ক্যাটেগরিঃ রাজনীতি

ছোটবেলা বাপ-চাচাদের জমি ভাগ হওয়ার দৃশ্য আমি দেখিনি। তবে আমার পরশিদের জমি-জমা বণ্টন দেখার সৌভাগ্য আমার হয়েছে। জ্যামিতিক হারের এসব বণ্টন আমাকে কোনদিনই টানেনি। তবে দেশের একইঞ্চি দাবি চলে গেলেও আমার মতো সাধারণ আমজনতা কষ্ট পায় তা বুঝতে পারি। ব্ড্ড কষ্ট হয়, যখন দেখি দেশের পক্ষে ন্যায্য দাবি হারিয়েও কোনমন্ত্রী গলাবাজি করে বলেন- আমরা যা চেয়েছি, তারচেয়েও বেশি পেয়েছি।

ন্যায্যতার ভিত্তিতে দাবি কিংবা সমদূরত্বের ভিত্তিতে অধিকার- এসব শব্দ আমি বুঝি না। আমি বুঝি দেশের একবিন্দু অধিকার ছাড়া মানে, ষোল কোটি মানুষকে তার ন্যায্য দাবি থেকে বঞ্চিত করা।

বাংলাদেশ নাকি বঙ্গোপসাগরের যতটুকু চেয়েছিলো তার চেয়ে বেশি পেয়েছে- দাবিটা আমার নয়। খোদ পররাষ্ট্রমন্ত্রী এমনটি বলেছেন। সে হিসেবে সমুদ্রসীমা নিয়ে মিয়ানমারের সঙ্গে বিরোধের রায় এসেছে বাংলাদেশের পক্ষে। কিন্তু কীভাবে? অন্তত সমুদ্র আইন বিষয়ক আন্তর্জাতিক ট্রাইব্যুনালের রায়ের কপি পড়ে এবং সেটিতে দেওয়া ম্যাপ বিশ্লেষণ করে আমার মনে হয়নি।

আমি দুটি ম্যাপ দিচ্ছি। এর প্রথমটি মিয়ানমার ও বাংলাদেশের দাবি এবং শেষটি রায় অনুযায়ী কে কতটুকুর ওপর অধিকার পাচ্ছে সে হিসাব।

এই ম্যাপে দুই দেশের চাওয়া-পাওয়া দেখা যাচ্ছে। লাল দাগ পর্যন্ত চেয়েছিলো মিয়ানমার। আর সবুজ দাগ পর্যন্ত চেয়েছিলো বাংলাদেশ। এবার দেখেন রায়ে কতটুকু এসেছে বাংলাদেশের পক্ষে।

এই ম্যাপে দেখা যাচ্চে মাঝের কালো দাগ পর্যন্ত পেয়েছে বাংলাদেশ। তাহলে কী বাংলাদেশ চাওয়ার চেয়ে বেশি পেয়েছে?

বুধবার বাংলাদেশ সময় সন্ধ্যায় সমুদ্রসীমা নিয়ে বাংলাদেশ-মিয়ানমারের সালিশ নিষ্পত্তি করে এ রায় দেন জার্মানির হামবুর্গে ইন্টারন্যাশনাল ট্রাইব্যুনাল ফর দি ল অব দি সির (আইটিএলওএস) বিচারক হোসে লুই জেসাস।

এর কিছুক্ষণের মধ্যেই পররাষ্ট্রমন্ত্রী দাবি করে বসলেন, “এটা আমাদের বিরাট বিজয়। আমরা যা যা চেয়েছি তা সবই পেয়েছি। বঙ্গোপসাগরে এক লাখ সাত হাজার বর্গকিলোমিটার চেয়ে আমরা পেয়েছি এক লাখ ১১ হাজার বর্গকিলোমিটার।”

আমার জানামতে এ ধরনের ঘটনা খুবই বিরল। কেউ চাওয়ার চেয়ে বেশি কীভাবে পায়?

পররাষ্ট্রমন্ত্রী জানালেন, এক্সক্লুসিভ ইকোনমিক জোনে ১৩০ নটিক্যাল মাইলে যে ছেদবিন্দু ছিল সেক্ষেত্রে দুইশ নটিক্যাল মাইল পর্যন্ত আমরা গমন সুবিধা পেয়েছি। সেন্ট মার্টিন দ্বীপকে ঘিরে ২১৫ ডিগ্রি অ্যাঙ্গেলে দুইশ নটিক্যাল মাইল পর্যন্ত বাংলাদেশ সমুদ্রসীমার অধিকার পেয়েছে বলেও দাবি করলেন এই নারী।

আপনারা হয়তো জানেন ২০০৯ সালের ১৪ ডিসেম্বর সমঝোতার ভিত্তিতে আইটিএলওএসে নিষ্পত্তির জন্য গিয়েছিলো বাংলাদেশ ও মিয়ানমার। আদালত সমদূরত্বের ভিত্তিতে ন্যায্যতাভিত্তিক সমাধান দিয়েছে।

তবে সব কিছুর পর আমি ভাবতেছি অন্য কথা। ভাগ্যিস পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলে বসেন নাই- আমরা পুরো মিয়ানমারই পেয়ে গেছি।

সূত্র: আইটিএলওএস