ক্যাটেগরিঃ পাঠাগার

 

২০১৩ থেকে একুশে গ্রন্থমেলায় রবীন্দ্রনাথের বই নিষিদ্ধ!!!!!!

শুধুমাত্র কবিগুরু নন সাথে সাথে নিষিদ্ধ পাঠক নন্দিত জনপ্রিয় সাহিত্যিক সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়,সমরেশ মজুমদাররাও!!!!!!!!(খবরটি কতটুত্য জানিনা। তবে কষ্টদায়ক। )
খবরটা পড়ে শুধু অবাকই হইনি হয়েছি আহত।বাংলা একাডেমী কি তাহলে পাঠকের রুচিকে গন্ডিবদ্ধ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন?আসলেই কি সম্ভব পাঠকের রুচিকে আটকে রাখা?এ কি মুর্খের মত সিদ্ধান্ত নয়?নাকি কয়েকদিন পর তারা জাতীয় সঙ্গীত রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের লেখা এই অর্থে সেটাও বাদ দেওয়ার চিন্তা করবেন?একুশের চেতনা মানে সকল বাংলা ভাষা ভাষী লেখক-পাঠকের মিলন মেলা বই আর কিছুই নয়।বাংলা সাহিত্যকে বিশ্বদরবারে প্রতিষ্ঠা করার জন্য রবীন্দ্র সাহিত্যের ভূমিকাকে কি তাহলে অস্বীকার করছেন বাংলা একাডেমী পরিচালকগণ?

বাংলা একাডেমীকে বলছি,যে সাহিত্যিকের অধিকাংশ লেখনীতে ফুটে উঠেছে বাংলাদেশের রূপ-রস-গন্ধ,সেই সাহিত্যিককেই কিনা নিষিদ্ধ করা হল বইমেলা থেকে!!!আপনারা কি সাহিত্যের মর্ম বোঝেন?নাকি দুকলমের শিক্ষা নিয়েই বড় হয়েছেন যেখানে নেই কোন মননশীলতা,নেই কোন রুচি বোধ। আসুন না সবাই মিলে পদ্মাপাড়ের কুঠিবাড়িটা,ভৈরব পাড়ের শ্বশুর বাড়িটাকেও নাহয় গুড়িয়ে দিই বুলড্রেজার দিয়ে।রবীন্দ্রনাথ চীরতরে নির্বাসিত হোক বাংলার মাটি থেকে!!!!!!
বাংলা একাডেমী এবার নতুন নীতিমালা করে একুশে বই মেলায় কোনো বিদেশি লেখকের বই বিক্রি না করার উদ্যোগ নিয়েছেন।এমনকি সেই বই যদি কোন বাংলাদেশী প্রকাশকও প্রকাশ করেন।এ কোন উদ্ভট উটের পিঠে চড়েছে বাংলা একাডেমী?

এ নীতিমালা ঘোষণার মধ্য দিয়ে বাংলা সাহিত্যের সেরা লেখকদের সাহিত্য সম্ভার থেকে বাংলাদেশি পাঠকদের বঞ্চিত করার উদ্যোগ নিয়েছে বাংলা একাডেমী।এবার প্রকাশিত অমর একুশে গ্রন্থমেলা ২০১৩-এর নীতিমালা ও নিয়মাবলির ৬.১ ধারায় বলা হয়, ‘অমর একুশে গ্রন্থমেলায় অংশগ্রহণকারী প্রকাশকরা কেবল বাংলাদেশে মুদ্রিত ও প্রকাশিত বাংলাদেশের লেখকদের মৌলিক/ অনূদিত/ সম্পাদিত/ সংকলিত বই বিক্রি করতে পারবেন।’ এই ধারা অনুযায়ী পশ্চিমবঙ্গের কোনো লেখকেরই বই একুশে গ্রন্থমেলায় বিক্রি হবে না। সেটি বাংলাদেশের কোনো প্রকাশক প্রকাশ করলেও না।

একুশে গ্রন্থমেলায় রবীন্দ্রনাথের বই নিষিদ্ধ!!!!!!

রবীঠাকুর আক্ষেপ করে তাই যথার্থই বলেছিলেনঃ

ষোল কোটি সন্তানেরে হে মুগ্ধ জননী / রেখেছ বাঙ্গালী করে মানুষ করনি !

বাংলা একাডেমীর আগামী সিদ্ধান্তগুলো হবে ঠিক এমন ধারণা করছি-
(?)আমাদের জন্মদাতা তথা পূর্বপুরুষ যারা যারা স্বাধীনতার আগে জন্ম নিয়েছেন অর্থাৎ বাংলাদেশী নাগরিক হিসেবে জন্মগ্রহণ করেননি(ক্ষমা করবেন),তারা যদি কেঊ সাহিত্যিক হয়ে থাকেন তবে তাদের বইও ঠাই পাবেনা অমর একুশে বই মেলায় !!
(?)যেসব বাঙালি অন্যদেশের নাগরিকত্ব গ্রহণ করছেন তাদের বইও একুশে গ্রন্থমেলায় নিষিদ্ধ হবে !!!
(?)বাংলাদেশের জন্মের আগে যেসব বাঙালি মরে বেঁচে গেছেন একে একে তাঁদেরকেও নিষিদ্ধ করা হবে ! কেননা তারা তো বাংলাদেশের জাতীয়তাই পান নি !!!!
(?)আজ কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের নোবেল পুরস্কার গ্রহনের শততমবার্ষিকী, আর এই অবিস্মরণীয় বছরটি যদি আপনার আমার কখনও আসে তবে নিশ্চিত থাকতে পারেন আমরাও নিষিদ্ধ হব সেই দিনে!!!!!

বিভিন্ন ফেসবুক স্টাটাস মাঝ থেকে সুকান্ত পার্থিব’দার একটি স্টাটাস শেয়ার করছি,

“বাংলাদেশ হোক তাহলে বাংলাস্তান,
আর, আমার সোনার বাঙলা হোক ‘পাক সার জামিন সাদ বাদ, তু নিশানে আ-নিশানে জামিন।’
আমরা কী এই এই বাংলাদেশ চেয়েছিলাম?
লক্ষ লক্ষ প্রাণের বিনিময়ে আজ স্বাধীনতার বিয়াল্লিশ বছর পর মুক্তিযুদ্ধের কথিত পক্ষের শক্তির অনন্য উপহার,
কবিগুরু বিশ্বকবি সার্বজনীন সাহিত্যিক রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের বই নিষিদ্ধ অমর একুশে বই মেলা-২০১৩ থেকে।
কবিগুরুর নোবেল পুরস্কার প্রাপ্তির শততমবার্ষিকীতে বাঙালির অবিস্মরনীয়, অভাবনীয়-নির্লজ্জ প্রাপ্তি!!!!
এ লজ্জা হীন্মন্যতা রাখবো কোথায়???”

সুতরাং বাংলা একাডেমীর এমন উদ্ভট সিদ্ধান্তের তীব্র নিন্দা জানাই।সাথে সাথে বলতে চাই পাঠকদের রুচিকে বাধা দেওয়ার কোন অধিকার আপনাদের নেই।