ক্যাটেগরিঃ মুক্তমঞ্চ

 

প্রিয় ব্লগার জিনিয়া আপুর “নারী কী শুধুই দেহ সর্বস্ব কোনও জীব? ” পোষ্টের উত্তরে এই লেখাটির অবতারনা।
নারী কী শুধুই দেহ সর্বস্ব কোনও জীব
আপুর লেখাটি এই ঘুণেধরা সমাজের প্রতি একটা চরম সত্য বারতা।পত্রিকার পাতা খুললেই প্রতিদিনই চোখে পড়ে দেশের এপ্রান্ত থেকে ওপ্রান্ত জুড়ে নারী নির্যাতন আর ধর্ষণের ভয়ংকর হাজারো চিত্র।দিনে দিনে আজ নারী বিদ্বেষ মহামারী রূপে ছড়িয়ে পড়েছে এদেশের মানুষের রন্ধ্রে রন্ধ্রে।নারী অবহেলিত চীরকাল প্রতিটি সমাজে,প্রতিটি দেশে।তবু নারী মহীয়সী আপন মহীমায়।আর তাই শ্রদ্ধা আর ভালোবাসা জানাই প্রতিটি নারীকে এই পোষ্টের মাধ্যমে।

(নির্যাতিত-অবহেলিত নারীদের জন্য উৎসর্গ করলাম নিচের কবিতাগুলো।সেকালের-একালের কবিদের লেখা কবিতাগুলোয় দেখুননা নারীরা কতখানি আপন মহীমায় দীপ্তমান।)

জাতীয় কবির “নারী” কবিতা দিয়ে শুরু করিঃ

নরককুন্ড বলিয়া কে তোমা’ করে নারী হেয়-জ্ঞান?
তারে বলো, আদি পাপ নারী নহে, সে যে নর-শয়তান।
অথবা পাপ যে-শয়তান যে-নর নহে নারী নহে,
ক্লীব সে, তাই সে নর ও নারীতে সমান মিশিয়া রহে।
এ-বিশ্বে যত ফুটিয়াছে ফুল, ফলিয়াছে যত ফল,
নারী দিল তাহে রূপ-রস-মধু-গন্ধ সুনির্মল।

রবী ঠাকুরের ভাষায়-

প্রবাসের দিন মোর পরিপূর্ণ করি দিলে, নারী,
মাধুর্যের সুধায়; কত সহজে করিলে আপনারি
দূরদেশী পথিকেরে; যেমন সহজে সন্ধ্যাকাশে
আমার অজানা তারা স্বর্গ হতে স্থির স্নিগ্ধ হাসে
আমারে করিল অভ্যর্থনা।

অথবা,

নারী তুমি মহীয়সী, তুমি অতুলনীয়
মানব জাতিকে জিইয়ে রাখতে তুমি
কর নিজ রক্ত বিসর্জন
মানব সন্তানকে কর দশ মাস গর্ভে ধারণ।

ভূমিষ্ঠ সন্তানকে
কর আপন বক্ষের দুগ্ধে পুষ্ট
কর অপার যত্ন, ভালবাসায় লালন।

মহীয়সী নারী তুমি
ত্যাগ ও ভালবাসায় মানব জাতিকে কর ধন্য।

পুরুষ তোমাকে বলাৎকার করে, করে ধর্ষণ,
করে তোমার দেহ-হৃদয়-মনকে চূর্ণ।

সে পাষণ্ড পুরুষকে ক’রে গর্ভে ধারণ,
মায়া-মমতায় ক’রে পুষ্ট
তুমি নিজেকে মনে কর ধন্য
মহীয়সী নারী, তুমি অনন্য!

পুরুষ সৃষ্টি করেছে ধর্ম, সংস্কার
করতে তোমার ব্যক্তিত্ব, মর্যাদা খর্ব,
তোমার স্বাধীনতা হরণ।
বানিয়েছে তোমাকে ক্রীতদাসী, যৌনদাসী।

এসিড ছুঁড়ে সে তোমাকে করে দগ্ধ-বিকৃত
উপড়ে ফেলে তোমার চোখ, কেটে ফেলে নাক-কান
নাশ করে তোমার জীবন, স্বপ্ন।

বর্বর নির্মম পুরুষে
ঢেলে দিয়ে হৃদয়, মন, সবটুকু ভালবাসা
তুমি নিজেকে মনে কর ধন্য।

নারী তোমার বদান্যতা অতুল্য
নারী তুমি মহীয়সী, তুমি অনন্য!(কবি-আলমগীর হুসেন )

পুঃনশ্চ,

নারী তুমি আল্লাহর
সেরা এক দান ,
তোমাতেই জুড়ে আছে
যত সম্মান ।
কারো তুমি মা বোন
কারো বউ মেয়ে ,
সকলেই খুশি থাকে
তোমাকে পেয়ে ।
সৃজিলেন প্রভু তাই
তোমার মাঝে ,
যতরূপ গুণ রস
ভাল যা আছে ।(কবি-ইয়াছিন আহমেদ)

এবং

‘ভেঙেছে আজ ঘরের আড়াল
খুলেছে আজ পায়ের বেড়ি
আঁধার ঘরের বন্ধ কারায়
থাকবে না আর নারী।
——————-
——————-
ভয় ভেঙেছে
চোখ খুলেছে
উঠছে জেগে নারী
জগৎ জুড়ে এবার তাদের
বাজবে জয়ভেরি।’ (কবি- জাহেদা খানম)

পরিশেষে,

সন্তানেরে গর্ভে তুমি করিয়াছ লালন,
আদর স্নেহে দিনে দিনে করিয়াছ পালন,
ভাঙ্গিয়াছে হৃদয়,ছিড়িয়াছে বন্ধন,
তবু কোথা পাও তুমি,এত হৃদস্পন্দন?
তুমি নারী,তুমি মা,
তাই বুঝি এত মহিমা?

যে তোমারে দিল ছুড়িয়া,
অশ্রু তোমার দেখিলনা ফিরিয়া,
তাহারে তুমি বুকে নিলে টানিয়া-
কত সহজে শত দুঃখ ভুলিয়া!
তুমি নারী,তুমি মা,
তাই বুঝি এত মহিমা?(কবি-নীলকন্ঠ জয়)

তাই আপুনি দুঃখ করো না।সুদিন একদিন আসবেই।মানুষ একদিন ঠিকই বুঝবে যে নারীকে অবজ্ঞা আর অবহেলা করে দাবিয়ে রাখার চেষ্টা করা হচ্ছে সে নারী যে আমাদেরি মা কিংবা ভগিনী কিংবা সহধর্মিণী। তারা যে স্রষ্টারই আপন হাতে গড়া এক অমুল্য সৃষ্টি।