ক্যাটেগরিঃ ধর্ম বিষয়ক

গ্রামাঞ্চলের অধিকাংশ মানুষের ধারনা>> ব্লগার মানে নাস্তিক। ২০১৩ সালের ফেব্রুয়ারীতে যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের পক্ষে অনলাইন এক্টিভিটিস এবং ব্লগারদের উদ্যোগে শুরু হওয়া আন্দোলনকে বিতর্কিত ও পণ্ড করার উদ্দেশ্যে একটি মহল ঢালাওভাবে প্রচার করে ব্লগার মানে নাস্তিক। এমনকি ধর্মীয় ওয়াজ মাহফিল, জুমার নামাজের বয়ানে পর্যন্ত কিছু মাওলানা এই ব্লগারদের নিয়ে কথা বলেছে। কেউ বলেছে নাস্তিক ব্লগার আবার কেউ বলেছে ব্লগাররা নাস্তিক।

শাহবাগ আন্দোলনের আগে গ্রামাঞ্চলের অধিকাংশ মানুষ ব্লগের নামও শুনেনি। তাই ব্লগ আর ব্লগার কি জিনিস এটি বুঝার কথাও নয়। ব্লগ আর ব্লগার ব্যাপকভাবে প্রচার হওয়ার শুরু থেকে যখন জানতে পারলেন ব্লগার মানে নাস্তিক। তখন এই বিশ্বাসটা আরও দৃঢ় হয় যখন হুজুর বলেছে। হুজুরের কথা তো আমরা চোখ বন্ধ করে বিশ্বাস করি।

এখন যদি কোন ব্লগার মারা যাওয়ার কথা বা হত্যা করার কথা শুনি>> তখন আমরা অনেকে স্বস্তির নিঃশ্বাস ছেড়ে বলি আলহামদুলিল্লাহ্ একজন নাস্তিক কমেছে। হায়রে মানুষ!!

এখন আমার ভয়>> কয়েকটি মাসিক ম্যাগাজিনে আমার লিখা ছাপা হয়> সম্পাদক সাহেব আমার সম্মানার্থে আমার নামের আগে ব্লগার এন্ড অনলাইন এক্টিভিটিস লিখে। এই লিখা তো গ্রামাঞ্চলের অনেকে পড়ে। তাঁরা কি আমাকে নাস্তিক মনে করবে? আমি মারা যাওয়ার পর কি তাঁরা সস্তির নিঃশ্বাস নিয়ে বলবে আলহামদুলিল্লাহ্ একজন নাস্তিক মারা গেছে?

গ্রামের সহজ সরল মানুষদের ধারনা পাল্টানো খুবই কষ্টসাধ্য ব্যাপারে। যেহেতু আবার হুজুর বলেছে সেহেতু এই ধারনা পাল্টানো তো মোটেই সম্ভব নয়। তাদেরকে কিভাবে বুঝাবেন ব্লগার মানে নাস্তিক নয়? যারা ব্লগে লিখালিখি করে তারাই ব্লগার। এই ব্লগারদের মধ্যে আছে অনেক জ্ঞানী গুনি মানুষ এবং আছে অনেক আলেমও। অনেকে ধর্মীয় ব্লগ লিখে। এখন আপনি কিভাবে এই জ্ঞানী গুনি এবং আলেমদের নাস্তিক বলবেন? যারা সৃষ্টিকর্তাকে বিশ্বাস করে না শুধু তারাই নাস্তিক। ব্লগার মানে নাস্তিক নয়। আল্লাহ আমাদেরকে বুঝার তৌফিক দান করুন।