ক্যাটেগরিঃ অর্থনীতি-বাণিজ্য

 

পদ্মাসেতু কেলেঙ্কারী নিয়ে বিশ্বব্যাংকের সাথে রীতিমত যুদ্ধে নেমেছে দুদক। অভিযুক্তদের মধ্য থেকে শুধুমাত্র আবুল হোসেনকে বাদ দিতে দুদকের অনড় অবস্থান পদ্মাসেতুতে বিশ্বব্যাংকের অর্থায়নকেই ঘোরতর অনিশ্চয়তার দিকে ঠেলে দিয়েছে। নিজেদের অনুসন্ধানে যাদের বিরুদ্ধে দূর্নীতির ষড়যন্ত্রের অভিযোগ প্রমানিত তাদের বিরুদ্ধেই মামলায় অনিহা দুদকের। সরকারের অন্যতম নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি আর এতবড় প্রেস্টিজ ইস্যু বিসর্জন দিয়ে দুদকের এই অবস্থানকে `থলের বিড়াল’ বের হতে না দেবার প্রয়াস বলে মনে করা অসংগত নয়। আমরা আগেও দেখেছি সরকার পদ্মাসেতু কেলেঙ্কারী নিয়ে সকল প্রকার তদন্ত রাজনীতিবিদদের বাদ দিয়ে শুধুমাত্র সরকারী কর্মকর্তাদের মাঝে সীমাবদ্ধ রাখতে জেদ ধরে। অথচ বিশ্বব্যাংকের অভিযোগের আঙ্গুল বরাবরই আবুলদের দিকে। কিন্তু আবুলদের বাঁচাতে পুরো সরকার বিশ্বব্যাংকের বিরুদ্ধে দাঁড়িয়ে গেল। সরকারের প্রত্যক্ষ অংশ না হয়েও `নখ দন্ত হীন’ দুদক আবুলদের বাঁচাতে সকল নীতি-নৈতিকতা দু’পায়ে দলে নগ্ন লেজুড়বৃত্তিতে মগ্ন। কোথাকার কোন আবুলকে বাঁচাতে রাষ্ট্রের একটি সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানের এত তোড়জোড় কি অস্বাভাবিক নয়? আবুলদের কথায় বা আবুলদের বাঁচাতে দুদক এতবড় যুদ্ধে নামবে তা সাধারণের মনে হয় না। `কান টানলে মাথা আসে’ তাই মাথা নিরাপদ রাখার জন্য কানকে ধরা-ছোঁয়ার বাইরে রাখতেই যেন দুদকের প্রানান্ত প্রচেষ্টা। এখন প্রশ্ন কে সেই মাথা? কাকে বাঁচাতে দুদকের এই যুদ্ধ? আবুলদের আড়ালে যে বৃহৎ শক্তি এতবড় কেলেঙ্কারির পেছনে মুল হোতা তাকে বাঁচাতেই কি তবে দুদকের এত আয়োজন?