ক্যাটেগরিঃ স্বাধিকার চেতনা

 

প্রায়ই টকশো আর মিডিয়াতে একশ্রেণীর তথাকথিত বুদ্ধিজীবী মানুষকে দেখি প্রশ্ন তোলেন যুদ্ধাপরাধীদের বিচার আন্তর্জাতিক ও স্বচ্ছমানের হচ্ছে না। বাংলাদেশের মানুষেরও স্বভাবজাত প্রবৃত্তি নেগেটিভ জিনিসে বিশ্বাস এবং দ্রুত প্রচার ও প্রসারে তারা সিদ্ধ হস্ত। তাই হয়েছে। দেশের এক বড় অংশ মনে করছে ইসলামিক নেতাদের ধরে এনে রাজনৈতিক প্রতিহিংসাবশত তাদের পরিকল্পিতভাবে ফাঁসি দেওয়া হচ্ছে। শিক্ষিত মানুষ যখন নিজের মেধাকে কুকর্মে ব্যবহার করেন তখন জাতি হিসেবে লজ্জার সীমা থাকে না। আপনাদের বলছি, যদি জানার ঘাটতি থাকে, যদি মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচার নিয়ে প্রশ্ন থাকে- মেমোরি রি-ফরম্যাট দিন সময় থাকতে। ইতিহাসের আস্তাকূড়ে যায়গা নিবেন না প্লিজ।

মানবতাবিরোধীদের জন্য গঠিত সর্ববৃহৎ বিচারের নাম ‘ন্যূরেমবার্গ ট্রায়াল।’ ন্যূরেমবার্গ ট্রায়াল যেখানে শুধু সিনিয়রদের বিচার হয়েছে। এক বছরে সম্পন্ন এই বিচারে ২৪ জন মূল নাৎসিদের ১২ জনকে ফাঁসি, ২ জনকে মুক্তি, বাকিদেরকে নানান মেয়াদে কারাদন্ড দেয়া হয়েছে। হিটলার এবং গোয়েবলস আত্মহত্যা করেছিলো বলে বিচার হয়নি। এখানে উল্লেখ্য আওয়ামীলীগ বাংলাদেশে মানবতাবিরোধীদের বিচারকে ন্যূরেমবার্গ বিচারের সাথে তুলনা করে যেটি একটি কৌশলগত ভুল। বরং আন্তর্জাতিক স্বীকৃত ন্যূরেনবার্গ বিচার প্রক্রিয়ার চেয়ে যথেষ্ট শক্তিশালী, স্বচ্ছ এবং আন্তর্জাতিক মানের।

ন্যুরেমবার্গ ট্রায়াল গঠিত হয়েছিল ২০ নভেম্বর ১৯৪৫ থেকে ১ অক্টোবর ১৯৪৬ সময়ে। অর্থাৎ মাত্র ১১ মাসে বিচার কাজ শেষ হয়। এতে হিটলার সরকারের ২৩ জন উচ্চপদস্থ সামরিক কর্মকর্তাসহ ২০০ জন ও অন্যান্য ১৬০০ জনকে বিচার করা হয়েছিল যার অধিকাংশকে মৃত্যুদন্ড দেয়া হয়েছিল ও তা সংগে সংগে কার্যকর হয়েছিল। তাতে কোন রিভিউ বা আপিলের বা ক্ষমা চাওয়ার বিধান ছিল না।

অথচ বাংলাদেশে পরিচালিত বিচারটিতে অপরাধীর আপীলের সুযোগ দেয়া হয়েছে, রিভিউয়ের জন্য সুযোগ দেওয়া হয়েছে এবং সর্বশেষ আবার আছে রাষ্ট্রপতির ক্ষমা চাওয়ারও সুযোগ। এই সুস্পষ্ট বার্তাটুকু বাংলাদেশের জনগণের মাঝে পৌঁছে দেওয়ার দ্বায়িত্ব আওয়ামীলীগের কর্মীদের কিন্তু তারা সেটি পারেননি। মাঠপর্যায়ের কর্মীরা অনেকে জানেন কি না সন্দেহ পোষণ করি। বিভ্রান্তিমূলক নানা তথ্যের সঠিক বার্তাগুলো কর্মীদের মাঝে পৌঁছে দেওয়ার জন্য উচ্চপর্যায় থেকে নির্দিষ্ট ফরমেটে কপি করে পাঠানো উচিত ছিলো কিন্তু উচ্চমহল সেটি করেছেন বলে জানা নেই। এতে মাথপর্যায়ের কর্মীরা বিভ্রান্তমূলক নানা প্রশ্নের সঠিক জবাব দিতে পারতেন। 

অনেকেই বলেন ১৯৫ জনকে ছেড়ে দেওয়া হয়েছিলো কেন? এই প্রশ্নের সুস্পষ্ট জবাব কখনো পাই নি উচ্চমহলের নেতাদের কাছ থেকে। শেখ মুজিবুর রহমানতো সবাইকে মুক্ত করে দিয়েছিলেন- এই বিভ্রান্তিমূলক তথ্যের সঠিক জবাবও খুব কম মানুষের কাছে পৌঁছেছে।

আলোচনায় যাওয়ার আগে জানা দরকার যুদ্ধাপরাধ কী?
৭৩ সালের আইনে আট ধরনের অপরাধকে যুদ্ধাপরাধ বলা হয়েছে। এগুলো হচ্ছে মানবতার বিরুদ্ধে অভিযোগ, শান্তির বিরুদ্ধে অপরাধ, গণহত্যা, যুদ্ধাপরাধ, জেনেভা কনভেনশনে বর্ণিত মানবিক বিধিসমূহের লঙ্ঘন[ধর্ষণ, অগ্নিসংযোগ, লুটতরাজ], আন্তর্জাতিক আইনের অধীনে অন্যান্য অপরাধ, ওই ধরনের অপরাধ সংঘটনে চক্রান্ত এবং তা প্রতিরোধে ব্যর্থ হওয়া। তবে ব্যাপক ও ব্যবহারিক অর্থে এসব অপরাধই যুদ্ধাপরাধ হিসেবে বর্ণনা করা যায়। যুদ্ধাপরাধ সম্পর্কে ’৭৩ সালের আইনে বলা হয়েছে, ‘বাংলাদেশের রাষ্ট্রীয় সীমানার মধ্যে যুদ্ধের আইন কিংবা প্রথা (কাস্টম অব ল) ভঙ্গ করে যেসব অপরাধ করা হয়েছে, তাই যুদ্ধাপরাধ।’ যুদ্ধের আইন কিংবা যুদ্ধের প্রথা কী? বেসামরিক জনসমষ্টির বিরুদ্ধে নরহত্যা, নির্যাতন, জবরদস্তি-শ্রমে বাধ্য করা, যুদ্ধবন্দীদের কিংবা সাগরে অবস্থানরত ব্যক্তিদের হত্যা করা, সরকারি বা বেসরকারি সম্পত্তি লুটতরাজ করা, সামরিক প্রয়োজন ছাড়াই নির্বিচারে নগর, শহর কিংবা গ্রাম ধ্বংস বা বিধ্বস্ত করা। কিন্তু যুদ্ধাপরাধ যে শুধু এসব অপরাধের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকবে না, তাও পরিষ্কার করে বলা আছে। মানবতাবিরোধী অপরাধের সংজ্ঞা যথেষ্ট ব্যাপক। এতে নির্দিষ্টভাবে বেসামরিক নাগরিকদের হত্যা, উচ্ছেদ, গুম, অপহরণ, ধর্ষণ, রাজনৈতিক ও ধর্মীয় দোহাই দিয়ে নির্যাতন ও ক্রীতদাস বানানো প্রভৃতি অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। আন্তর্জাতিক আইনে যুদ্ধাপরাধের চেয়ে মানবতাবিরোধী অপরাধের ধারণা সাম্প্রতিক।

বর্তমানে বাংলাদেশে পরিচালিত বিচারটি ব্যপক অর্থে যুদ্ধাপরাধীদের বিচার নয়, মানবতাবিরোধী বিচার।

উপরের প্রসঙ্গে আসা যাক। ১৯৭১ সালের ১৬ই ডিসেম্বর পাকিস্তানী হানাদার বাহিনীর ভারত-বাংলাদেশের যৌথ বাহিনীর কাছে আত্মসমর্পনের পরে প্রায় ৯০,৫০০ জনকে যুদ্ধবন্দী হিসাবে আটক হয় । এই যুদ্ধবন্দীদের মধ্যে ছিল প্রায় ৮০,০০০ উর্দিধারী সদস্য যার মধ্যে ছিল আর্মি (৫৫,৬৯২), নেভী ও এয়ার ফোর্স (১,৮০০), প‌্যারামিলিটারি (১৬,৩৫৪) বা পুলিশ সদস্য (৫,২৯৬)এবং বাদবাকী ১০,৫০০ ছিল সিভিলিয়ান (মুলত: বিহারী) যারা পাকিস্তানের পক্ষে যুদ্ধ করেছে । জেনেভা কনভেনশন অনুযায়ী পর্যাপ্ত নিরাপত্তা ও অধিকার সংরক্ষণ করে আটক রাখার মত অবকাঠামো না থাকায় সিদ্ধান্ত হয় ভারত এই ৯০,৫০০ যুদ্ধবন্দীকে আটক রাখবে এবং এদের পর্যাপ্ত নিরাপত্তাসহ ভরণপোষনের দায়িত্ব পালন করবে । এই সিদ্ধান্ত অনুযায়ী যুদ্ধবন্দীদের ভারতের নিকট হস্তান্তর করা হয় । এই যুদ্ধবন্দীদের জন্য তখনকার হিসাবে প্রতিমাসে ভারতের খরচ ছিল ১,০০০,০০০ মার্কিন ডলার।

এই যুদ্ধবন্দীদের মধ্যে থেকে প্রাথমিকভাবে প্রায় ১৫০০ জনকে চিন্হিত করা হলেও চূড়ান্তভাবে সর্বমোট ১৯৫ জনকে সুনির্দিষ্টভাবে যুদ্ধাপরাধের দায়ে অভিযুক্ত করা হয়। বাংলাদেশ তখন স্বাধীন রাষ্ট্র হলেও এই যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের জন্য আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি ও সহায়তা প্রয়োজন ছিলো। আর সবচেয়ে বড় বাঁধা ছিলো আরবলীগ, চীন ও যুক্তরাষ্ট্র।ঠিক এই দূর্বলতার সুযোগই নিয়েছিলো পাকিস্তান। আর স্বাধীন দেশ হয়েও আন্তর্জাতিক বিভিন্ন মহলে স্বীকৃতিহীনতা বড় একটা কাঁটা হয়েছিলো বাংলাদেশের। স্পষ্ট কিছু কারণে এদের বিচার করা সম্ভব হয় নি, তারমধ্যে উল্লেখযোগ্য হলোঃ সদ্য প্রতিষ্ঠিত রাষ্ট্রের প্রতি আন্তর্জাতিক স্বীকৃতির অভাব, পাকিস্তানে আটকে পড়া বাংলাদেশীদের ফিরিয়ে আনা, চীনের মাধ্যমে জাতিসংঘের সদস্যপদ আটকে রাখা ইত্যাদি। [বিস্তারিত পড়ুন]

এরই প্রেক্ষিতে ১৯৭৪ সালের ৯ এপ্রিল ঐতিহাসিক ত্রিপক্ষীয় চুক্তি স্বাক্ষরিত হয় যেটি “TRIPARTITE AGREEMENT ” নামে বেশী পরিচিত । এই চুক্তিতে ১৯৫ জন যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের ব্যাপারটি নিস্পত্তির পাশাপাশি এই তিন দেশে আটকে পড়া নাগরিকদের প্রত্যর্পনের ব্যাপারেও সিদ্ধান্ত হয়। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের অন্যতম ভুল ছিলো তখন বন্ধুরাষ্ট্রগুলোর পরামর্শ নিয়েছিলেন কিন্তু দেশীয় জনমত যাচাই করেননি।
বর্তমানে প্রচার করা হয় বঙ্গবন্ধ সবাইকে সাধারণ ক্ষমা করে দিয়েছিলেন। অথচ বিরোধীদের অপপ্রচারের জবাব সাধারণ মহলে পৌঁছে দিতে পারেন নি বিচার সংশ্লিষ্টরা কিংবা সরকার পক্ষীয় কর্মী-সমর্থকেরা। যার ফলে একটা ধ্রুম্রজাল থেকেই যাচ্ছে।

সাধারণ ক্ষমা ঘোষনার আওতায় প্রান্তিক পর্যায়ের দালাল ও রাজাকারদের ক্ষমা করা হয়েছে।হত্যা, লুটপাট, ধর্ষন এবং স্বাধীনতা বিরোধী ষড়যন্ত্রের সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কিত এবং নেতৃস্থানীয় কোনো দালাল ও ঘাতককে এই ক্ষমা ঘোষণার আওতায় নেওয়া হয়নি।ঐ সময় গোলাম আযম থেকে শুরু করে নুরুল আমিন, হামিদুল হক চৌধুরী, খান এ সবুর, মাহমুদ আলী, খাজা খয়েরুদ্দিন, রাজা ত্রিদিব রায়ের মতো নেতৃস্থানীয় স্বাধীনতা বিরোধীদের স্থাবর-অস্থাবর সম্পত্তি ক্রোক করে তাদের ফেরার ঘোষণা করা হয় (১০ ফেব্রুয়ারি ১৯৭২,দৈনিক বাংলা)। [আরো পড়ুন]

১৯৭৩ সালের ৩০ শে নভেম্বর এই সাধারণ ক্ষমা ঘোষনা করেন বঙ্গবন্ধু।স্বরাষ্ট্র দফতর থেকে ইংরেজিতে একটি প্রেসনোটটি ইস্যু করা হয়। বাংলা ব্যখ্যা লড়লে দাঁড়ায়-
যারা ১৯৭২ সালের দালাল (বিশেষ ট্রাইবুনাল) আদেশ(পি.ওনং-৮,১৯৭২সালের)বলে আটক রয়েছেন অথবা সাজাভোগ করছেন তাদের প্রতি সাধারণ ক্ষমা প্রদর্শনের প্রশ্নটি সরকার আগেও বিবেচনা করে দেখেছেন।সরকার এ সম্পর্কে এখন নিম্নোক্ত ঘোষণা করছেন:
১/২নং অনুচ্ছেদে বর্ণিত ব্যক্তিদের ও অপরাধসমূহের ক্ষেত্র ছাড়া:
(ক) ১৮৯৮ সালের ফৌজদারী দন্ডবিধি ৪০১ নং ধারা অনুযায়ী উল্লিখিত আদেশবলে আটক ও সাজাপ্রাপ্ত ব্যক্তিদের রেহাই দেওয়া হচ্ছে এবং উল্লিখিত আদেশ ছাড়া অন্য কোনো আইনবলে তাদের বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ না থাকলে তাদের সাধারণ ক্ষমা ঘোষণার অনতিবিলম্বে জেল থেকে মুক্তি দেওয়া হবে।
(খ) কোনো বিশেষ ট্রাইবুনালের সম্মুখে অথবা কোনো বিশেষ ম্যাজিস্ট্রেটের আদালতে উক্ত আদেশবলে বিচারাধীন সকল মামলা সংশ্লিষ্ঠ ট্রাইবুনাল ও ম্যাজিস্ট্রেটের অনুমতি নিয়ে প্রত্যাহার করা হবে এবং উল্লিখিত আদেশ ছাড়া অন্য কোনো আইনে তাদের বিরুদ্ধে বিচারাধীন কোনো মামলা বা অভিযোগ না থাকলে তাদের হাজত থেকে মুক্তি দেওয়া হবে।
(গ)কোনো ব্যক্তির বিরুদ্ধে উল্লিখিত আদেশবলে আনীত সকল মামলা ও তদন্ত তুলে নেওয়া হবে এবং উল্লিখিত আদেশ ছাড়া অন্য কোনো আইনে বিচার বা দন্ডযোগ্য আইনে সে অভিযুক্ত না হলে তাকে মুক্তি দেওয়া হবে।উল্লিখিত আদেশবলে ইস্যু করা সকল গ্রেফতারী পরোয়ানা, হাজির হওয়ার নির্দেশ অথবা কোনো ব্যক্তির বিরুদ্ধে হুলিয়া কিংবা সম্পত্তি ক্রোকের নোটিশ দেয়া থাকলে তা প্রত্যাহার বলে বিবেচিত হবে এবং গ্রেফতারী পরোয়ানা অথবা হুলিয়ার বলে কোনো ব্যক্তি ইতিপূর্বে গ্রেফতার হয়ে হাজতে আটক থাকলে তাকে অনতিবিলম্বে মুক্তি দেওয়া হবে।অবশ্য সে ব্যক্তি উল্লিখিত দালাল আদেশ ছাড়া কোনো বিচার বা দন্ডযোগ্য অপর কোনো আইনে তার বিরুদ্ধে যদি কোনো মামলা না থাকে তবেই।
যাদের অনুপস্থিতিতেই সাজা দেওয়া হয়েছে অথবা যাদের নামে হুলিয়া বা গ্রেফতারী পরোয়ানা ঝুলছে তারা যখন উপযুক্ত আদালতে হাজির হয়ে ক্ষমা প্রার্থনা ও বাংলাদেশের প্রতি আনুগত্য ঘোষণা করবে কেবল তখনই তাদের বেলা ক্ষমা প্রযোজ্য হবে।
২/দন্ডবিধির ৩০২ নং ধারা(হত্যা), ৩০৪ নং ধারা(হত্যার উদ্দশ্যে), ৩৭৬ধারা(ধর্ষণ), ৪৩৫ধারা(গুলি অথবা বিস্ফোরক ব্যবহার করে ক্ষতিসাধন),৪৩৬ধারা(ঘর জ্বালানো)ও৪৪৮ ধারায় (নৌযানে আগুন বা বিস্ফোরণ) অভিযুক্তও সাজাপ্রাপ্তগণ এক নম্বর অনুচ্ছেদে উল্লিখিত ক্ষমার আওতায় পড়বেনা”।
এবিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা ব্লগ-বিডিনিউজ২৪ডটকমে [ লিংক পোস্টে ] পূর্বেই হয়েছে। তাই আলাদা আলোচনার প্রয়োজন নেই।

শুধু একটি জিনিস দেখানো প্রয়োজন। সাধারণ ক্ষমা নিয়ে যারা মিথ্যাচার করেন তাদের অধিকাংশ নিচের পত্রিকা ছবিটি ব্যবহার করেনঃ
16360212903_bb04592790_b

এবার জুম করে পড়ুনঃ
Copy of 16360212903_bb04592790_b

কী লেখা আছে পত্রিকার প্রথম প্যারায়?
‘সরকার সাধারণ ক্ষমা ঘোষণা করিয়াছেন। এই ঘোষণা অনুযায়ী যে সকল ব্যক্তি ধর্ষণ, খুন, অগ্নিসংযোগ অথবা পরিকল্পিত হত্যাকান্ডের দায়ে অভিযুক্ত অথবা দন্ডপ্রাপ্ত তাহারা ছাড়া বাংলাদেশ দালাল আইন (বিশেষ ট্রাইবুন্যাল) বলে অভিযুক্ত বা সাজাপ্রাপ্ত সকলকে অনতিবিলম্বে মুক্তিদান করা হলো।’

উল্লেখযোগ্য অংশঃ
সাধারণ ক্ষমা ঘোষণার ৫ নং ধারায় বলা হয়, ‘যারা বর্ণিত আদেশের নিচের বর্ণিত ধারাসমূহে শাস্তিযোগ্য অপরাধে সাজাপ্রাপ্ত অথবা যাদের বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ রয়েছে অথবা যাদের বিরুদ্ধে নিম্নোক্ত ধারা মোতাবেক কোনটি অথবা সব ক’টি অভিযোগ থাকবে। ধারাগুলো হলো: ১২১ (বাংলাদেশের বিরুদ্ধে যুদ্ধ চালানো অথবা চালানোর চেষ্টা), ১২১ ক (বাংলাদেশের বিরুদ্ধে যুদ্ধ চালানোর ষড়যন্ত্র), ১২৮ ক (রাষ্ট্রদ্রোহিতা), ৩০২ (হত্যা), ৩০৪ (হত্যার চেষ্টা), ৩৬৩ (অপহরণ),৩৬৪ (হত্যার উদ্দেশ্যে অপহরণ) ৩৬৫ (আটক রাখার উদ্দেশ্যে অপহরণ),৩৬৮ (অপহৃত ব্যক্তিকে গুম ও আটক রাখা), ৩৭৬ (ধর্ষণ), ৩৯২ (দস্যুবৃত্তি), ৩৯৪ (দস্যুবৃত্তিকালে আঘাত), ৩৯৫ (ডাকাতি), ৩৯৬ (খুনসহ ডাকাতি),৩৯৭ (হত্যা অথবা মারাত্মক আঘাতসহ দস্যুবৃত্তি অথবা ডাকাতি), ৪৩৫ (আগুন অথবা বিস্ফোরক দ্রব্যের সাহায্যে ক্ষতিসাধন),৪৩৬ (বাড়িঘর ধ্বংসের উদ্দেশ্যে আগুন অথবা বিস্ফোরক দ্রব্য ব্যবহার), ফৌজদারি দণ্ডবিধির ৪৩৬ (আগুন অথবা বিস্ফোরক দ্রব্যের সাহায্যে কোন জলযানের ক্ষতিসাধন) অথবা এসব কাজে উৎসাহ দান। এসব অপরাধী কোনোভাবেই ক্ষমার যোগ্য নন।’

এরপরেও কিছু মানুষ প্রশ্ন তুলবেন, ত্যানা প্যাচাবেন, মিথ্যাচার করবেন, ছাগমাথায় গোবর ঢুকাবেন, মানুষকে বিভ্রান্ত করবেন। কিন্তু সেই মিথ্যাচার মিথ্যাচারই রয়ে যাবে, হালে পানি পাবে না। কারণ, যুগ বদলে গেছে, প্রজন্ম যথেষ্ট সচেতন এবং শিক্ষিত।

 

************************************************

তথ্যঋণঃ
ব্লগার নিঝুম মজুমদার, ব্লগার মিরাজ, ব্লগার অমি রহমান পিয়ালের ব্লগ।
* যুদ্ধাপরাধ ঊনিশশো একাত্তরঃ সাধারণ ক্ষমা ও এর অপব্যাখ্যা-মোহাম্মদ আরিফুজ্জামান ও সৌরভ রহমান।
** স্বপ্ন, দুঃস্বপ্ন ও বোবার স্বপ্ন (Swapna, Dhuswapna O Bobar Swapna)
*** দালাল আইন ফিরছে- কালের কণ্ঠ, ১৬ ডিসেম্বর, ২০১০।
**** “THE INTERNATIONAL CRIMES (TRIBUNALS) ACT, 1973 ( Jurisdiction of Tribunal and crimes)”
***** “Opinion of the Law Commission on the technical aspects of the International Crimes (Tribunals) Act, 1973 (Act No. XIX of 1973” – Muhammad_Habibur_Rahman