ক্যাটেগরিঃ ক্যাম্পাস

 

কয়েকদিন আগে টেলিভিশন টকশোতে ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতার আলোকে একজন শিল্পপতি বলছিলেন, ৫ হাজার টাকা বেতনে চাকরী করার জন্য এখন শত শত এমবিএ ডিগ্রীধারী প্রার্থী দরখাস্ত নিয়ে হাজির হয় অথচ ২০ হাজার টাকা বেতন দিয়েও একজন টেকনিশিয়ান পাওয়া যায়না।

শিল্পপতির এই বক্তব্যের মাধ্যমে আমাদের দেশের শিক্ষাব্যবস্থার এক বিপদজনক পরিস্থিতির প্রমান মিলেছে। অপরিকল্পিত শিক্ষা ব্যবস্থা একটি দেশের জন্য কত বড় সমস্যা তৈরী করতে পারে তা এই মন্তব্যের মাধ্যমে প্রমানিত। দেশের জনসংখ্যার কত শতাংশ বিজ্ঞান, বানিজ্য বা মানবিক বিভাগে পড়াশোনা করবে তার নেই কোন পরিকল্পনা। আমাদের শিক্ষাঙ্গনগুলো প্রতিবছর কতজন একাউন্টেন্ট, কতজন প্রকৌশলী, কতজন চিকিৎসক, কতজন ব্যবস্থাপক, কতজন টেকনিশিয়ান, কতজন রাষ্ট্রবিজ্ঞানী উৎপাদন করবে নেই তার কোন পরিকল্পনা। ফলে ছাত্ররা ইচ্ছামত পড়ছে যে কোন বিষয়ে। ফলে কর্মবাজারে গিয়ে তারা সংকটে পড়ছে।

গত কয়েক দশকে দেশে মাধ্যমিক, উচ্চমাধ্যমিক এবং স্নাতক পর্যায়ে বানিজ্য বিভাগে শিক্ষার্থীর সংখ্যা অনেক বেড়েছে। যেন সবাই কেরানী হতে চায়। সরকারী বেসরকারী বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে বিবিএ আর ব্যবসা শিক্ষা পড়ার ধুম। ফলে যা হবার তা ই হয়েছে। চাকরীর বাজারে চাহিদার চেয়ে সরবরাহ বৃদ্ধি পাওয়ায় এখন এমবিএ পাশ চাকরী প্রার্থীর জন্য বেতন বরাদ্ধ কম বেশী ৫ হাজার টাকা। অথচ অক্ষরজ্ঞান সম্পন্ন বা অক্ষরজ্ঞানহীন একজন গার্মেন্টস কর্মীর বর্তমান বাজারে ন্যুনতম বেতন ৬ হাজার টাকার বেশী। কয়েক বছর কাজ করার পর একজন গার্মেন্টস কর্মী এখন ২০-২৫ হাজার টাকা পর্যন্ত বেতন গুনছেন। একাউন্টস বা প্রশাসনে কাজ করার জন্য স্নাতক বা স্নাতকোত্তর ডিগ্রী ধারীর অভাব না থাকলেও বর্তমানে গার্মেন্টস শিল্পে কর্মী বা টেকনিশিয়ানের অভাব প্রচুর। শুধু গার্মেন্টস নয় সব শিল্পেই এখন দক্ষ টেকনিশিয়ান এর তীব্র সংকট। লক্ষ লক্ষ বেকারের এই দেশে অনেক শিল্প প্রতিষ্ঠানেই এখন শত শত বিদেশী টেকনিশিয়ান কাজ করছে। অথচ চাহিদা পুরনে শিক্ষা মন্ত্রনালয় বা সরকারের নেই কোন উদ্যোগ।