ক্যাটেগরিঃ সেলুলয়েড, হুমায়ূন আহমেদ স্মরণে

 

মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক চলচ্চিত্র ‘আগুনের পরশমণির’ মধ্য দিয়ে ছবিওয়ালার খাতায় নাম লিখিয়েছিলেন হুমায়ূন আহমেদ। তবে ‘ছবিবাজের’ খাতায় তার নাম উঠেছিল উর্দূ চলচ্চিত্র ‘বহুত দিন হোয়ে’ দেখার মধ্য দিয়ে!

ছবিটি দেখেছিলেন তার মামার সঙ্গে। বয়স কত আর হবে, শিশুরা সিনেমা হলে চেয়ারের হাতলে বসে যে বয়সে ‘ইয়ে’ করে দেয়, তেমনই।

তার বড় মামা সখ করে সিনেমা দেখাতে নিয়ে গেছেন, বিষয়টি কিন্তু এমন ছিল না। নিতান্তই অনাগ্রহের সঙ্গে সিলেটের রঙমহলে নিয়ে গিয়েছিলেন তাকে। কারণ তার মামার ধারণা ছিল বাতি নিভতেই সে কাঁদতে শুরু করবে। আর মাঝখান থেকে ছবি দেখা হবে না।

আর এ জন্য নানান হুমকি-ধামকিও শুনতে হয়েছে হুমায়ূন আহমেদকে। তাও নাছোড় বান্দা হুমায়ূন ছবি দেখে ছেড়েছিলেন। হলের হাতলে বসে টিকিট ছাড়া।

আসুন না শুনি কি হয়েছিল সেদিন।

“হলে ঢোকার আগেই মামা হুঙ্কার ছাড়লেন- কাঁদলে কিন্তু আছাড় দিয়ে ভুঁড়ি গালিয়ে ফেলব। আমি বললাম- কাঁদব না মামা। পিসাব পায়খানা যা করার করে নাও। ছবি শুরু হবে আর বলবে পিসাব, তা হবে না।”

এ ধরনের নানান শর্ত দিয়ে প্রথম ছবি দেখতে গিয়ে কিন্তু নিষাদ নিনিতের বাবা সেদিন ঠিকই ইয়ে করে দিয়েছিলেন। সত্যি বলছি। সেই পিসাব গিয়ে লাগে সামনের সিটে বসে থাকা এক ভদ্র লোকের পায়ে।

হুমায়ূনের ভাষায়, “হল অন্ধকার হয়ে গেল। বিরাট পর্দায় বড় বড় মুখ। কি হচ্ছে আমি কিছুই বুঝতে পারছি না। তবে মজাদার কিছু যে হচ্ছে তা বুঝতে পারছি। বড় মামা হাসতে হাসতে ভেঙে পড়ছেন। আমি বললাম, মামা কি হচ্ছে? মামা বললেন, চুপ। কথা বললে থাবড়া খাবি। আমি খানিক্ষণ চুপ থেকে বললাম, মামা পিসাব করব। মামা পর্দা থেকে চোখ না নামিয়েই বললেন, নিচে নেমে পিসাব করে ফেল। আমি তৎক্ষণাৎ মাতুল আজ্ঞা পালন করলাম।”

আজ আমার সেই বহুত দিন হোয়ে ছবিটা দেখতে খুব ইচ্ছে করছে। কি দেখেছিলেন সেদিন। কি ছিল সেই ছবিতে। হুমায়ূন আহমেদ আমাদের মাঝে নেই। তবে ঠিকই আছে, তার এক একটা স্মৃতি অমলিন। হয়তো নিষাদ-নিনিত সেই স্মৃতি নিয়ে বড় হতে পারবে না। শুধু শুনবে। এই আমরা যেমন শুনছি।