ক্যাটেগরিঃ রাজনীতি

বাংলাদেশে স্বাধীনতা বিরোধী জামায়াতের রাজনীতি নিষিদ্ধ করার এখনই সময়। যুদ্ধাপরাধীদের ফাঁসি দাবীর সাথে সাথে শাহবাগ আন্দোলনের অন্যতম দাবী হয়ে উঠেছে এটি। আমার ধারণা দেশের অধিকাংশ মানুষের মত এই দাবীর পক্ষে। সরকার এ দাবীর ব্যাপারে এখনো আনুষ্ঠানিক কোন প্রতিক্রিয়া প্রকাশ না করলেও সরকারী দলের একাধিক গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি জামায়াতের রাজনীতি নিষিদ্ধের দাবীর প্রতি ইতিবাচক মনোভাব প্রকাশ করেছেন। তাদের বক্তব্য যদি সত্য হয় তাহলে সরকার বিষয়টি নিয়ে ভাবছে বলে মনে করা যায়। যদি শেষ পর্যন্ত সরকার জামায়াতকে নিষিদ্ধ করার সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন করে তাহলে এটি হবে এক যুগান্তকারী পদক্ষেপ।

জামায়াতকে নিষিদ্ধ করার পাশাপাশি একাত্তরে যারা জামায়াতের পক্ষে সক্রিয় ছিলেন তাদেরও রাজনীতি করার অধিকার বাতিল করা উচিত। মুক্তিযুদ্ধকালীন সময়ে যুদ্ধাপরাধের সাথে প্রত্যক্ষভাবে সম্পৃক্ত যারা তাদের বিচারিক প্রক্রিয়ায় শায়েস্তা করার পাশাপাশি স্বাধীনতা বিরোধী অবস্থানের কারনে অন্যদেরও ভোটাধিকারসহ যাবতীয় নাগরিক সুযোগ-সুবিধা হরণ করা উচিত। এ ব্যাপারে সাংবিধানিক আইনের মাধ্যমে টেকশই বিধান প্রণয়ন করা জরুরী। আশা করি চলমান শাহবাগ আন্দোলনের নেতৃত্ব বিষয়টি আরো জোরালোভাবে তুলে ধরবেন।

জামায়াত নিষিদ্ধ করার দাবীর পাশাপাশি কেউ কেউ ধর্মভিত্তিক রাজনৈতিক দল নিষিদ্ধের দাবীও তুলছেন। আমার ধারনা এটি সঠিক ও বাস্তবসম্মত হবেনা। বরং হিতে বিপরীত হতে পারে। বাহাত্তরে স্বাধীনতাবিরোধী ভূমিকার জন্য জামায়াতকে যদি নিষিদ্ধ করা হতো তাহলে আজকে জামায়াত হয়তো এতবড় সমস্যা হয়ে দেখা দিতনা। ধর্মীয় রাজনীতি নিষিদ্ধ করার মাধ্যমে জামায়াতকে দমনের তখনকার সিদ্ধান্ত পরবর্তীতে ভ্রান্ত প্রমানিত হয়েছে।

একই সাথে ইসলামী ব্যাংকসহ জামায়াত সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের মালিকানাধীন বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান বাজেয়াপ্ত করার যে দাবী উঠেছে তা নিতান্তই হঠকারী চিন্তা বলে আমার মনে হয়। জামায়াতের লোকদের উদ্যোগে ও মালিকানায় এসব প্রতিষ্ঠান প্রতিষ্ঠিত হলেও বর্তমানে দেশের এক বিরাট সংখ্যক মানুষ নানা ভাবে ব্যবসায়ীকভাবে এগুলোর সাথে জড়িত। ক্ষতিগ্রস্থ হবার আশংকা দেখা দিলে এই সাধারণ মানুষগুলোও জামায়াতের পাশে দাঁড়াতে পারে।