ক্যাটেগরিঃ নাগরিক আলাপ

 

কি বিচিত্র এক দেশে বাস করি আমরা।চিহ্নিত খুনিরা বহাল তবিয়তে ঘুরে বেড়ায় আর যদু-মধুরা খুন হয় দিনে দুপুরে।বিশ্বজিতেরা ঘুরে বেড়ায় মৃত্যু হাতে নিয়ে।আসলে আমরা প্রত্যেকেই এক একজন বিশ্বজিত।আমরা আমজনতা আর পশু সম্প্রদায় এই দুইয়ের পার্থক্য শুধু চেহারায় আর গড়নে।

ছোটবেলায় একটা গল্প শুনেছিলাম,এক শিকারি একটা খরগোশ পেয়ে তাড়া করল।খরগোশ বেচারা এক ঝোপের আড়ালে লুকিয়ে চোখ দুটি বন্ধ করে মনে মনে ভাবল এইবার আমাকে আর কেউ দেখছেনা।আমিও দেখছিনা ওই বিভৎস শিকারীকে।আসুন আমরাও চোখ বন্ধ করি অথবা চোখে কাঠের চশমা লাগাই।

একটা কবিতা লিখেছিলাম অনেক আগে।কয়েক লাইন আজ খুব মনে পড়ছে।

আমরা আম-পাবলিক যেন এক একটা ফুটবল,
যে যেভাবে পারে কিক মারে একের পর এক,
কমলা লেবু মুখ বন্ধ করে সহ্য করে-
চামড়া ছাড়ানোর যন্ত্রনা,
এমন করেই কাটে জীবন আম-পাবলিকের।
কাঠের চশমা পরেছি তাই-
দেখেও যেন দেখিনা।।

আসলে তাদের কি দোষ বলুন?আমরাইতো একের পর এক পালাবদলের খেলা নিজেরাই তৈরী করে যাচ্ছি আমাদের উদার ভোট ব্যাংকের ডালা খুলে দিয়ে।কি আবেগ দিয়ে ভালোবেসে বুকে টেনে নিচ্ছি।অথচ ওই ভালোবাসামাখা বুকে যে ছুরি চালনা হবে এটাও জেনে।আসলে আমরা জেনেশুনে,বারেবারে বিষপান করে যাচ্ছি যুগের পর যুগ।এই বিষ মনে হয় মধুর চেয়েও মিষ্টি।

বিধাতাও বুঝি আমাদের নির্বুদ্ধিতা দেখে মুখ টিপে হাসছেন।মনে মনে বলছেন,” কি নির্বোধের দল পাঠাইলাম এদেশে।ওরে তোরা আর কতকাল নির্বিকার থাকবি?”

আমরা আম-ছাত্ররা লজ্জায় মুখ দেখাতে পারিনা মুরব্বি সমাজে।মুখের উপর কখন যে বলে ফেলে “এই তোমাদের লেখাপড়ার নমুনা?”

বাড়িতে মা-বাবা সর্বদা চিন্তায় থাকে তার আদরের সন্তানের জন্য।না জানি কখন কি হয়।এই কিছুদিন আগেও আমার মা দিনে দুইবার ফোন দিত।এখন কয়েকবার।কারন আমার মাও যে বিশ্বজিতের মায়ের মত একজন মা।আমাদের মায়েরাও জানে তাদের সন্তানেরাও যে এক একজন বিশ্বজিত।

কি সমাধান আছে তাও জানিনা।যেটুকু ভালোর কথা চিন্তা করি তা দমিয়ে দেয় ভীরু হৃদয়।তাই কাপুরুষের মত শুধু বিধাতার কাছে বারবার বলি,”এত কিছুর পরও তুমি কেন এত নির্বিকার?”

সেই জন্মের পর থেকেই দেখে আসছি।আর কতযে দেখতে হবে জানিনা।তাই সিদ্ধান্ত নিয়েছি কাঠের চশমা পরব।

(ছবিসুত্রঃফেসবুক)