াও হালকা যন্ত্রপাতিসহ বিভিন্নধরনের পণ্যের রপ্তানিতে জোড় দিতে হবে। পাশাপাশি বাড়াতে হবে রেমিট্যান্স আয়। বিভিন্ন সমস্যা ও খরচ বেশি পড়ে যাওয়ার কারণে এখন অনেকের পক্ষেই বিদেশে চাকরি নিয়ে যাওয়া সম্ভব হচ্ছে না। এ বিষয়গুলো মাথায় রেখে দক্ষ জনশক্তি পাঠানের ব্যাপারে উদ্যোগ নিতে হবে।

অর্থনীতি মোকাবেলায় আগামী অর্থবছরে কয়েকটি বিয়য়ের প্রতি নজর দেওয়া দরকার। প্রথমত,সরকার ও বাংলাদেশ ব্যাংকের সংকোচন মূলক রাজস্বনীতি ও আর্থিক নীতির প্রয়োজন। বিনিময় হার স্থিতিশীল রাখা। বিনিময় স্থিতিশীল রাখতে হলে আমদানির পরিমান কমিয়ে আনতে হবে। অপ্রয়োজনীয় দ্রব্যাদির পরিমান কমিয়ে আনার ব্যাপারে সচেষ্ট হতে হবে সরকারকে। বাড়াতে হবে রপ্তানি ও রেমিট্যান্স আয়ের পরিমান। তাছাড়া মুদ্রাস্ফীতি কমিয়ে আনতে অভ্যন্তরীন খাত থেকে সরকারের ঋণের পরিমান হ্রাস করার পাশাপাশি বেসরকারি খাতে ঋণ প্রবাহ নিয়নেএন করার ব্যাপারে সরকার ও বাংলাদেশ ব্যাংকের নীতিমালার সামঞ্জস্য থাকতে হবে। পাশাপাশি লক্ষমাত্রা অনুযায়ী বৈদেশিক ঋণের অর্ধ ছাড় করাতে সরকারকে যথাযোগ্য ভূমিকা পালন করতে হবে। রেমিট্যান্স আয় বাড়াতে কূটনৈতিক প্রচেষ্টাও চালাতে হবে। সর্বোপরি বানিজ্য মুদ্রা এবং রাজস্বনীতিতে একটা সমন্বয় থাকা প্রয়োজন।

খোরশেদ আলম
অর্থনীতি বিভাগ
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়