ক্যাটেগরিঃ আইন-শৃংখলা

দেশে দুর্নীতির মহোৎসব ক্রমবর্দ্ধমান হারে চলতে থাকলেও দুর্নীতিবাজের সংখ্যা (আশংকাজনক হারে!) দ্রুত কমছে। প্রকৃত ঘটনা যাই হোক আমাদের স্বঘোষিত নখ-দন্তহীন কাগুজে বাঘ তথাকথিত দুদকের সাম্প্রতিক তৎপরতা আপাতঃ দৃষ্টিতে এমন ধারণাই জন্ম দিচ্ছে। দুদকের যাদুর কাঠির অলৌকিক পরশে দুর্নীতিবাজরা যেভাবে একে একে সহী-শুদ্ধ নিষ্পাপ মহামানবে রূপান্তরিত হচ্ছেন তাতে শীঘ্রই বাংলাদেশ দুর্নীতিমুক্ত না হলেও দুর্নীতিবাজ মুক্ত হচ্ছে একথা বলাই যায়। এভাবে চলতে থাকলে নিকট ভবিষ্যতে বাংলাদেশে দুদকের আর কোন প্রয়োজন থাকবেনা। ফলে দুদকের মত একটি প্রতিষ্ঠান বিলুপ্ত করে দেশের জনগনের কিছু অর্থের অন্ততঃ সাশ্রয় করা সম্ভব হবে।

গত কিছুদিন ধরে দেখা যাচ্ছে দুর্নীতির অভিযোগে অভিযুক্ত রাঘব-বোয়ালদের আমাদের দুর্নীতি দমন কমিশন তাৎক্ষনিকভাবে এবং অত্যন্ত সাহাসিকতার সঙ্গে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য দুদকে ডেকে পাঠায়। আবুল খ্যাত সাবেক যোগাযোগ মন্ত্রী আবুল হোসেন, কাল বিড়াল খ্যাত সাবেক রেল মন্ত্রী বাবু সুরঞ্জিত সেন গুপ্ত থেকে শুরু করে অসংখ্য হোমরা-চোমরাকে দুদক নিজস্ব কার্যালয়ে ডেকে এনে জিজ্ঞাসাবাদ করেছে। জিজ্ঞাসাবাদে কি জানা গেছে তা জানার কারো উপায় না থাকলেও দুদক তাদের সকলকে দুর্নীতির দায় থেকে মুক্তি দিয়েছে। শোনা যাচ্ছে হলমার্ক কেলেঙ্কারী এবং পদ্মাসেতু কেলেঙ্কারীর ঘটনায়ও দুদক আরো বেশ কয়েকজন উপদেষ্ঠা, মন্ত্রী এবং কর্মকর্তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করবে। সাধারণ মানুষ প্রায় নিশ্চিত যে দুদক যাদের জিজ্ঞাসাবাদ করবে এরা সকলেই দুর্নীতির দায় থেকে মুক্ত হয়ে ফিরে আসবেন। পত্র পত্রিকার খবর এবং বিভিন্ন ঘটনা প্রবাহ এদের দুর্নীতি নিয়ে যত অকাট্য প্রমানই তুলে ধরুক না কেন দুদকের কাছে এর কোনটি যাচাই করার ইচ্ছা, প্রয়োজন কিংবা ক্ষমতা নেই। আবুল হোসেন ও সুরঞ্জিত বাবুদের মত এরা সবাই তাই দুদকের জিজ্ঞাসাবাদ নামক যাদুর কাঠির পরশে রাতারাতি দুর্নীতিমুক্ত সাধু পুরুষ হিসাবে সার্টিফিকেট নিয়ে পুনরায় বাংলাদেশের রাজনীতি এবং অর্থনীতিতে নিজ নিজ দক্ষতা (?) অনুযায়ী অবদান রাখতে সক্ষম হবেন। দেশে যারা দুর্নীতির বিরুদ্ধে কথা বলেন তাদেরও উচিত সমস্ত দুর্নীতিবাজদের দুদকের জিজ্ঞাসাবাদ কমিটির সামনে দাঁড় করিয়ে দেয়া। যাতে তারা সবাই দুর্নীতির অভিযোগ থেকে মুক্ত হয়ে একটি দুর্নীতিবাজ মুক্ত বাংলাদেশ গড়তে ভূমিকা রাখতে পারে।