ক্যাটেগরিঃ স্বাধিকার চেতনা

 

হে মহান জাতির পিতা,

এ চিঠি তোমাকে লিখছি তোমার রেখে যাওয়া প্রতিটি জাগ্রত বাঙ্গালীর হয়ে।তোমায় হারিয়েছি সেই ১৯৭৫ সালের আগস্ট মাসের কলঙ্কময় ১৫ তারিখে। আজ এক এক করে কেটে গেলো ৩৭ টি বছর।এতদিনে কি পেয়েছি জানো?অন্ধকারে ঢাকা পড়ে থাকার ২১ বছর পর ১৯৯৬ সালে প্রথম বারের মতো অশ্রু,আবেগ আর ভালোবাসা দিয়ে জাতীয়ভাবে শোক দিবস পালনের অধিকার।আর একই দিনে বিশেষ আর একজনের চতুর্থ বারের মতো জন্ম নেওয়ার অপূর্ব আয়োজন। ব্যাস শুরু হয়ে গেলো দিনটি নিয়ে নির্লজ্জের মতো দলাদলি,গালাগালি।তোমার নাম ভাঙ্গিয়ে রাজনীতির রেষারেষি।শোক দিবস পালনের নামে মারামারি কাটাকাটি।ইতিহাস নিয়ে কতো নিত্য নতুন কাহিনী। আরোও কতো ঘটনা আর রটনা। ফলাফল স্বরূপ আমরা নতুন প্রজন্ম পেলাম বিকৃত এক ইতিহাস। বাহবা এ জাতিকে।দোষ কি তাদের বলো?সবাই তো তোমারই রেখে যাওয়া সন্তান!!!তুমি পিতা তাই ক্ষমা করো তোমার অকৃতজ্ঞ সন্তানদেরকে।

এই কিছুদিন হলো তোমার হত্যার বিচার করে জাতি কলঙ্ক মুক্তো হল। মনে কি যে আহ্লাদ হয়েছিলো তা বোঝাতে পারবো না।কিন্তু তা ছিলো গুটি কয়েক মানুষের মাঝেই সীমাবদ্ধ।কারণ জাতির আপামর জনগোষ্ঠী আজ বিকৃত ইতিহাসের বলী। চারিদিকে তাদেরই জয়ধ্বনি।নির্ভয়ে রটনা করছে তোমার কুৎসা বাণী। অবাক হলেও সত্য কি জানো?একদিন যারা বাংলাদেশ নামের একটি দেশের স্বপ্নকে মুছে ফেলার ষড়যন্ত্রে লিপ্ত ছিলো তাদেরকেও এ দেশ রাষ্ট্র ক্ষমতায় বসায়।তাদের গাড়িতেই শোভা পায় বাংলাদেশের জাতীয় পতাকা। এই তোমার সোনার বাংলা,ত্রিশ লক্ষ শহীদের রক্তে অর্জিত স্বাধীন বাংলা!!!বাহবা এ জাতিকে। দোষ কী তাদের বলো? সবাই তো তোমারই রেখে যাওয়া সন্তান!!!তুমি পিতা তাই ক্ষমা করো তোমার অকৃতজ্ঞ সন্তানদেরকে।

তোমার স্বপ্নের সোনার বাংলায় আজ পোড় খাওয়া সোনালী রঙ লেগেছে। পোড় খাওয়া এ জাতির ভবিষ্যৎ কি জানিনা।তবু আমরা যে তোমারই সন্তান।তাই এখনও বাঁকা মেরুদণ্ড নিয়ে সোজা হয়ে দাঁড়ানোর স্বপ্ন দেখি বারংবার।স্বপ্ন দেখি সত্যকারের সোনার বাংলার।

অবশেষে স্বর্গলোকের পানে চেয়ে ক্ষমা চেয়ে নিচ্ছি সকল অপরাধের জন্য। ক্ষমা করো পিতা। ক্ষমা করো……। স্বর্গলোকে তুমি সুখে থেকো।

ইতি
তোমার বাংলার এক অবোধ সন্তান।