ক্যাটেগরিঃ আন্তর্জাতিক

শুধু বাংলাদেশ নয় গত দু’দিন বিশ্বজুড়ে অন্যতম আলোচিত এক নাম নাফিস। মাত্র ২১ বছরের এই ছেলেটি না-কি আমেরিকার বিরুদ্ধ যুদ্ধে নেমেছে। আমেরিকার এফবিআই-পুলিশ বলছে নাফিস বড় ধরনের সন্ত্রাসী হামলার পরিকল্পনা করছিল। অভিযোগে বলা হয়েছে, নাফিস এক হাজার পাউন্ড ওজনের বোমা দিয়ে নিউইয়র্কের ফেডারেল রিজার্ভ ব্যাংক ভবন উড়িয়ে দেয়ার চেষ্টা করেছিল। ইতিমধ্যেই নাফিসকে ব্রুকলিন আদালতে হাজির করা হয়েছে এবং আদালতের নির্দেশে তাকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

নানা ইস্যুতে বাংলাদেশ যখন বিশ্বব্যাপী ইমেজ সংকটে ভুগছে ঠিক তখনই এমন একটি ঘটনা সত্যিই বিপর্যয়কর। এ্ই ঘটনা পশ্চিমা বিশ্বে বাংলাদেশের ভাবমূর্তির ভয়াবহ রকমের বিপর্যয়ের আশংকা তৈরী করেছে। তবে বিষয়টি নিয়ে খোদ আমেরিকাসহ সারা বিশ্বে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। মাত্রই গত ডিসেম্বরে পড়ালেখার উদ্দেশ্যে আমেরিকায় যাওয়া এই তরুণ কী করে এতবড় ঘটনায় নিজেকে জড়ালো তা নিয়ে রয়েছে নানা সংশয়। দেশে নর্থ-সাউথ ইউনিভার্সিটিতে অধ্যয়ন কালে তার কোন ধরণের জঙ্গি সংশ্লিষ্টতা বা কোন ধরনের রাজনৈতিক তৎপরতার খবর পাওয়া যায়নি। আমেরিকাতে নাফিসের সহপাঠী কিংবা প্রতিবেশীরাও এমন কোন তথ্য দিতে পারেনি। ঢাকায় নাফিসের পরিবার মিডিয়ায় বলছে, তাকে কোনভাবে ফাঁসানো হয়েছে।

নাফিসের বাবা বললেন, যে ছেলে একা ঘরের বাইরে যেতেই ভয় পেত সে এমন কান্ড করতেই পারেনা।

তাহলে রহস্যটা কী? তা জানতে হয়তো আমাদের আরো কিছু দিন অপেক্ষা করতে হবে। এরমধ্যে কিছু খবর সংবাদ মাধ্যমে এসেছে। যেমন-
নিউইয়র্ক টাইমসের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পুলিশের ভাষ্যমতেই এফবিআইর এজেন্ট ও ইনফরমার এ ধরনের অপারেশন চালাতে নাফিসকে উত্সাহিত করেছেন, তাকে নির্দেশনা দিয়েছেন, অর্থ দিয়েছেন, এমনকি হামলা চালাতে প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম পর্যন্ত সরবরাহ দিয়েছেন।

এক্ষেত্রে নিউইয়র্ক টাইমস ২০০৯ সালের একটি ঘটনার প্রসঙ্গ উল্লেখ করেছে। ওই বছর বেশ কয়েকজন ব্যক্তি ব্রনক্সে রিভারডেল সেকশনে একটি উপাসনালয়ের সামনে বাসায় তৈরি বোমা স্থাপন করেছিল। ওই ঘটনায় ৪ জনকে অভিযুক্ত করা হয়। তাতেও সরকারি ইনফরমারের ভূমিকা ছিল। এ মামলাটি যে বিচারক দেখছিলেন, তিনি এতে আইন প্রয়োগকারী এজেন্টদের ভূমিকার সমালোচনা করেন। ওই এজেন্টরা ওই ব্যক্তিদের বোমা পাতার পরিকল্পনা সামনে এগিয়ে নিতে সহায়তা করেছিল। বিচারক তাই সমালোচনায় বলেছিলেন, ‘দ্য গভর্নমেন্ট মেড দেম টেররিস্টস’ (সরকার তাদের সন্ত্রাসী বানিয়েছে)।