ক্যাটেগরিঃ রাজনীতি

 

সিটি করপোরেশন নিয়ে সরকারের সকল সিদ্ধান্ত জনগন মানলেও সরকার যখন নির্বাচনের নামে ইসির নাটক তৈরি করেছে তখন জনগন ঐক্যবদ্ধ হতে শুরু করে ডিসিসি নির্বাচনের দাবীতে। কিন্তু তারা তাদের আন্দোলনে নামার আগেই ঘটলো নতুন ঘটনা। আর সেই সংবাদ উঠে আসলো পত্রিকার পাতায় ঠিক এই শিরোনামে ‘দুই ডিসিসিতে আসছেন নতুন প্রশাসক, নির্বাচন অনিশ্চিত।’ এমতবস্থায় সংবাদ নিয়ে যখন নিয়ে এগিয়ে গেলাম; তখন জানতে পারলাম যে, ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের নির্বাচন অচিরেই হচ্ছে না। সীমানা পুনঃনির্ধারণ ও ভোটার তালিকা হালনাগাদ করার বিষয়ে আদালত দেড় মাস আগে নির্দেশনা দিলেও এখনো এ কাজ শুরুই হয়নি। বরং নির্বাচন কমিশন রুলের জবাব দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়ায় এ নির্বাচন দীর্ঘ সময়ের জন্য ঝুলে যাওয়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে।

স্থানীয় সরকার বিশেষজ্ঞ এবং নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক সরকারি কর্মকর্তাসহ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা মনে করেন, মূলত রাজনৈতিক কারণে সরকার এখন দুই সিটি করপোরেশনের নির্বাচন করতে চায় না। এ জন্য নানাভাবে তারা নির্বাচন পিছিয়ে দিতে চায়। এদিকে আইনি জটিলতার আশঙ্কায় দুই সিটি করপোরেশনে নতুন প্রশাসক নিয়োগ করা হচ্ছে। আইন অনুযায়ী, বর্তমান দুই প্রশাসকের মেয়াদ শেষ । সরকার ঢাকা সিটি করপোরেশনকে দুই ভাগ করে গত বছরের ২৯ নভেম্বর সংসদে আইন পাস করে। আইনে ৯০ দিনের মধ্যে নির্বাচন করার বিধান রয়েছে। কিন্তু বিদায়ী নির্বাচন কমিশন শেষ মুহূর্তে নির্বাচন করতে অনীহা দেখালে আবার আইন সংশোধন করে নির্বাচন করার সময়সীমা বাড়িয়ে ১৮০ দিন করা হয়। একই সঙ্গে প্রশাসকদের মেয়াদও ১৮০ দিন করা হয়। বর্তমান নির্বাচন কমিশন এসে গত ৯ এপ্রিল দুই সিটির নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করে কার্যক্রম শুরু করে। সে অনুসারে গত ২৪ মে ডিসিসি নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু এ নির্বাচন নিয়ে হাইকোর্টে রিট হলে ১৫ এপ্রিল আদালত নির্বাচন তিন মাসের জন্য স্থগিত করে কিছু নির্দেশনা দেন। কিন্তু নির্দেশনা অনুযায়ী সীমানা পুনর্ন্ধিারণ ও ভোটার তালিকা হালনাগাদ করার কোনো উদ্যোগ নেই। মধ্য থেকে যা হয়েছে, তা হলো- ডিসিসি নির্বাচনকে ঘিরে আওয়ামী লীগ-বিএনপি ও জাতীয় পার্টিও অনেক রাঘববোয়ালদের পাশাপাশি সম্মিলিত সচেতন নাগরিক সমাজ-এর ব্যানারে রাজপথে নেমে আসি আমি। যেখানে নতুন মত নতুন পথ তৈরি করতে তরুণ প্রজন্ম ঐক্যবদ্ধ হতে থাকে সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালি জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের আদর্শকে লালন করে; সেখানে নতুন প্রজন্মের আহবানে রাজধানী ঢাকার দক্ষিণ অংশে চষে বেড়াই দিন রাত। সাধারণ মানুষের মধ্যে তারুণ্য ও শিক্ষার আলোয় আলোকিত হওয়ার যে বাসনা; সে বাসনায় ফুটে ওঠে তারুণ্যপ্রিয়তা। এগিয়ে যেতে থাকি সকল ভয়-সংশয় দূর করে। সারা দক্ষিণ ঢাকায় লাগানো হয় লক্ষ লক্ষ পোস্টার। পাশাপাশি থাকে আমার কিছু বিলবোর্ড-ফ্যাস্টুনও। কিন্তু আমার চেয়ে আরো অগ্রসর থাকেন অগ্রজ রাজনীতিকগণ। যাইহোক, এই রাজনৈতিক অঙ্গনে অনেক খেলাই দেখেছি বিভিন্ন সময়। সবচেয়ে তরুণ বলে বইতে হয়েছে বিভিন্ন টিপ্পনি-ঠাট্টাও। কিন্তু পিছু হটিনি। এগিয়ে এসেছি সময়ের সাথে, জনতার সাথে। পরে যখন হাইকোর্ট নির্দেশ দিল পোস্টার-বিলবোর্ড খুলে ফেলতে হবে; আমি-ই সর্ব প্রথম আদালতের প্রতি সম্মান প্রদর্শন করে আমার সাথের জনতাকে নিয়ে পোস্টার- বিলবোর্ড উঠিয়ে ফেলার অভিযান শুরু করি। পরবর্তীতে তফসিল ঘোষণা অনুযায়ী ১৫ এপ্রিল ২৮ হাজার টাকা নির্বাচন কর্মকর্তার বরাবর ব্যাংক ড্রাফট করে সংগ্রহ করি ভোটার তালিকার একটি সিডি এবং মনোনয়ন পত্র। কিন্তু তার মাত্র ১ দিন পরেই আদালত তিন মাসের জন্য স্থগিত করে ডিসিসি নির্বাচন। আমার কথা হচ্ছে, এত বড় একটি নির্বাচনে নামার আগে নির্বাচন কমিশন কেন ভেবে চিন্তে নামেনি, কেন সমস্যার জট না খুলে তফসিল ঘোষনার মধ্যদিয়ে প্রার্থী ও জনগনের আর্থিক ও মানসিক ক্ষতি করেছে? অন্য সকল কিছু বাদ দিলেও, শুধু এই অপরাধে নির্বাচন কমিশনের অযোগ্য-অথর্ব ইসির বিরুদ্ধে মামলা করতে পারি আমি। সেই অধিকার আমার সংবিধান আমাকে দিয়েছে। কিন্তু না, তা করছি না। চাইছি সহজ সমাধান।

আমার বিশ্বাস সরকার এই স্থানিয় সরকার নির্বাচনে তাদের নকশা অনুযায়ী বাস্তবায়ন করতে না পারার একটি অভাস পাওয়ায় নির্বাচন যাতে না হয়, সে জন্য বিভিন্নভাবে জাল পেতেছিল। আর তার প্রাথমিক স্তরটাই হলো সটিকভাবে ভোটার ভাগ না করা। যদিও এ বিষয়ে জানতে চাইলে নির্বাচন কমিশনার মো. জাবেদ আলী সংবাদমাধ্যমকে বলেছেন, ‘আমরা শিগগিরই রুলের জবাব দেব। আদালতের রায়ের ওপরই নির্বাচনের সময়সূচি নির্ভর করছে।’ সাবেক মন্ত্রিপরিষদ সচিব আকবর আলি খান বলেছেন, ‘যখন ঢাকা সিটি করপোরেশনকে দুই ভাগ করা হয়, তখনই আমরা সন্দেহ করেছিলাম নির্বাচন হবে কি না। মেয়াদ শেষ হওয়ার পাঁচ বছর হয়ে গেলেও নির্বাচন হচ্ছে না। এটা গণতান্ত্রিক দেশে খুবই দুঃখের কারণ। আমি বলব ঢাকাসহ অন্যান্য সব স্থানীয় সরকারের নির্বাচন যত তাড়াতাড়ি সম্ভব করা উচিত।’ সাবেক মন্ত্রিপরিষদ সচিব আকবর আলি খান-এর সাথে আমিও একমত। আমিও চাই নির্বাচন হোক, মেয়র হিসেবে বাংলাদেশের রাজধানী আমাকে না হোক এমন কাউকে নির্বাচিত করুক; যার আছে যোগ্যতা-দক্ষতা এবং অগাধ দেশপ্রেম। নির্বাচন বিলম্বিত হওয়া বিষয়ে জানতে চাইলে স্থানীয় সরকার বিশেষজ্ঞ তোফায়েল আহমেদ একটি জাতীয় দৈনিককে বলেছেন, ‘নির্বাচন না দেওয়ার পেছনে রাজনৈতিক কারণ আছেই। কারণ, বর্তমানে দেশে যে উত্তপ্ত পরিস্থিতি চলছে তাতে এ মুহূর্তে সরকারের জন্য নির্বাচন দেওয়া ঝুঁকিপূর্ণ। এ মুহূর্তে নির্বাচন দেওয়া নিয়ে তাঁদের মধ্যে দ্বিধাদ্বন্দ্ব আছে।’ এদিকে অতিরিক্ত সচিব আবদুল মালেক জানিয়েছেন, আইন মন্ত্রণালয়ের মতামতের ভিত্তিতে দুই সিটি করপোরেশনে নতুন প্রশাসক নিয়োগ করা হচ্ছে। ইতিমধ্যে অতিরিক্ত সচিব পর্যায়ের দুজন কর্মকর্তাকে প্রশাসক নিয়োগের জন্য ব্যবস্থা নিতে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। বিষয়টি নিশ্চিত করে জনপ্রশাসনের সচিব আবদুস সোবহান সিকদার সংবাদমাধ্যমকে বলেন, ‘আইনি বাধ্যবাধকতা অনুযায়ী অতি শিগগির নতুন প্রশাসক নিয়োগ দেওয়া হবে। আজ-কালের মধ্যেই সেটা হতে পারে।’ স্থানীয় সরকার বিভাগের একজন কর্মকর্তা বলেন, জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় থেকে দুজনের নাম প্রধানমন্ত্রীর কাছে যাবে। সেখান থেকে আনুষ্ঠানিকতা শেষে ওই দুই কর্মকর্তাকে স্থানীয় সরকার বিভাগে ন্যস্ত করা হবে।

কিন্তু স্থানীয় সরকারের এই স্থানটি কখনোই সরকারী আমলা দিয়ে চলতে পারে না। এখানে নতুন আলোয় হেসে উঠার কথা নির্বাচিত মেয়রের সকাল সূর্যের। তা না হয়ে গত ১০ বছর দেখেছি একজন স্বৈরাচার মেয়র সাদেক হোসেন খোকাকে। যিনি শুধুমাত্র মেয়র থাকার জন্য ওয়ান ইলেভেনের সময় সামরিক জান্তাদের দালালি করেছেন আবার আওয়ামী লীগের প্রায় সাড়ে ৩ বছর প্রধানমন্ত্রী থেকে শুরু করে সকল পর্যায়ের মন্ত্রী-আমলা ও এমপিদের মোসাহেবি করেছেন। যাক সে কথা; এখন যা দেখছি, তা হলো- সরকারের সমন্বয়হীনতা; ইসির অযোগ্যতা এবং আদালতের দায়সারা গোছের রায়। যা আমাদের রাজধানী ঢাকাকে ক্রমেই অন্ধকারের দিকে ঠেলে দিচ্ছে। অথচ এই ঢাকায় আলোর নহর থাকার কথা; থাকার কথা ছিল নির্বাচিত-যোগ্য ও দক্ষ মেয়র। অতি সত্বর সকল সমস্যা পায়ে ঠেলে দিয়ে আদালত-সরকার-ইসি ও জনতার সমন্বয়ে নির্বাচিত হোক ঢাকা দক্ষিণ ও উত্তর সিটি কর্পোরেশনের মেয়র। সে যেই হোক, আমি তুমি অথবা সে। এগিয়ে আসুক দেশ মাটি ও মাকে ভালোবেসে…

মোমিন মেহেদী : কলামিস্ট ও মেয়র প্রার্থী, ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন