ক্যাটেগরিঃ ব্লগালোচনা

 

এবার একুশে বই মেলায় যেতে পারিনি পরীক্ষার কারণে।তবে বন্ধুদের কল্যাণে কয়েকটি বই পেয়েছিলাম।যা আমার দুঃখটাকে কিছুটা হলেও হালকা করেছিলো।দুধের স্বাদ ঘোলে মেটানোর মতো। ব্লগিং জগতে পা রাখার ইচ্ছা হয়েছিল অনেক আগেই কিন্তু সময়ের এভাবে সেটা হয়ে ওঠেনি।তবে বিভিন্ন সাইটে ঢুঁ মারতাম মাঝেমাঝে।সিদ্ধান্ত নেওয়ার প্রস্তুতিও বলা যেতে পারে। সৃজনশীলতা ও মানের বিচারে অন্যান্য ব্লগসাইট গুলো থেকে বিডিনিউজ২৪ডটকম হার মেনেছে সবাইকে।তাই সময় করে সদস্য হয়ে গেলাম।

যেদিন বিডিনিউজ২৪ডটকম এর ব্লগিং জগতে পা রাখলাম সেদিনই আমার নজরে আসল “নগর নাব্য” ব্লগ সংকলনটি।আবারো সময়ের অজুহাতে কেনা হয়নি বইটি।তবে এবারো হাত বাড়ালো এক বন্ধু যে কষ্ট করে যোগাড় করে দিলো এক কপি।তাই আমার ওই বন্ধুকে এই লেখনীর মাধ্যমে জানাই অসংখ্য ধন্যবাদ।প্রচ্ছদটি নিয়ে যার যেমন মতামত থাকুক না কেন আমি আমার দেখা সেরা প্রচ্ছদ বলতে সংকোচ বোধ করবো না। আর একটি প্রকাশনাকে পাঠক মহলের কাছে পরিচয়ের প্রথম সোপান হল প্রচ্ছদ।যা দেখে পাঠক ভেতরের সৌন্দর্যের কথা নিমেষেই বুঝে ফেলে। তাই ধন্যবাদ দিতে কার্পণ্য করবো না আইরিন সুলতানা আপুকে।

পুরো সংকলনটি পড়ে যে কেউই একটা ব্যাপারে একমত হবেন যে প্রতিটি লেখায় ছিল অসম্ভব রকমের সাবলীলতা ও উৎকর্ষতার দারুন সমন্বয়।সংকলনটির সবচেয়ে ভালো লাগার দিকটি ছিলো পাঠকদের নির্বাচিত মন্তব্যগুলো প্রকাশ করা।এটা সংযোজন করে পাঠকদের মতামতকে সঠিক মুল্যায়ন করা হয়েছে বলে মনে করি।লেখক এবং পাঠকের দৃষ্টিভঙ্গিকে সমন্বয় করার অপূর্ব এক প্রয়াস। আর লেখকের ব্লগ লিংক,ক্যাটাগরী ও লেখা প্রকাশের তারিখ উল্লেখ করে লেখকের বাকি লেখাগুলোও পড়ার সুযোগ করে দেওয়া হয়েছে পাঠক মহলকে।

অবাক হয়েছি এতগুলো লেখার মাঝখান থেকে সেরা লেখাগুলো বেছে নেওয়ার কঠিন দ্বায়িত্বে যারা ছিলেন তাদের মেধা ও প্রজ্ঞা দেখে।তাই ধন্যবাদ জানাই ম,সাহিদ,নুরুন্নাহার শিরীন,নাজনীন খলিল,মামুন ম আজিজ,অন্যমাত্রা,মোত্তালিব দরাবারী,নাহুয়াল মিথ(প্রাথমিক বাছাই কমিটি),নাজনীন খলিল,মামুন ম আজিজ,মোত্তালিব দরবারি,নাহুয়াল মিথ (চূড়ান্ত বাছাই কমিটি) সহ সকলকে। সম্পাদকদ্বয় নুরুন্নাহার শিরীন ও নাজনীন খলিল আপুকে আলাদা করে কিছুই বলার নেই কারণ তাদের সফলতার বাস্তব চিত্র হলো “নগর নাব্য।”

সবগুলো লেখাই ভালো লেগেছে।আলাদা করে কোন লেখার কথা না বলে আমি আমার ভালোলাগা কয়েকটি লেখার কথাই বলছি এখানে। বেশ ভালো লেগেছে নাহুয়াল মিথের ইতিহাস রিভিউ “ডেভিড ফ্রস্ট প্রোগ্রাম ইন বাংলাদেশ: বঙ্গবন্ধুর সাক্ষাৎকার।” সাথে সাথে “মায়ের কাছেই শুধু মাত্র ঋণী থাকতে চাই। ” লেখক-রিতা রায় মিঠু।”এক কিশোরীর নষ্ট হওয়া এবং আমাদের সমাজ ব্যাবস্থা। “লেখক-ম.সাহিদ।”কবন্ধের মম শির বচন!” লেখক-আইরিন সুলতানা।”ওয়েবস্ফিয়ারে নির্যাতনের শিকার হলে কী করবেন?” লেখক- কৌশিক আহমেদ।”আমাদের নতুন প্রজন্ম দেশে ফিরতে ভয় পায়?”/লেখক -তৌহিদ উল্লাহ শাকিল ইত্যাদি লেখাগুলো সত্যি সময়োপযোগী।

মুল্যের কথা তুলে কখনো কোন লেখনীকে খাটো করিনি,আজও করবো না।লেখকদের মস্তিস্ক নিংড়ানো প্রতিটি শব্দের মুল্য অপরিমেয়।

নতুন সংকলনের ব্যাপারে আমার দুটি মতামত আছেঃ
১।লেখা নির্বাচন প্রক্রিয়া আরো একধাপ বাড়িয়ে তিন ধাপে করা যেতে পারে।
২। লেখকদের পরিচিতিটা ক্যাপশন করে একটু হাইলাইটেড করা যেতে পারে।

আবারো অসংখ্য ধন্যবাদ “নগর নাব্য” যাদের হাত ধরে জন্ম লাভ করেছে।শুভকামনা…।