ক্যাটেগরিঃ নাগরিক আলাপ

শনিবার রাতেই জানতে পারলাম রবিবার হরতাল ডেকেছে ইসলামী দলগুলো। হরতালের যৌক্তিকতা এবং হরতাল আহ্বানকারীদের সাংগঠনিক শক্তি বিবেচনায় প্রথম প্রতিক্রিয়ায় অবজ্ঞার হাসি হাসলাম। হরতালের চিন্তা বাদ দিয়ে দিনের কর্মসূচী যথারীতি স্বাভাবিক রাখলাম। সহধর্মিণীর কৌতূহলের জবাবে বললাম, `আজকাল একদিনের নোটিশে বিএনপি’র হরতালই যেখানে হয়না সেখানে হুজুরদের এই হরতাল আর কী হবে।’

কিন্তু রবিবার সকালে প্রথমেই ভুল ভেঙ্গে গেল যখন ছেলেকে নিয়ে মোটরসাইকেলে করে স্কুলের উদ্দেশ্যে বাসা থেকে বের হলাম। রাস্তায় গাড়ির স্বল্পতা এবং স্কুলের সামনে প্রতিদিনের গাড়িজট নেই দেখে মনে হল হরতাল কিছুটা হচ্ছে। কিন্তু দিনশেষে যে এক বিষ্ময় আমার জন্য অপেক্ষা করছিল তা তখনো ভাবিনি। সারাদিন বিভিন্ন স্থান থেকে স্বতঃস্ফূর্ত হরতালের খবর পেলাম। এমনকি গ্রামের বাড়ী থেকে খবর পেলাম অস্বাভাবিক স্বতঃস্ফূর্ততায় সেখানেও হরতাল পালিত হচ্ছে। সন্ধ্যায় টেলিভিশনের খবরেও হরতালের অপ্রত্যাশিত স্বতঃস্ফূর্ততার দৃশ্য দেখলাম। মহানগরীগুলোতে ছুটির আমেজ তৈরী সৃষ্টি কারী এই হরতাল নিয়ে দিনভর আলোচনায় অধিকাংশ মানুষকে ইতিবাচক মন্তব্য করতেই শোনা গেল। ইলেক্ট্রনিক মিডিয়ার উপেক্ষা সত্বেও সাধারণ মানুষের মধ্যে এই হরতাল যে আবেদন তৈরী করেছে তাতে আমার মতো অনেকেই হতবাক। অনেকেই হয়তো এটিকে ধর্মান্ধতা, সাম্প্রদায়িকতা, প্রতিক্রিয়াশীলতা, রাজনীতি, সংকীর্ণতা, উগ্রতা কিংবা অজ্ঞতা বলবেন। কিন্তু ইসলামের প্রতি বাংলাদেশের বিশ্বাসী মুসলমানদের ভালবাসা এই হরতালে প্রমাণিত হয়েছে আরেকবার।