ক্যাটেগরিঃ আর্ত মানবতা

গত ২৪ ডিসেম্বর ২০১২, সন্ধ্যা ৭:১৮ মিনিটে সকল ব্লগ-বিডিনিউজ২৪ডটকম এর ব্লগারদের নিম্নোক্ত পোষ্টের মাধ্যমে শীতার্ত গরীব মানুষের পাশে দাড়ানোর আহবান জানিয়েছিলাম এবং কয়েকজন সম্মনিত ব্লগারের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে এই উদ্যোগটি একটি সম্মিলিত উদ্যোগ হিসেবে বিবেচিত হয়।তাই সকলকে আন্তরিক ধন্যবাদ।সাথে সাথে পোষ্টটিকে টপ পোষ্ট হিসেবে বিবেচনার জন্য ব্লগপোষককেও জানাই ধন্যবাদ।

আসুন শীতার্তদের পাশে দাঁড়াইঃ এবার যাব পদ্মা পাড়ে (অবহেলিত,জনবিচ্ছিন্ন, সুবিধা বঞ্চিত গ্রাম রাজশাহী-ভারত সীমান্তবর্তী খিদিরপুর)

যার একটি আপডেট জরুরী ছিল। কিন্তু নানা ব্যাস্ততার কারণে আপডেটটি দেওয়া হয় নি বলে আন্তরিকভাবে দুঃখ প্রকাশ করছি।

এ পর্যন্ত “Ruins of Poverty” গ্রুপ থেকে মোট কালেকশন হয়েছে ১৪,০০০ এর কিছু বেশি টাকা এবং আশা করছি আগামী ১০ জানুয়ারির মাঝেই তা ২০,০০০ ছাড়িয়ে যাবে। যার সমগ্র অংশই “Ruins of Poverty” সদস্যরা (যারা প্রত্যেকেই বিশ্ববিদ্যালয় পড়ুয়া ছাত্র-ছাত্রী।সাথে কয়েকজন শিক্ষক-শিক্ষিকা ও মুরব্বী আমাদের এই কার্যক্রমের পাশে দাঁড়িয়েছেন)।সকলের সাহাযের পরিমাণ আগামী আপডেটে জানিয়ে দেওয়া হবে।

এছাড়া ব্লগ-বিডিনিউজ২৪ডটকম ব্লগ থেকে শ্রদ্ধেয় ব্লগার আইরিন সুলতানা আপু,নুরুন্নাহার শিরিন আপু তাদের সহযোগিতার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।আশা করি অন্যান্য ব্লগাররাও আমাদের এই কার্যক্রমে অংশ নিবেন।

কয়েকজনের প্রশ্ন ছিল কি পরিমাণ সাহায্য অথবা কি কি সাহায্য পাঠাতে পারবেন/কিভাবে অংশ নিবেন।
উত্তরঃ ১.যে কোন পরিমান টাকাই পাঠানো যাবে।হতে পারে সেটা ৫ টাকাও। তবে যে বিষয়টি লক্ষ্য রাখা জরুরী তা হল আপনার অনুদান থেকে যেন এক জন শীতার্ত মানুষ যেন শীতের একটি গরম কাপড় পান।
২.যদি কেউ নিজেই উদ্যোগী হয়ে এক বা একাধিক শীতের কাপড়/কম্বল পাঠাতে চান তবে সেটাও পাঠাতে পারেন সরাসরি যোগাযোগ করে(যে কোন নাম্বারে) /নিম্নোক্ত মাধ্যম গুলোর মাধ্যমে।
৩.যাদের পক্ষে কোন অর্থ দিয়ে সাহায্য করা সম্ভব নয়, তাদের কেউ যদি সম্ভব হয়, স্বশরীরে পদ্মাপাড়ে গিয়ে কার্যক্রমে অংশগ্রহণ করে তবে তা সবার জন্য উৎসাহজনক হবে।

সাহায্য পাঠানোর জন্য যোগাযোগ করুনঃ
০১৬৭০৮৫২৭৫৬(জয়),০১৭২৪৩৫২২৭৩(কামরুল),০১৬৭৭১৫০৩৯৭(আশিক),০১৯১৮৪০৮৭৭৫(মিজান)
ডাচ বাংলা ব্যাংক অ্যাকাউন্টঃ(Dutch Bangla Bank Limited)
202.105.301(Mizanur Rahman)
ইস্টার্ন ব্যাংক লিমিটেডঃ(Eastern Bank Limited)
28523200
এস।এ পরিবহন/সুন্দরবন কুরিয়ার সার্ভিস {জয়(০১৬৭০৮৫২৭৫৬)/মিজান(০১৯১৮৪০৮৭৭৫),উত্তরা শাখা,ঢাকা}
(সাহায্য পাঠিয়ে অবশ্যই একটা ম্যাসেজ দিবেন)

যারা স্বশরীরে উপস্থিত থাকতে চান তারা অবশ্যই ০১৬৭০৮৫২৭৫৬(জয়),এই নাম্বারে আগামী ১০ জানুয়ারীর মাঝে যোগাযোগ করুন।

আরও বিস্তারিতঃ
Ruins of Poverty
শীতবস্ত্র বিতরণ-২০১১
গ্রুপের কার্যক্রম(ফটো)
ইভেন্ট পেজ
গত কার্যক্রমের ভিডিও লিঙ্কসহ একটা নিবন্ধঃ

গত পোষ্টে সুন্দর একটি প্রশ্ন এসেছিল।যার উত্তর এই পোষ্টেই যুক্ত করছি।

শ্রদ্ধেয় ব্লগার আইরিন সুলতানা বলেছেন:লেখক, আপনাদের ফোরামের প্রস্তুতি কেমন তা জানালে ব্লগাররা আরো আগ্রহী হত। আপনাদের ফোরামের বর্তমান সংগ্রহ কেমন? আপনারা কতজন যাচেছন? কিভাবে যাচ্ছেন? খিদিরপুরে সরকারি সাহায্য ইতিমধ্যে আদৌ গেছে কিনা… ইত্যাদি বিষয়গুলো জানালে ব্লগারদের পরিস্থিতি সম্পর্কে ধারণাও জন্মাত।

উত্তরঃ
-আমাদের প্রস্তুতি মোটামুটি ভাবে সম্পন্ন। আমাদের মোট সংগ্রহের পরিমাণ ১৪,০০০ টাকার কিছু বেশি এবং সকলের প্রতিশ্রুতি ঠিক থাকলে আশা করছি সেটা ২০,০০০টাকা ছাড়িয়ে যাবে।বিস্তারিত তথ্য সম্বলিত একটি পোষ্ট ২/১ দিনের মাঝেই দিব/এই পোষ্টের কমেন্ট অংশে আপডেট জানাব।

-সবকিছু ঠিক থাকলে আমরা ১০জনের মত যাচ্ছি। সাথে সাথে ব্লগারদেরও কামনা করছি।

-আগামী ১১ তারিখের দুইটি মিটিং এ (খিলক্ষেত রাজউক কম্পলেক্স মার্কেট,বেলা ৩টা এবং রাত ৮টা) সিদ্ধান্ত হবে কিভাবে যাব। ব্লগারদের একান্ত অংশগ্রহণ কামনা করছি। গ্রুপের কিছু সদস্যের পরীক্ষা থাকার কারণে এবং ইস্তেমার কথা বিবেচনা করে ১২ জানুয়ারির পরিবর্তে ১৫ জানুয়ারি সকাল ১০টায় শীতবস্ত্র বিতরণ করা হবে।আমরা ১৪ জানুয়ারি রাতে রওনা হব। তবে সাহায্য পাঠানোর শেষ তারিখ ১০জানুয়ারি অপরিবর্তিত থাকবে। ১২ তারিখে শীত বস্ত্র ক্রয় করা হবে।এ ব্যাপারে ব্লগারদের অংশগ্রহণও কামনা করছি।

-খিদিরপুরে সরকারী সাহায্য পৌছে গেছে কিনা তা জানার জন্য আমি স্বশরীরে ৩০.১২.১২ইং তারিখে খিদিরপুরে গিয়েছিলাম। এ পর্যন্ত খিদিরপুর ও পার্শ্ববর্তী তিনটি গ্রামে(মনহরপুর ইউনিয়নের তথ্যমতে মোট পরিবার ২৫০০ বা কিছু বেশি।যাদের ৯৫ ভাগই দারিদ্রসীমার নিচে বাস করে) সাহায্য পৌছেছে বিজিবি ও প্রথম আলো বন্ধু সভার মাধ্যমে মোট ২৫০ জন মানুষ।তবে চর খিদিরপুরের(নতুন অংশ) মানুষের কাছে এখনো কোন সাহায্য পৌছায়নি। রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ম্যানেজমেন্ট বিভাগের দুইজন ছাত্র রুহুল আমিন ও রবিউল এবং গ্রামের মাঝি জিয়া ভাই ও বিজিবি সদস্য নাজিমুদ্দিন ভাইয়ের সহযোগিতায় একেবারেই হতদরিদ্র পরিবারগুলোর একটি তালিকা প্রস্তুত করেছি চরে ঘুরে ঘুরে।সারাদিনের ঘুরাঘুরিতে যেটুকু অনুভব করলাম তা সত্যি বেদনাদায়ক।তাই ওদের পাশে ছুটে যাওয়া আমাদের কর্তব্যও বটে।

চরের কয়েকটি ভিউ তুলে ধরলাম নিচেঃ



প্রতি বছর এভাবেই বিলিন হচ্ছে গ্রাম।নিঃস্ব হচ্ছে মানুষ।গত এক বছরে নদী গর্বে বিলিন হয়ে গেছে প্রায় ৫০০ ঘর-বাড়ি।আশ্রয় নিয়েছে নতুন চরে।নতুন ভাবে সংগ্রাম শুরু হয়েছে এই চরের মানুষের।

যেভাবে চর খিদিরপুর যেতে হয়ঃ
রাজশাহী শহর থেকে রিকশা/অটোরিকশা যোগে শ্যামপুর বালুঘাট(ট্রলারঘাট )=>ট্রলার যোগে (২/৩ ঘন্টা পর পর একটা করে ট্রলার পাওয়া যাবে।ভাড়া ২০টাকা।তবে আলাদা ভাড়া নিলে ৩০০টাকা )। =>১ ঘন্টার একটু বেশি সময় লাগবে খিদিরপুর বিজিবি(বিডিয়ার ক্যাম্প) ক্যাম্পে যেতে=>কিছুদুর পরেই দুটি চর(একটি নদীর মাঝে,অন্যটি নদীর তীর ঘেষে)।

ব্লগাররা অপরাপর ব্লগারদের এই কর্মসূচীতে অংশগ্রহণে আহবান জানান প্লিজ।