ক্যাটেগরিঃ স্বাধিকার চেতনা

 
images

‘ঘৃণা’ শব্দটি কাদের জন্য জানিনা। পাপীদের জন্য হতে পারে, আবার নাও হতে পারে। অনুশোচনা করলে পাপীকেও ক্ষমা করে দেওয়ার নির্দেশ আছে সব ধর্মেই। এটিকে সুযোগ দেওয়া বলে। তখন ওই ব্যক্তিকে নয়, ঘৃণা প্রদর্শিত হয় পাপের উপর। অসুরকে কি ঘৃণা করা যায়? যেতে পারে। তাঁর আগে জানতে হবে অসুর আসলে কারা? উদাহরণ চাইলে চণ্ডী থেকে দেবী দূর্গার হাতে বধ হওয়া মহিষাসুরকে তুলে আনবো না ভাই। তার চেয়েও বড় অসুর আমরা লালন পালন করেছি স্বাধীনতার পরও ৪২টি বছর ধরে। যাকে বধ করার মতো ক্ষমতা একমাত্র ঈশ্বর ছাড়া আর কারো ছিলো না। সেই অসুর গতরাতে মহা যত্ন-আত্তির পৃথিবী ছেড়ে নরকের রথে চড়ে বসেছেন। কিন্তু এখানেই কি সব শেষ?
না… এই পবিত্র বাংলার বুকে তিনি ছড়িয়ে গেছে লাখো লাখো রক্তবীজ। কি তাদের চরিত্র? কিভাবে চিনবেন তাদের? চলুন তবে প্রশ্ন করে দেখি-

ঘৃণা দেখতে চাও,ঘৃণা?
যে জননীর স্তন পান করে বেড়ে উঠেছো,
কোলে পিঠে করে বড় হয়েছো
সেই জননীকে ধর্ষকের হাতে তুলে দাও
অথবা
ধর্ষককে বুকে টেনে নাও,
বিলাপ করো রক্তচোষা বাদুরের জন্য;
তোমার নগ্ন বিবেকে একদলা থুথু ছিটিয়ে
আমি তোমায় ঘৃণা দেখাবো
যে জননীর নাভিমূল ছিন্ন-করে পৃথিবীর আলো দেখেছো
সেই জননী তোমায়
ঘৃণা দেখাবে ঘৃণা।

তারা ধর্ষিত হওয়া মায়ের জন্য বিলাপ করতে শেখেনি, তারা তাদের গুরুদের কাছে শিখেছে কী করে এই দেশের বিরুদ্ধে কথা বলতে হয়, প্রযোজনে নিজের মাকেও ধর্ষকের হাতে তুলে দিতে হয়, এমনকি ধর্ষণ করতে হয়। তারা ইনিয়ে বিনিয়ে মায়ের ধর্ষকের পক্ষে কথা বলার শিক্ষা পেয়েছে। এই দেশ আমাদের মা, যে জননী বুকের দুধ খাইয়ে বড় করেছেন তিনিও আমাদের মা। এই মায়ের প্রতি তাদের মমত্ববোধ না থাকলেও তাদের মমত্ব ঝরবে শত্রুর প্রতি, তাদের হাতেখড়ি দিয়ে বড় করেছে যারা তাদের প্রতি অথবা রক্ত বয়ে বেড়াচ্ছে যাদের তাদের প্রতি। চেনা বামুনের পৈতে লাগেনা, এদের অবশ্য চিনতে একটু কষ্টই হবে আপনার। ঘাপটি মেরে থাকবে, সময়মতো স্বরূপ প্রকাশ করবে। তাই আবার অফার দিয়ে দেখুন …তাঁরা নির্দ্বিধায় লুফে নিবে আপনার ঘৃণা।

ভালোবেসে যে বোনটি তোমায় রাখি পরিয়ে দিলো
সেই বোনটিকে
অথবা
ভালোবেসে যে প্রেয়সী তোমায় বুকে টেনে নিলো
সেই প্রেয়সীর সম্ভ্রম
তুলে দাও লুটেরার হাতে
বিলাপ করো সেই শকুনের জন্য;
তোমার পৌরুষত্বের অহংকারে লাথি মেরে
আমি তোমায় ঘৃণা দেখাবো
লাখো লখো ধর্ষিতা তোমার উলঙ্গ চেতনায়
মুঠো মুঠো ঘৃণিত বাষ্প ছড়িয়ে
ঘৃণা দেখাবে ঘৃণা।

এদের কাছে দেশের জন্য জীবন দেওয়া লাখো শহীদের মূল্য সামান্যই। একাত্তরের ইতিহাসকে পুরনো অধ্যায় আখ্যা দিয়ে এরা শত্রুকে বুকে টেনে নিয়েছে আপন ভাইয়ের মর্যাদায়।

ঘৃণা দেখতে চাও, ঘৃণা?
শহীদ জনকের কিংবা ভাইয়ের রক্তে-
পা ভিজিয়ে, অস্তিত্বের ইতিহাসকে পুরনো অধ্যায় আখ্যা দিয়ে
ক্রন্দন করে বুকে টেনে নাও পুরনো শত্রুকে।

এদের জন্য আপনার বিবেক কাঁদে কি কখনো? মনে হয় কাঁদে না। অনুতাপহীন কুলাঙ্গারের জন্য আরেকদল অনুতাপহীন কুলাঙ্গার ছাড়া পৃথিবীর কারো বিবেক নাড়া দেয় না-

মাঝে মাঝে আকাশও স্তব্দ হয় বিস্ময়ে
তোমাদের মতো কুলাঙ্গার দেখে এ বিবেক
বিস্মিত হয়নি কখনো,
প্রার্থনা করেছে শুধু-
নষ্ট বাতাসে উড়ে আসা ডিম্বানুতে জন্ম যাদের,
তাদের জন্য মুঠো মুঠো ঘৃণা ছড়িয়ে পড়ুক
তারুণ্যের অন্তরে
অস্তিত্বে
যৌবনে …

যে মা ওদের জন্ম দিয়েছে তাদের হৃদয় নিশ্চয়ই কাঁদে? হ্যাঁ কাঁদে, তবে তাকে জন্ম দেওয়ার অপরাধবোধে কাঁদে, কুলাঙ্গার সন্তানের জন্য নয়। অভাগী মা তাদের জন্য ক্ষণে ক্ষণে অভিশাপ দিয়ে যান-

শুনেছি
মায়ের স্নেহ ঢেকে রাখে পশুদেরও পাপ
এই পশুদের মায়েও দিবে অভিশাপ।

এই দেশকে যারা মায়ের আসনে বসাতে পেরেছে, তারাই বুঝেছে মাতৃভূমির মূল্য। আসুন রক্তবীজে জন্ম নেওয়া ওইসব কুলাঙ্গারদের দিকে সজাগ দৃষ্টি রাখি।