ক্যাটেগরিঃ স্বাধিকার চেতনা

স্বাধীন বাংলাদেশে সঠিক ইতিহাস সংরক্ষনের সময় এসেছে আজ।নতুন প্রজন্মের দাবি একটাই আমরা সঠিক ইতিহাস জানতে চাই,আমাদের বঞ্চিত করো না।আমরা জানতে চাই সব শহীদদের বীরত্বের কথা,শুনতে চাই ইতিহাসের প্রকৃত বীজয় গাঁথা।নতুন প্রজন্মের এই দাবির এক প্রতিচ্ছবি হয়ে উঠেছে সেগুনবাগিচাস্থ “মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘর” এবং বড় পরিসরে আগারগাঁও-এ নির্মানাধীন পূর্ণাঙ্গ “মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘর”

গত মঙ্গলবার,২৭ নভেম্বর ২০১২, রাত ৯:৪২ আমাদের শ্রদ্ধেয় ব্লগার মোহাম্মদ ইলিয়াছ চৌধুরী ভাই নিচের পোষ্টের মাধ্যমে সকলকে আহবান জানিয়েছিলেন “ব্লগার উদ্যোগ-বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম.ব্লগ” নামে ১টি বা ২টি ১০,০০০/- টাকা মূল্যমানের প্রতীকী ইট কিনে যেন মুক্তিযুদ্ধ যাদুঘর নির্মানের মহাযাত্রার সঙ্গী আমরা হই।

সবার সহযোগিতায় নির্মিত হবে নতুন মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘর- আপনিও এগিয়ে আসুন।
স্মারক ইট: ১লা ডিসেম্বরে মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘরে যাচ্ছে ব্লগাররা, আপনিও আসুন

ব্লগাররা তার আহবানকে স্বাগত জানিয়ে এগিয়ে এসেছিলেন যার যার সামর্থ অনুযায়ী এবং “ব্লগার উদ্যোগ-বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম.ব্লগ” নামে ২টি ইট এর সমপরিমাণ টাকা সংগৃহীত হয় সবার সহযোগিতায়(সর্বমোট সংগ্রহ ২১,১০০ টাকা!)।সকাল এগারটায় মাঝে সেগুনবাগিচা মুক্তিযুদ্ধ যাদুঘর প্রাঙ্গণে উপস্থিত হন ব্লগার মোহাম্মদ ইলিয়াছ চৌধুরী,আইরিন সুলতানা,নুরুন্নাহার শিরিন,মজিবর এবং সুলতান মির্জা।সকলের উপস্থিতিতে সকাল ১১টা ৩০ মিনিটে অনুদানটি তুলে দেওয়া হয় ট্রাষ্টি মফিদুল ইসলাম এর হাতে।মুক্তিযুদ্ধ যাদুঘর এর পক্ষ থেকে “মুক্তিযুদ্ধের প্রত্যক্ষদর্শী-ভাষ্য” নামক একটি বই উপহার দেওয়া হয় ব্লগারদের।(বইটি আমাকে দেওয়ার ধন্যবাদ সকল ব্লগারকে)।এর আগে ব্লগ-বিডিনিউজ২৪ডটকম এর ব্লগাররা ২টি নিবন্ধন ফর্ম পুরণ করেন।

নিবন্ধন ফর্ম পুরণ(ছবি-আইরিন সুলতানা)

ব্লগারদের এই যাত্রার একজন সঙ্গী হতে পেরে খুব ভালো লাগছে।মন থেকে ধন্যবাদ জানাই উদ্যোক্তা ব্লগার মোহাম্মদ ইলিয়াছ চৌধুরী ভাইকে যার আন্তরিক প্রচেষ্টার কল্যাণেই আমরা ব্লগাররা ২টি স্মারক ইট কিনতে সক্ষম হয়েছি।ধন্যবাদ আইরিন সুলতানা আপুকে যার আমন্ত্রণ আমি ফেলতে পারিনি।আমার প্রিয় ব্লগার শ্রদ্ধেয় নুরুন্নাহার শিরিন আপুকে উপস্থিত দেখে খুবই ভালো লেগেছিল।যাকে দেখে আমার তরুন মন বারবার বলে উঠেছিল চেয়ে দেখ তারুণ্য কাকে বলে।সত্যি অসুস্থ থাকা সত্বেও তিনি আমাদের সাথে কি উদ্যোমেই না ঘুরে বেড়ালেন সম্পুর্ণ যাদুঘরটি!শুনালেন যুদ্ধের কথা,ইতিহাস আর নিজের বিভিন্ন স্মৃতিমাখা দিনগুলির কথা। ব্লগার মজিবর ভাই এর কাছ থেকে মুক্তিযুদ্ধকালীন জেড-ফোর্স,এস-ফোর্স এবং কে-ফোর্স সম্পর্কে অনেক কিছু জানতে পেরেছি।ব্লগার সুলতান মির্জা ভাই জানালেন না জানা অনেক তথ্য।

যারা সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিয়েছিলেন তাদেরকে(নুরুন্নাহার শিরীন,কৌশিক আহমেদ,আইরিন সুলতানা,মোহাম্মদ ইলিয়াছ চৌধূরী,বিন্দুবিসর্গ,মোত্তালিব দরবারী,জিনিয়া,,সুলতান মির্জা,নীলকন্ঠ জয় ও মজিবর) অন্তরের অন্তরস্থল থেকে জানাই ধন্যবাদ।

শেষ করার আগে কবি বেলাল চৌধুরীর ভাষায় বলতে চাই-
“জয়বাংলা ছিল আছে একদিন চিরদিন দুর্জয় এক সাহসের নাম
জয়বাংলা ছিল আছে একদিন চিরদিন দুর্বার এক সংগ্রামের নাম…
জয়বাংলা অগণন নক্ষত্রের অক্ষরে লেখা নাম
জয়বাংলা আবহমান বাংলা ও বাঙালীর বিজয় অভিযানের নাম…।’

(বিঃদ্রঃ সম্পুর্ণ আয়োজনের ছবিসহ একটি পুর্নাঙ্গ পোষ্ট আইরিন সুলতানা আপুর কাছ থেকে আশা করছি।)