ক্যাটেগরিঃ রাজনীতি

মায়ানমারের সাথে সমুদ্র সীমানার মামলায় বাংলাদেশের বিজয়ের খবরে আনন্দে আত্মহারা হয়ে গিয়েছিলাম। বর্তমান সরকার ক্ষমতায় আসার সাথে সাথে ব্যক্তিগত ভাবে আমি মনে করতাম তাদের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হবে ভারত ও মায়ানমারের সাথে সমুদ্র সীমা ফয়সালা করা। এ ব্যাপারে সরকারের শুরুটাও ছিল বেশ প্রশংসিত। বিশেষজ্ঞরা সরকারের সেই ভূমিকায় আশান্বিত হয়েছিলেন। আমরা সমুদ্র সীমানা নির্ধারণে একটি শান্তিপূর্ণ সমাধানই মাত্র চেয়েছিলাম। আমাদের ন্যায্য দাবী অনুযায়ী আন্তর্জাতিক সালিসী কর্তৃপক্ষ যে রায় দিবে তা মেনে নেয়ার বাধ্যবাধকতা সম্পর্কেও আমরা সচেতন ছিলাম। বাড়তি কিছু পাওয়ার আশা আমাদের কারোই ছিলনা। প্রত্যাশা ছিল আমাদের ন্যূনতম হিস্যা যেন আমরা পাই।

অথচ রায় ঘোষণার পর তাৎক্ষনিকভাবে বাংলাদেশের মিডিয়ায় পররাষ্ট্রমন্ত্রীর বরাত দিয়ে যে সংবাদ প্রচার হল তাতে আমরা আনন্দের উচ্ছাসে ভেসে গেলাম। প্রচার করা হল, বাংলাদেশ দাবীকৃত অংশের চেয়েও অনেক বেশী পেয়েছে। সরকার ব্যাপকভাবে প্রচার করল, এই বিজয়ের মাধ্যমে ভারতের সাথে মামলায়ও বাংলাদেশ বড় ধরনের সুবিধা পাবে। এমন খবরে খুশিতে উদ্বেলিত বন্ধু-বান্ধবরা পরস্পরকে ফোন করে অভিনন্দিত করলাম। অনেকে মিষ্টিমুখ করল। আমাদের মত সমগ্র দেশবাসী আনন্দিত হলেন। আনন্দ মিছিল হল কত!

প্রাথমিক প্রতিক্রিয়ার পর একজন সচেতন সংবাদ-কর্মী হিসাবে এই সংবাদের জাতীয় এবং আন্তর্জাতিক ফলোআপগুলো পর্যালোচনা করতে লাগলাম। আশ্চর্য হয়ে লক্ষ্য করলাম, মায়ানমারের সংবাদ মাধ্যমগুলো এই রায়কে তাদের বিজয় বলে অভিহিত করছে। সেখানেও চলছে মহা আনন্দের বন্যা। মহাদ্বন্ধে পড়ে গেলাম, উভয় পক্ষ যদি সমান সমান পায় তাহলে উভয় পক্ষের আনন্দের যৌক্তিকতা থাকে। কিন্তু বাংলাদেশ যদি দাবীর চেয়ে বেশী পায় তাহলে মায়ানমার এত খুশী কেন? তবে কি `ডালমে কুছ কালা হ্যায়’?

অবশেষে থলের বিড়াল বেরিয়ে এল। আমরা জানতে পারলাম বাংলাদেশ বাড়তি কিছুতো পায়নি বরং দাবী কৃত সীমানায়ও যেতে পারেনি। তদুপরি কোন কোন অংশে আমাদের সীমানা আগের চেয়ে কমে গিয়েছে। অথচ কী নির্লজ্জ ভাবে আমাদের শতদেশ ভ্রমণকারী মহাপণ্ডিত পররাষ্ট্র মন্ত্রী এবং তার (অতি সত্যবাদী) নেত্রী ও নেতারা অবলীলায় মিথ্যাচারের মাধ্যমে দেশের মানুষকে কী বোকাটাই না বানালেন!

এবার পদ্মা সেতু নিয়ে বিশ্বব্যাংকের কাছে চুরিতে ধরা পড়ার পরও একই রকমের মিথ্যাচারে লিপ্ত হল সম্ভবত বিশ্বের সর্বাপেক্ষা দুর্নীতিবাজ এই সরকারটি। এদের এমন মিথ্যাচারের শেষ কোথায়?