ক্যাটেগরিঃ স্বাধিকার চেতনা

মানবতা বিরোধী অপরাধে অভিযুক্ত কাদের মোল্লার বিরুদ্ধে দেওয়া ট্রাইব্যুনালের নমনীয় রায়ে ক্ষুব্ধ হয়ে রাজধানীর শাহবাগ এলাকায় অবস্থান নিয়েছেন শত শত প্রতিবাদী মানুষ। রায় প্রত্যাখ্যান করে যুদ্ধাপরাধীদের ফাঁসির শাস্তির দাবি করছেন তারা।

মঙ্গলবার সন্ধ্যায় ‘ফাঁসি চাই’ স্লোগান শেষে একটি মশাল মিছিলও বের করা হয়।

ব্লগার এক্টিভিস্ট ফোরাম, নাগরিক ঐক্যসহ বেশ কিছু সংগঠনের ব্যানারে মানুষ জড়ো হয়ে স্লোগান দিচ্ছে শাহবাগ মোড়ের এখানে সেখানে। টিএসসির বিভিন্ন সাংস্কৃতিক সংগঠনও অংশ নিয়েছে এ কর্মসূচিতে। ব্লগাররাও অংশ নেন এ কর্মসূচিতে।

জামায়াতে ইসলামীর নেতা আব্দুল কাদের মোল্লার ফাঁসির দাবিতে শাহবাগ মোড়ে অবস্থান নিয়েছে কয়েক হাজার তরুণ।

কয়েকটি সংগঠন বিকালে এই অবস্থান শুরু করলেও সন্ধ্যার পর তা বিশাল সমাবেশে রূপ নেয়।

জাসদ সভাপতি ও তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু, সিপিবি সভাপতি মুজাহিদুল ইসলাম সেলিমসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতা স্বতস্ফূর্ত এই সমাবেশে সংহতি জানিয়েছেন।

মঙ্গলবার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল আব্দুল কাদের মোল্লাকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেয়া হয়।

রায় ঘোষণার কয়েক ঘণ্টা পর বিকাল ৫টার দিকে কাদের মোল্লার ফাঁসি চেয়ে জাতীয় জাদুঘরের সামনে মানববন্ধন হয়।

এই মানববন্ধনের খবর ফেইসবুকসহ সামাজিক যোগাযোগের বিভিন্ন ওয়েবসাইটে ছড়িয়ে পড়লে বিভিন্ন এলাকা থেকে তরুণরা আসতে থাকলে উত্তাল হয়ে উঠে সমাবেশ।

ফাঁসির দাবিতে স্লোগানের পাশাপাশি গান, কবিতা, বক্তব্যে মুখর এখন উঠে শাহবাগ মোড়। বন্ধ রয়েছে শাহবাগ মোড় দিয়ে সব ধরনের যান চলাচল।

জমায়েত হওয়া তরুণরা কাদের মোল্লা ফাঁসির রায় না হওয়া পর্যন্ত ঘরে না ফেরার ঘোষণা দিয়েছে।

শাহবাগ অবরোধের উদ্যোক্তা ব্লগার অ্যান্ড অনলাইন এক্টিভিস্ট নেটওয়ার্ক সদস্য মাহমুদুল হক মুন্সি বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “আদালতের এ রায় আমরা মানি না। আমরা ততক্ষণ পর্যন্ত ঘরে ফিরব না, যতোক্ষন না কাদের মোল্লার ফাঁসির সাজা হবে।”

“এ রায়ের মাধ্যমে ৩০ লাখ শহীদ ও দুই লাখ মা-বোনের রক্তের সাথে বেঈমানি করা হয়েছে। কাদের মোল্লা হাজার হাজার মানুষ হত্যা করেছে সবাই জানে, এটা তো প্রমাণ হয়েছে। তাহলে তাকে লঘু দণ্ড দিয়ে বিচারের নামে প্রহসন কেন?”

প্রথমে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশে করার কথা থাকলেও সবার ইচ্ছায় রাস্তা অবরোধ করা হয়েছে বলে জানান তিনি।

অবরোধকারীদের আরেকজন ইমরান এইচ সরকার বলেন, “প্রয়োজনে আমরা শাহবাগে রাতভর অবরোধ করবো। কিন্তু কাদের মোল্লার ফাঁসির রায় নিয়ে ঘরে ফিরব।”

কাদের মোল্লার ফাঁসির দাবিতে সন্ধ্যার পর স্লোগান-৭১ বিশ্ববিদ্যালয়ে বিভিন্ন সংগঠন মশাল মিছিল বের করে। এ সকল মশাল মিছিল ক্যাম্পাসের বিভিন্ন এলাকা প্রদক্ষিণ করে শাহবাগে এসে যোগ হয়।

সিপিবির সাবেক সভাপতি মনজুরুল আহসান খান, গণফোরামের পঙ্কজ ভট্টাচার্য্য, ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক সিদ্দিকী নাজমুল আলম, ছাত্র ইউনিয়নের সভাপতি এসএম শুভ এই কর্মসূচিতে সংহতি জানান।

শিল্পী অরুপ রাহী, কফিল আহমেদ, কামাল পাশাও এতে সংহতি জানিয়েছেন।

বিক্ষোভকারীরা জানান, সমাবেশ ও অবরোধ সারারাত চলবে। রাতে মশাল মিছিল ঢাকার বিভিন্ন স্থলে প্রদক্ষিণ করবে।

মশাল মিছিল শেষে শাহবাগ মোড়ের চারপাশে মোমবাতি জ্বালিয়ে বসে প্রতিবাদ জানাচ্ছেন অনেকেই। তাদের সঙ্গে একাত্মতা প্রকাশ করেন উদীচী, নারী নেত্রী খুশি কবীর। অনেকে ফেস্টুন নিয়ে রাস্তায় বসেও প্রতিবাদ জানাচ্ছে। ফেস্টুনে লেখা রয়েছে ‘বিজয়ের কথা যদি বলি’, ‘তোদের মুখে থু থু দেবো’, ‘এমন রায়ে কাঁদছে চোখ আমার না হয় ফাঁসি হোক’ ইত্যাদি অনেক স্লোগান

ব্লগারসহ সর্বস্তরের মানুষের সাথে কন্ঠ মিলিয়ে বলতে চাই-
১) রায় প্রত্যাশিত হয় নাই
২) রায় প্রত্যাখ্যান করলাম
৩) আপিলের যে ছোট্ট সুযোগটি আছে সেটিকে ব্যবহার করে প্রত্যাশিত রায় অর্জন করতে হবে। পরের রায়গুলো যাতে আমাদের পক্ষে আসে সে ব্যবস্থা নিতে হবে।
৪) তার জন্য প্রসিকিউশনকে যা সুবিধা দেয়া প্রয়োজন দিতে হবে, পরিবর্তন দরকার হলে করতে হবে।
৫) এই সব কিছু করার জন্য সরকারকে চাপ দিতে হবে। প্রতিবাদ এবং আন্দোলন হতে হবে এই পয়েন্টে, শক্ত প্রতিবাদ। কোনো ভাবেই সরকার কর্তৃক বিচার প্রভাবিত হতে দেওয়া যাবেনা।

এই পয়েন্টগুলোতে গুরুত্বারোপ না করে পাইকারী হারে ট্রাইবুনাল আর সরকারকে গালি দিলে আখেরে সেইটা জামাতের পারপাসই সার্ভ করবে। রায় বাতিল করা, ট্রাইবুনাল বাতিল করা এই সব হাস্যকর দাবি না তোলাই মঙ্গল। সবচেয়ে বড় ব্যাপার হলো রাজপথে থাকতে হবে। স্লোগান তুলতে হবে:

লাখো শহীদের ভয় নাই
রাজপথ ছাড়ি নাই।
ফাঁসী ফাঁসী কাদের মোল্লা র ফাঁসী চাই
ফাঁসী ছাড়া উপায় নাই।

আন্দোলনরত ব্লগার এবং সকল বন্ধুদের প্রতি লাল সালাম ।

From Jahanara Imam’s last message to the nation written from her deathbed:

”My fellow warriors…….You must fulfill your commitment. You must stand united and fight to the very end. Even though I will not be among you. I will know that you— my millions of Bangalee children—- will live in a free Golden Bengal with your sons and daughters. We still have a long and arduous road ahead. People from all walks of life has joined this battle. People from different political and cultural groups, freedom fighters, women, and students, and youths have all committed themselves to the battle. And I know that there is no one more committed than the people. People are power. So I commit the responsibility of the fight to bring Golam Azam and the war criminals of 1971 to justice and to continue to champion the Spirit of the Liberation War to you— the people of Bangladesh. For certain, victory will be ours.’

জননী, এসো একবার… দেখে যাও, তোমার হাজার হাজার রুমি আজ পথে… জনগণের প্রানের দাবি, যুদ্ধাপরাধীদের ফাঁসির দাবিতে সোচ্চার… মাগো, প্রানভরে দেখো… আমরা অঙ্গিকার থেকে এক পা-ও সড়ে দাড়াঁইনি..।

তাতক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় রণদীপম বসু নিজের ক্ষোভের প্রকাশ ঘটান এভাবেই-

আহা কী বিচার ! (ছড়া)
রণদীপম বসু

একটা খুনেই হবে ফাঁসি
তিনশ’ খুনে জেল,
… যদি বলো লক্ষ খুনে ?
বেকসুরে হবেই খালাশ
কিসের ফাঁসি জেল !

মানবতার পরকাষ্ঠা
কী জানি যায় খশে !
সুশীলরা সব বেজায় বিভোর
টকশোখানায় বসে।

ধর্ষণ কি আর অপরাধ হয় !
পুরুষ হয়ে কোন্ পাঁঠায় কয় !
বীরেরা তো নিতেই পারে
গণিমতের মাল,
এটাই তাদের হক দায়িত্ব
করবে ইস্তেমাল !

আইন-বিচারের ফোঁকড়-ফাঁকড়
পাবলিক কি আর বুঝে !
(তাদের) একটাই কাজ, চুষবে নিজের
বুড়ো আঙুল খুঁজে !

(০৫-০২-২০১৩)


ছবি ও তথ্যসুত্রঃবিডিনিউজ২৪ডটকম,বাংলানিউজ২৪ডটকম এবং ফেইসবুক ।