ক্যাটেগরিঃ রাজনীতি

প্রায় এক সপ্তাহ হতে চলল রামু’র বিভীষিকাময় সেই কালো রাতের। ক্ষতের চিহ্ন এখনো দগদগে। তবে বৃষ্টিতে ধুয়ে যাওয়া বাতাসে নেই আর পোড়া গন্ধ। হয়তো শীঘ্রই স্বাভাবিক হয়ে আসবে রামুর জনজীবন। আবারো সকলে মিলে তৈরী করবে সম্প্রীতির বাংলাদেশ। আশা করি সময়ের ব্যবধানে সকলে ভুলে যাবে দুঃসপ্নের সেই স্মৃতি।

কিন্তু ঘটনার রহস্য নিয়ে এখনো কাটেনি সাধারণ মানুষের বিস্ময়ের ঘোর। এখনো ভেবে কূল পাইনা কেন এই উন্মত্ততা? কী রহস্য লুকিয়ে আছে শান্তি দাহক এই আগুনের লেলিহান শিখায়? বিভিন্ন মহল থেকে একে-ওকে দায়ী করা হলেও ঘটনার প্রকৃত রহস্য এখনো অজানা। আমাদের পণ্ডিত স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী প্রথম দফায় জামায়াত-শিবিরকে দায়ী করার পর বিএনপি’র স্থানীয় লোকদেরও অভিযুক্ত করলেন। কেউবা রোহিঙ্গাদের দিকে অঙ্গুলী নির্দেশ করছেন। আন্তর্জাতিক জঙ্গিদের কথাও বললেন সরকারের দায়িত্বশীল আসন দখল করে বসা কেউ কেউ। আবার কেউ কেউ সরাসরি সরকারী দলের ক্যাডারদেরও দায়ী করছেন। আমাদের করিতকর্মা মানবাধিকার কমিশন চেয়ারম্যান তো বললেন, সরকারের গোয়েন্দারা আগে থেকে জানত। কিন্তু তারা সন্ত্রাসীদের হামলা প্রতিরোধে ব্যবস্থা নেয়নি। ফলে সন্দেহগ্রস্থ অনেকে এর পেছনে সরকারের অজ্ঞাত দূরভিসন্ধি খুঁজে ফিরছে। তবে যে যাই বলুক এক শ্রেনীর সুযোগ সন্ধানী এই ঘটনায় অংশ নিয়েছে এটা নিশ্চিত। কিন্তু মূলতঃ কাদের ইন্ধনে এমন তান্ডব তা জানতে সবাই উদগ্রীব। তদন্তে সরকার কী করছে তা স্পষ্ট না হলেও দৃশ্যতঃ দেশী-বিদেশী মিডিয়ার কর্মীরা বের করার চেষ্টা করছেন ঘটনার হোতাদের। ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শীদের কাছে জানতে চাইছেন জড়িতদের নাম পরিচয়। মিডিয়ার কাছে বিভিন্ন জন বিভিন্ন রকম বক্তব্য দিচ্ছেন। যা কোন কোন ক্ষেত্রে ভবিষ্যত সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির জন্য হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে। সুযোগ সন্ধানীদের হাতে মারণাস্ত্র তুলে দেয়ার মত অপরিণামদর্শী বক্তব্যও দিচ্ছেন অনেকে। তবে এরই মাঝে একটি টিভি চ্যানেলের নিউজে বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের স্থানীয় এক নেতার বক্তব্য শুনলাম। সংবাদকর্মীর প্রশ্নের জবাবে তিনি বললেন, “এ নিয়ে আমরা আর কাদা ছোঁড়াছুড়ি করতে চাইনা ”। তরুণ বড়ুয়া নামের এই বৌদ্ধ নেতা ভবিষ্যতে যাতে আর এমন ঘটনা না ঘটে সেজন্য সবাইকে সতর্ক থাকার পরামর্শও দিলেন।

তরুন বড়ুয়ার কথা শুনে আমি মুগ্ধ হলাম। এমন সুচিন্তিত দূরদর্শী বক্তব্য একজন প্রান্তিক নেতার মুখ থেকে আমরা আশা করতে শিখিনি। আমাদের অসহিষ্ণু রাজনৈতিক নেতারা যেখানে একটি ঘটনা ঘটলেই দোষারোপের রাজনীতিতে মেতে উঠেন। পানি ঘোলা করে মাছ শিকারের পুরনো খেলা যেখানে এখনো জনপ্রিয়। সেখানে আক্রান্ত সম্প্রদায়ের একজন নেতার মুখে এমন বক্তব্য অন্তত আমাদের সমাজে অপ্রত্যাশিত।

কিছু সংখ্যক দুর্বৃত্তের উন্মাদনা বৌদ্ধ বন্ধুদের কাছে আমাদের ছোট করে দিয়েছে। ম্লান করে দিয়েছে আমাদের হাজার বছরের সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির ঐতিহ্য আর গৌরব। হেরে গেছি আমরা, কিন্তু জিতে গেছেন তরুন বড়ুয়া। অভিনন্দন আপনাকে, তরুন বড়ুয়া।