ক্যাটেগরিঃ আন্তর্জাতিক

 

একথা সত্য যে আমেরিকার মত দেশে প্রেসিডেন্টের পরিবর্তন তাদের বিদেশ নীতিতে খুব বেশী একটা পরিবর্তন ঘটায়না। গত কয়েকদিন ধরে বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশেষজ্ঞ, সাবেক কূটনীতিক, সাংবাদিক-বুদ্ধিজীবি এবং বিজ্ঞ বিশ্লষকগণ পত্রিকা কিংবা টিভি টক শো’তে এমন মতামত প্রকাশ করলেও এদের প্রায় সকলে শেষ পর্যন্ত ওবামার জয়ই প্রত্যাশা করেছেন তাদের বক্তব্যে। কেউ কেউ বলছেন বাংলাদেশের ৯০ ভাগ মানুষই ওবামার সমর্খক। এশিয়া আফ্রিকার অধিকাংশ মানুষেরও প্রত্যাশা ছিল ওবামার জয়। কিন্তু কেন একটি ভিন্ন দেশের প্রেসিডেন্ট নির্বাচন নিয়ে বিশ্ববাসীর এই আগ্রহ? শুধুমাত্র আমেরিকা পরাশক্তি বলে? কেন ওবামার প্রতি বিশ্বব্যাপী শতকোটি মানুষের এই সমর্থন? শুধুমাত্র কালো মানুষ বলে? নিশ্চয়ই নয়।
বলা হয়ে থাকে আমেরিকার রাজনীতির সবচেয়ে বড় নিয়ন্তা হল ইহুদীবাদী শক্তি।অস্বাভাবিক ব্যয়বহুল মার্কিন নির্বাচনে বিনিয়োগকৃত দাদন শোধের দায়ে প্রায় প্রতিটি মার্কিন সরকার ইহুদীদের ক্রীড়নকে পরিণত হয়।কিন্তু ওবামাকে কিছুটা হলেও ব্যতিক্রম বলে মনে হয়। তবুও ইহুদীদের অর্থে প্রভাবান্বিত মার্কিন রাজনীতির উত্তরাধিকার থেকে পুরোপুরি মুক্ত হতে না পারলেও সাম্প্রতিক সময়ে ইসলাইলী প্রধানমন্ত্রীর সাথে সাক্ষাৎ না করা এবং পুরো মেয়াদে একবারও ইসরাইল সফর না করে ইহুদীদের চরম বিরাগভাজন হন ওবামা। ফলে এবারের নির্বাচনে ওবামা রিপাবলিকান রমনি’র প্রতিদ্বন্ধিতার চেয়েও বেশী কঠোর চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছিলেন ইহুদীদের পক্ষ থেকে। এবার ওবামাকে হারাতে ইহুদীরা তাদের সর্বোচ্চ প্রচেষ্টা চালিয়ে ব্যর্থ হয়েছে। শেষ পর্যন্ত ওবামার জয়ে মার্কিন রাজনীতিতে ইহুদী প্রভাব খানিকটা হলেও কমবে বলে আশা করা যায়।

দ্বিতীয়তঃ নির্বাচনী প্রচারাভিযান কালে মিট রমনি যে ভাষায় কথা বলেছেন তা বিশ্বের কোটি কোটি মানুষের মনে ভয় ধরিয়ে দিয়েছে। ইরান ও সিরিয়াকে বাগে আনতে মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ভের হুংকার এবং চীনের সাথে বিরোধে জাড়ানোর ঘোষনা দিয়ে রীতিমত আতংক সৃষ্টি করেন তিনি। সামারিক ব্যয় বৃদ্ধির ঘোষনা এবং ইহুদীদের সাথে তার সখ্য পুরো মুসলিম দুনিয়ায় রিপাবলিকানদের সাম্প্রতিক ইরাক ও আফগান অভিযানের কথা স্মরন করিয়ে দিচ্ছিল। তুলনায় ওবামার নমনীয় এবং যুদ্ধ এড়ানো মনোভাব তার প্রতি বাকি বিশ্বের মানুষের সমর্থন যুগিয়েছে। ফলে মার্কিন নির্বাচনে সরাসরি অংশ গ্রহন না করলেও যুদ্ধ ও সংঘাত বিমুখ শান্তিকামী বিশ্ববাসীর আশির্বাদ ও দোয়া ওবামার সাথেই ছিল। আর ওবামার জয়ে স্বস্তিও এসেছে তাদের মাঝে। ইহুদীবাদীদের আপাতঃ পরাজয় স্বস্তির আর এক কারন।