ক্যাটেগরিঃ আইন-শৃংখলা

 

হে প্রজন্ম,
পাকিস্তান ইস্যু বাদ দিয়ে এখন দেশের ইস্যুতে আসো। মাত্র একরাতের ব্যবধানে আমাদের প্রজন্মের চোখে ধর্ষকের দেশ ইন্ডিয়া জেগে উঠেছিলো, প্রশাসনকে বাধ্য করেছিলো ধর্ষকদের ধরে শাস্তি দিতে।

আমরা কী পেরেছি?
না পেরেছি কঠোর আন্দোলনে নামতে, না পেরেছি প্রশাসনকে বাধ্য করতে, না পেরেছি শাস্তি দিতে।

ভারতের কথা বাদ দিলাম। পাকিস্তানে যৌনতা মানে অজুহাত। পোশাকের অথবা নারীর শালীনতার। আর ভাই নিজের দেশে?

একই কায়দায় এগিয়ে যাচ্ছি। পূর্ণিমা, সীমা, রুনারা দিনে দুপুরে হাজার মানুষের সামনে অথবা জ্ঞাতসারে ধর্ষিত হয়েছে। তাদের জন্য তথাকথিত হাজার হাজার বাঙালির হৃদয় কাপে নি। সবাই মজা নিয়েছে অথবা ভয়ে চুপসে গেছে। প্রতিবাদের একটা মুখ পাওয়া যায় নি।

তাই বলি ভাই, অনেক হয়েছে এবার দেশের জন্য ভাবো। জেগে ওঠো, প্রতিবাদী হও। লুল মার্কা স্ট্যাটাস বাদ দিয়ে বিবেকের কাঠগড়ায় নিজেকে দাঁড় করাও। সমুখের বিপদ মোকাবেলায় প্রস্তুত হও।

হে নারী,
জাগবে কারা? পুরুষ নাকি তোমরা? পুরুষ ধর্ষকের জাত, জাগবে কী ধর্ষিতার জন্য? তোমরা জাগো না কেন? তোমাদের ওয়ালে, তোমাদের মুখে যখন দেখি পোশাকের কথা বলে নিজেকে সতী প্রমাণে ব্যস্ত থাকো, তখন মনে হয় কাদের জন্য প্রজন্ম জাগবে?

ভিডিও ফুটেজ দেখেছো?
তোমার কোন বোনটির পোশাকে শালীনতার অভাব ছিলো? তোমার কোন বোনটি ন্যূনতম শালীন ছিলো না? রিকশা থেকে নামিয়ে যেদিন তোমাকে নিয়ে নরপশুরা বীভৎস উল্লাস করবে আর তুমি অভিমানে ফেইসবুকে পুরুষ সমাজকে গালি দিবেন, সেদিন খুশি হওয়ার কথা থাকলেও, কোন নগ্ন পুরুষের কর্মকান্ডে আমি খুশি হবো না।

তাই বলি জাগো ভগিনী জাগো। অনেক হয়েছে… অনেক… জাগতে হবে তোমাদেরই আগে।

কিছু পুরুষ যেমন সমাজের সকল পুরুষের প্রতিনিধি নয়, তেমন কিছু নারীও সকল বাঙালী নারীর প্রতিনিধি নয়। বাঙালী নারী এখনো উচ্ছন্নে যায় নি।

হে পুরুষ,
শালীন হও তুমি, মননে…
পর্দা পরো তুমি, কুটিল মনে…
নতুন পোশাক পরাও তোমার মৃতপ্রায় বিবেকদন্ডে…

হে নারী,
নিজেরাই নিজেদের পরিণতি নিয়ে হাস্যকর ও অযৌতিক ভাবনা বাদ দিয়ে প্রতিবাদী হও অথবা হাহুতাশ বাদ দিয়ে গৃহকোণে আবদ্ধ থাকো।

হে সমাজ,
জেগে ওঠো। আজ সময় এসেছে রুখে দাঁড়ানোর। নারীরা আমাদের সমাজেরই অংশ। নারীর লজ্জা মানে সমাজেরই লজ্জা। আসুন সবাই মিলে রুখে দেই মানুষরূপী জানোয়ারের কালো হাত। শক্ত প্রতিবাদ চাই যার যার অবস্থান থেকে।

————————————————–

সংযুক্তিঃ
* হয়তো বিচারের নামে প্রহসন দেখবো আমরা আগামী দুইদিনে।
* ভিডিও ফুটেজ এভাবে পাবলিকলি দেখানো ঠিক হয় নি, অনেকে আনন্দের খোরাক হিসেবে নিয়েছে। তবে অন্যভাবে ভাবলে ঠিক আছে। প্রশাসন মিথ্যা বলে পার পেয়ে যাবে না নিশ্চয়ই।
* পোস্টে নারীকেই জোর দিয়ে জাগতে বলা হয়েছে নানা কারণে। পৃথিবীর প্রায় সকল কল্যাণকর সংবাদের পেছনে এক বা একাধিক নারীর অবদান আছে। নারীদের অনেককেই দেখছি পোশাক তত্ত্বে সমর্থন দিয়ে যাচ্ছেন, অথচ একবারও বলছেন না ‘ধর্ষকের বিচার চাই।’ এটা সত্যি হতাশাজনক।
* ইনিয়ে বিনিয়ে যারাই ধর্ষণের পক্ষে যুক্তি দেখাবে তাদেরকে সরাসরি বলুন ‘তুই ধর্ষক।’ এটাই হোক একমাত্র গালি।

* অবচেতন মনে ভুল কিছু লিখে থাকলে ক্ষমাপ্রার্থী।