ক্যাটেগরিঃ আন্তর্জাতিক

শান্তির ধর্ম ইসলাম যেমন কিছু সংখ্যক নামধারী মুসলমানের অপকর্মের কারণে দেশ-বিদেশে বদনামের শিকার তেমনি ”অহিংসা পরম ধর্ম” যে ধর্মের মূল বানী সেই বৌদ্ধ ধর্মের অনুসারীরা দেশে দেশে মুসলমানদের বিরুদ্ধে সহিংস সাম্প্রদায়িকতার প্রতিমূর্তি হয়ে উঠেছে। মায়ানমার, শ্রীলংকা, থাইল্যান্ড এমনকি চীনেও বৌদ্ধদেরই হাতে চরম নিগ্রহের শিকার মুসলমানরা। আমাদের প্রতিবেশী দেশ মায়ানমারে রোহিঙ্গা মুসলমানরা আজ চরম বিপর্যয়ের মুখোমুখি। সাম্প্রদায়িক সহিংসতার মুখে পড়ে হাজার হাজার মুসলিম নির্বিচার হত্যাকাণ্ডের শিকার। ঘর-বাড়ী ছাড়া হাজার হাজার মানুষ বন-জঙ্গল আর সমুদ্রে জীবন বাজী রেখে ভাসমান। মুসলমানদের ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানগুলো তাদের বাড়ী-ঘরের মতই সাম্প্রদায়িকতার অগ্নিশিখায় জ্বলছে। মায়ানমারের বৌদ্ধ সরকার রাখাইন বৌদ্ধদের এই বিধ্বংসী কর্মকাণ্ডে শুধু নিরবই নয়, বরং তাদের বিরুদ্ধেও অভিযোগের আঙ্গুল।

বৌদ্ধ প্রধাম শ্রীলংকায় সংখ্যালঘু মুসলমানরা নিজ মাতৃভূমিতে অঘোষিত ভাবে দ্বিতীয় শ্রেনীর নাগরিক। সংখ্যাগুরু বৌদ্ধ সরকারের বৈষম্যমূলক আচরনের শিকার শ্রীলংকার মুসলমানরা। থাইল্যান্ডে পাত্তানীর এক সময়ের মুসলিম সালতানাত আজ থাই বৌদ্ধদের নির্মমতার শিকার। চীনের উইঘুর মুসলমানরা হান বৌদ্ধদের আগ্রাসনের মূখে নিজ বসত ভিটা থেকে উচ্ছেদ হয়ে অস্তিত্বের হুমকিতে।

আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংগঠনগুলোর রহস্যজনক নমনীয়তা এবং গনতন্ত্রের পশ্চিমা ফেরীওয়ালাদের উদ্দেশ্যমূলক নিরবতা দেশে দেশে মুসলিম বিদ্বেষী বৌদ্ধদের আরো উস্কে দিচ্ছে। কোন একটি মুসলিম দেশে পান থেকে চুন খসলেই ওদের হাঁক-ডাক শুরু হয়। শুরু হয় যুদ্ধ। অথচ মুসলমানরা যখন সহিংসতার শিকার তখন তারা নিরব।