ক্যাটেগরিঃ রাজনীতি

৯৫-৯৬ সালের দিকে তত্বাবধায়ক সরকারের দাবীতে `গনতন্ত্রের মানষ কন্যা’ শেখ হাসিনা যখন যুদ্ধাপরাধী জামায়াতকে সাথে নিয়ে বিএনপি সরকারের বিরুদ্ধে আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছিলেন তখন ছাত্রদলের এক সমাবেশে হাজির হয়ে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া ঘোষনা করেছিলেন,`বিরোধী দলের আন্দোলন ঠেকাতে আমার ছাত্রদলের বন্ধুরাই যথেষ্ট’। না, ছাত্রদল পারেনি শেষ পর্যন্ত আওয়ামী লীগ-জামায়াত জোটের সেই আন্দোলনের গতি রোধ করতে। পত্রিকার পাতার সেই ছবিগুলো এখনো চোখে ভাসে। ফেনীর মহিপালে দুই পুলিশ সদস্যের মাঝে দাঁড়িয়ে বিরোধীদলের মিছিল লক্ষ করে গুলি ছুঁড়ছে ছাত্রদলের এক `বন্ধু’। কিন্তু পুলিশ প্রহরায় থাকা সেই ছাত্রবন্ধুরাও এক সময় বিরোধী দলের দাবীর কাছে হার মানতে বাধ্য হয়েছিল।

কী বিচিত্র বাংলাদেশের রাজনীতি। দেড় যুগ পর আজ বিপরীত অবস্থানে সেই আ’লীগ আর বিএনপি। ৯৫ সালের ৯ ডিসেম্বর বেগম রোকেয়া দিবস থেকে টানা তিনদিন হরতাল পালন করা হাসিনা আজ বিএনপিকে অভিযুক্ত করছেন বিজয়ের মাস আর রোকেয়া দিবসে হরতাল করার কারনে। তত্বাবধায়কের দাবী মেনে নিতে সরকারকে বাধ্য করার হুমকি দিয়ে চলেছেন খালেদা। নিজস্ব প্রডাক্ট `তত্বাবধায়ক’ বাস্তবায়নের দাবীতে জামায়াত তখন ছিল আ’লীগের সাথে আর এখন বিএনপি’র সাথে। সত্যি বিচিত্র। বিরোধী দলের আন্দোলন দমাতে খালেদা তখন রাস্তায় নামিয়ে দিয়েছিলেন তার `ছাত্রবন্ধু’দের আর এবার হাসিনা নামিয়ে দিয়েছেন তার `চাপাতিলীগ’।

করিতকর্মা `চাপাতিলীগ’ মহা আনন্দে দক্ষতার সাথে শুরু করেছে তাদের দায়িত্বপালন। শুধু বিরোধী দলের আন্দোলন নয় বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে ভিসি বিরোধী আন্দোলনেও সক্রিয় `চাপাতিলীগ’। যুদ্ধাপরাধী নিধনেও তৎপর `চাপাতিলীগ’। একই সাথে টেন্ডারবাজী, দখল আর পদ্মাসেতুর চাঁদার ভাগ বাটোয়ারায়ও চলেছে চাপাতির সদ্ব্যবহার। দৃশ্যতঃ `চাপাতিলীগ’ ইতোমধ্যে চাপাতির ব্যবহারিক প্রয়োগে যথেষ্ট দক্ষতা অর্জন করেছে। অবশ্য সম্প্রতি একটা ভূল করে ফেলেছে `চাপাতিলীগ’। নিজেদের লোক `বিশ্বজিৎ দাসকে’ বিরোধী সমর্থক ভেবে চাপাতি চালিয়ে খুন করেছে ওরা। তবে শেষ পর্যন্ত তত্বাবধায়কের দাবী থেকে বিরোধী দলকে চাপাতিলীগ দাবায়ে রাখতে পারে কি-না সেটাই এখন দেখার বিষয়।