ক্যাটেগরিঃ রাজনীতি

বাংলাদেশ এখন কোন অবস্থায় আছে এর চুলচেরা বিশ্লেষণ করার বোধ, বুদ্ধি বা ক্ষমতা কোনোটাই আমার নেই। থাকারও কথা নয়! এ ক্ষমতা থাকবে শুধু আমাদের রাজনীতিবিদদের! তবে সর্বশেষ ‘আততায়ীর’ গুলিতে সৌদি দূতাবাস কর্মকর্তার মৃত্যুর বিষয়টি যেভাবে দেখা হচ্ছে, তা নিয়ে আমার মতো তথাকথিত ‘দেশপ্রেমিক’ অনেকটাই উদ্বিগ্ন। উদ্বিগ্ন, কারণ এটি বিচ্ছিন্ন কোনো ঘটনা বলে আমার মনে হয়নি। এটাকে মনে হয়েছে ‘পরিকল্পিত’ ‘রাজনৈতিক’ উদ্দেশ্য হাসিলের হত্যাকাণ্ড।

কেন মনে হয়েছে এবং হচ্ছে তা বিশ্লেষণ করার আগে একটু মূল ঘটনা দেখে আসি।

সোমবার রাত ১টার দিকে গুলশানের ১২০ নম্বর সড়কের ১৯/বি নম্বর বাসার সামনে গুলিবিদ্ধ হন খালাফ আল আলী। পুলিশ তাকে গুরুতর আহত অবস্থায় ইউনাইটেড হাসপাতালে ভর্তি করলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মঙ্গলবার ভোরে তার মৃত্যু হয়।

ময়না তদন্তে জানা যায়, একটি মাত্র গুলিতেই খালাফ আল আলীর মৃত্যু হয়েছে। গুলিটি তার বুকের বাম পাশ দিয়ে ঢুকে কিডনিতে লেগেছিলো। তার মানে খুব কাছ থেকে গুলি করা হয়েছে এই দূতবাস কর্মকর্তাকে। তাছাড়া কনস্যুলেট অব পর্তুগাল প্রধানের বাসভবনের নিরাপত্তাকর্মী জুলফিকার যদি মিথ্যা না বলে থাকেন, তাহলে আমরা এটিও বলতে পারি এটি পূর্ব পরিকল্পিত। কারণ জুলফিকার ঘটনার পর সাদা রঙের একটি গাড়ি দ্রুতবেগে পশ্চিম দিকে চলে যেতে দেখেছেন।

তার মানে খালাফ আল আলী আগে থেকেই একটি গোষ্ঠীর ল্যবস্তুতে পরিণত হয়েছিলেন! প্রশ্ন হলো- এই গোষ্ঠীটা কারা? কীসের স্বার্থে সৌদি নাগরিককেই বেছে নেওয়া হলো?

আমাদের সবার জানা যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের বিরোধী হিসেবে প্রথম যে দেশকে বিবেচনা করা হয়- সেটি সৌদি আরব। বিএনপি এবং জামায়াতে ইসলামী সব সময়ই এই দেশটির আশির্বাদপুষ্ট।

অন্যদিকে জামায়াতের শীর্ষ নেতারা যুদ্ধাপরাধের দায়ে কারাগারে বন্দি। ক্ষমতার লোভেই হোক, বা অন্যকোনো কারণে- বিএনপিও চায় না এই বিচার হোক।

সবচেয়ে বড় কথা ক্ষমতার তিন বছরের মধ্যে অনেক বিষয়কে একসঙ্গে জোড়াতালি দিতে গিয়ে নানামুখী চাপে রয়েছে আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন মহাজোট সরকার। শুরুতে রাজনীতির চালে চারদলীয় জোট পিছিয়ে থাকলেও একের পর এক কর্মসূচি দিয়ে বর্তমানে সরকারের সঙ্গে তারা দিব্যি খেলছে ইঁদুর-বিড়াল খেলা। এসব কর্মসূচি মোকাবেলা করতেই হিমশিম খেতে হচ্ছে অপরিপক্ক মন্ত্রিপরিষদ নিয়ে গঠিত বর্তমান সরকারকে।

তবে সবচেয়ে বড় কথা, সামনে চারদলীয় জোটের মহাসমাবেশ। ১২ মার্চ। বিএনপির সময় জলিল যেমন ‘ট্রামকার্ডের’ কথা বলে ভয় দেখাতে চেয়েছিলেন, তেমনি বিএনপিও এই মার্চের মহাসমাবেশকে ‘টার্গেট’ আখ্যায়িত করে রাজনীতির মাঠ গরম করতে চাইছেন। তবে পরিণতি জলিলের ট্রামকার্ডের মতোই হবে সেটি বিএনপি-জামায়াত ভালো করেই জানে। আর সে কারণেই ভিন্ন পথে এগোচ্ছে দুটি দল। এই সংখ্যা হতে পারে একটিও।

লক্ষ্য করে দেখবেন, সৌদি দূতাবাস কর্মকর্তার এই হত্যাকাণ্ডের পর বিএনপির চেয়ারপার্সন কি বলেছেন। বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা বলেছেন, “দেশের অবস্থা অত্যন্ত খারাপ। মানুষের জানমালের নিরাপত্তা নেই। বিদেশিদেরও নিরাপত্তা নেই এদেশে।”

সত্যি কথাই বলেছেন। একেবারে খাটি কথা। কিছুদিন আগে সাংবাদিক দম্পতি হত্যাকাণ্ডের পর তিনি বলেছিলেন- “সাংবাদিকদের নিরাপত্তা এদেশে নেই।” ওইটাও সত্যি কথা ছিলো। এরপর আইনজীবী খুন হলে বলবেন, আইনজীবীদের নিরাপত্তা নেই, ব্যবসায়ী খুন হলে- ব্যবসায়ীদের নিরাপত্তা নেই। এভাবেই চলতে থাকবে। আর ক্ষোভ সঞ্চার হবে এসব পেশাজীবীর মধ্যে। যেমনটি হয়েছে সৌদি নাগরিক হত্যার পর সৌদি সরকারের মধ্যে।

বিএনপি যতোটা সহজে সমীকরণ দাড়া করাতে চাচ্ছে, জামায়াত ততোটা সহজ পথে ভাবতে পারছে না। কারণ নির্মূল হওয়ার ভয় রয়েছে দলটির। তাই তারা এগোচ্ছে অন্যপথে। এক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক অঙ্গন থেকে চাপ সৃষ্টির কৌশলটাকেই তারা বেছে নিয়েছে। সেক্ষেত্রে সৌদি আরবের মতো দেশকে যদি কোনোভাবে কনভিন্স করা যায়, সেটি হবে তাদের সবচেয়ে বড় হাতিয়ার।

লক্ষ্য করলে দেখবেন জামায়াতে ইসলামীর পক্ষ থেকে কোনো ঘটনারই আনুষ্ঠানিক কোনো প্রতিবাদ বা বক্তব্য পাওয়া যায়নি। অন্তত আমি দেখিনি। ওদের দলীয় ওয়েবসাইট থেকে শুরু করে কোথাও এসব হত্যাকাণ্ড নিয়ে তেমন কোনো কথা তারা বলেননি।

তাহলে কী এসব কিছুর পেছনে জামায়াতের হাত রয়েছে?

উত্তরটা এক হলে ‘হ্যাঁ’ অথবা ‘না’। তবে এতটুকু বুঝি এক এক করে আরো অনেকগুলো অঘটন ঘটবে আগামী দুই বছরের মধ্যে। যেগুলোর সঙ্গে রাজনৈতিক যোগসূত্র থাকাটাই প্রাসঙ্গিক।

(মাফ করবেন। খুব কম সময়ে লেখায় অগোছালো হয়ে গেছে)