ক্যাটেগরিঃ রাজনীতি

সম্প্রতি জামায়াতকে নিয়ে সরকারের মারমূখী আচরন, জামায়াতের সহিংস প্রতিক্রিয়া এবং মিডিয়ায় জামায়াতকে নিয়ে প্রচারিত খবরের আধিক্য একজন সাধারণ নাগরিক হিসাবে আমারও মনে একটি প্রশ্ন জন্ম দিয়েছে। আজন্ম জনবিচ্ছিন্ন জামায়াত একাত্তরে তাদের ঘৃণ্য ভূমিকার জন্য এমনিতেই অপাংতেয়।আমাদের দেশের বামপন্থী রাজনীতিবিদরা যেমন নিজেদের একমাত্র পন্ডিত মনে করেন তেমনি জামায়াতের লোকজনও নিজেদের একমাত্র সঠিক পথের দিশারী বলে দাবী করেন। অন্যদের মনে করেন বিপথগামী। জামায়াতের লোকজনকে সাধারণত সমাজের অন্য মানুষদের সাথে সচরাচর খুববেশী একটা মিশতে দেখা যায় না। জামায়াত কর্মীদের সামাজিক কর্মকাণ্ড কিংবা গনমূখী কোন তৎপরতায় আমরা দেখি না। শুধু দাওয়াতী কজে ব্যস্ত ওনারা।জামায়াতের সৎ ও যোগ্য লোক তৈরীর কর্মসূচিও আজ অচল। রাজনীতিতে তাদের আনাড়ি সিদ্ধান্তগুলো সর্বদা তাদের অযোগ্যতাকে নগ্নভাবে উপস্থাপন করেছে।

জন্মলগ্ন থেকে আজ অবধি জামায়াতের দু’চারটি সিদ্ধান্ত বা কর্মসূচী ছাড়া সবকটিই ছিল দেশের মানুষের প্রত্যাশার বিপরীত। এর মধ্যে একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধে ন্যাক্কারজনক ভূমিকা এবং ৯৬ এ আওয়ামীলীগের সাথে জোট বেধে নৈরাজ্য জনক আন্দোলনে অংশ নেওয়া জামায়াতের চরম জনবিমুখতাকে প্রমান করে। একাত্তরের ভূমিকার জন্য জামায়াত এদেশে রাজনীতি করার নৈতিক অধিকারই হারিয়েছে। আর ৯৬ এর ভূমিকার জন্য আজ তো জামায়াতকে চরম মূল্যই দিতে হচ্ছে। তত্ত্বাবধায়ক সরকার ইস্যুর আন্দোলনে বিএনপি’র বিরুদ্ধে আওয়ামী লীগের ফাঁদে পা দিয়ে জামায়াত জাতীয়তাবাদী ও ইসলামী মূল্যবোধে বিশ্বাসী বাংলাদেশী জনগনের আস্থা ও বিশ্বাস ধ্বংস করে। এরপর সংসদে তিন আসনের অধিকারী হয়ে ঠুটো জগন্নাথে পরিণত হয় জামায়াত। আমার ধারনা এই ঘটনার পর জামায়াত আক্ষরিক অর্থেই জনবিচ্ছিন্ন একটি কর্মী নির্ভর দলে পরিনত হয়। তদুপরি ২০০১ এর নির্বাচনে বিএনপি সরকারের অংশীদার হয়ে জামায়াত তাদের আদর্শিক স্বাতন্ত্রটুকুও ধংস করে ফেলেছে। বিএনপি সরকারের বল্গাহীন দূর্নীতির বিরুদ্ধে একটি কথাও না বলে জামায়াত নিজেদের নৈতিক অবস্থানকে আরো দূর্বল করেছে। তাছাড়া মাঠ পর্যায়ে জামায়াতের লোকদের একটি অংশকে বিএনপি’র লোকজনের সাথে মিলে টাকা কামানোর ধান্ধায় মেতে উঠতে আমরা দেখেছি। যে আদর্শকে ধারণ করে জামায়াতের রাজনীতি শুরু সেই আদর্শ থেকে এখন জামায়াত বহুদূরে।আদর্শিক কারণে যারা জামায়াতকে ভালবাসতেন, জামায়াতের রাজনৈতিক ভুলগুলোকে ক্ষমাসুন্দর দৃষ্টিতে দেখতেন তারাও এখন জামায়াতের ভূমিকায় বিরক্ত। মেধাশূন্য নেতৃত্বের গতানুগতিক রাজনীতি নতুন প্রজন্মকেও কাছে টানতে পারছেনা আর।

যুদ্ধাপরাধ ইস্যুতে এখন নিজেদের নেতাদের মুক্তির দাবী নিয়ে জামায়াত যে ধরনের কর্মসূচী পালন করছে তার অনিবার্য ফলাফল শূণ্য। সন্ত্রাসী আর মাস্তান নির্ভর আওয়ামী লীগকে বেকায়দায় ফেলার মত ব্যাপক আন্দোলন গড়ে তোলার মত বিপুল জনসম্পৃক্ততা জামায়াতের নেই। একসময় জামায়াত-শিবির কর্মীদের আত্মত্যাগের যে মনোভাব ছিল বর্তমানে জাগতিক কর্মকাণ্ড ব্যাপক ভাবে জড়িয়ে তা-ও অনেকটা স্তিমিত।জামায়াতের মাঝারি পর্যায়ের নেতাদের একটি অংশ ব্যবসা বানিজ্যে জড়িয়ে সাংগঠনিক দায়িত্ব পালনে পেছনের কাতারের সৈনিকে পরিণত হয়েছেন।
এমতাবস্থায় জামায়াতের রাজনীতি এমনিতেই ক্রমশঃ দুর্বল হয়ে পড়ছে। প্রতিনিয়ত ছোট হয়ে আসছে জামায়াতের মিছিলগুলো। অস্তাচলগামী এই জামায়াতকে নিয়ে কেন এত উদ্বেগ? কেন মিডিয়া-ব্লগে এত মাতামাতি?