ক্যাটেগরিঃ চারপাশে

 

সাভারে গার্মেন্টস ফ্যাক্টরির আগুন আর চট্টগ্রামে ফ্লাইওভার ধ্বসের সংবাদটি প্রথম যখন শনিবার রাতের খবরে শুনলাম তখন মৃতের সংখ্যা সাভারে নয়জন আর চট্টগ্রামে ২ জন। মর্মান্তিক দুই খবরে মনটা খারাপ হয়ে গেল। কিন্তু রবিবার সকালে দুটি ঘটনায় হতাহতের খবর শুনে বজ্রাহতের মত স্তব্ধ হয়ে গেলাম। এমন বিপর্যয় কীভাবে হলো? বার বার মনে হচ্ছিল, আমি যদি আজ ঐ গার্মেন্টস কারখানার একজন কর্মি হতাম। যদি ওদের মত আমারও মৃত্যু হত। পুড়ে মরার মৃত্যুটা কত কষ্টের তা ভাবতেই বার বার চোখ দু’টো সিক্ত হয়ে উঠছিল বার বার। অথবা আমার কোন স্বজন যদি আজ সেখানে মরে কয়লা হয়ে যেত। পুড়ে যাওয়া সেই কয়লার স্তুপ থেকে যদি আমার কোন স্বজনের লাশ সনাক্ত করতে না পেরে খালি হাতে বাড়ী ফিরতে হত তাহলে আমার কেমন লাগত? অথবা চট্টগ্রামে ফ্লাই ওভারের কাছে যদি আমার বাড়ী হত। সন্ধ্যায় যদি ফ্লাইওভারের নীচে সেই কাঁচা বাজারে বাজার করতে গিয়ে গার্ডারের চাপায় পড়ে মারা যেতাম। অথবা আমার কোন স্বজন যদি গার্ডারের নীতে অর্ধমৃত অবস্থায় আটকা পড়ে বাঁচার আকুতি জানাতে জানাতে নিঃশেষ হয়ে যেত আমারই চোখের সামনে। তাহলে আমার কেমন লাগত। এসব ভাবতে ভাবতেই আজ সারা দিন কেটেছে।
দিনের পর দিন আমার দেশে একটার পর একটা মানব সৃষ্ট বিপর্যয় ঘটেই চলেছে। বেপরোয়া চালকের গাড়ীর চাকায় পিষ্ট হয়ে, সন্ত্রাসীর বন্দুকের গুলীতে, রাজনীতির প্রতিহিংসায় কিংবা স্বার্থের বলি হয়ে প্রতিদিন অকালে মরছে অসংখ্য মানুষ। যে পদ্মা, মেঘনা, যমুনা, সুরমা, করতোয়ায় ভাসতো এক সময় পাল তোলা নৌকা সেই সব নদীতে এখন ভাসে দুর্ভাগা মানুষের লাশ। যেই নদীর বুকে এক সময় মাঝি মনের আনন্দে গেয়ে উঠতো ভাটিয়ালি আর ভাওয়াইয়া সেই নদীর তীরে এখন প্রতিদিন বাবা হারা সন্তানের কান্না, স্বামী হারা স্ত্রীর বিলাপ আর সন্তান হারা মা-বাবার আহাজারি। ক্রমে যেন বেড়ে চলেছে অনাকাংখিত মৃত্যুর মিছিল। স্বাভাবিক মৃত্যুর গ্যারান্টি কে দিবে?

কিন্তু এভাবেই কি চলবে? এভাবে কি চলতে পারে? একটি সভ্য সমাজ কী ভাবে সহ্য করে এমন অরাজকতা? খুনীদের কি কোনই শাস্তি নেই এই দেশে?

সাভারের এই যে গার্মেন্টস শ্রমিকদের মৃত্যু আর চট্টগ্রামের ফ্লাইওভার চাপায় মৃত্যু, এগুলো কি খুন নয়? যেই প্রোডাকশন ম্যানেজার `কিছুই হয়নি’ বলে আগুন লাগার পরও শ্রমিকদের কারখানা থেকে বের হতে দেয়নি সে কি খুনী নয়? ফ্লাই ওভারের যেই কন্ট্রাক্টর নিম্নমানের নির্মান সামগ্রী ব্যবহার করে কিংবা ত্রুটিপূর্ণ প্রক্রিয়ায় নির্মান কাজ চালাচ্ছিল সে কি খুনী নয়? এদের কি কোনই শাস্তি হবে না? অন্য অনেকের মত এরাও কি পার পেয়ে যাবে?

দেশের লক্ষ কোটি কারখানা শ্রমিক আর কোটি কোটি পথচারীকে বাঁচাতে এই প্রোডাকশন ম্যানেজান আর ঠিকাদারের বিচার চাই। চাই এদের দৃষ্টান্ত মূলক শাস্তি। শত কন্ঠে আওয়াজ তুলুন, এদের ফাঁসি চাই।