ক্যাটেগরিঃ ক্যাম্পাস

সাধারণ মানুষ হিসাবে বাঁচার অধিকার আমাদের সবার আছে। আছে শিক্ষা গ্রহণের অধিকার । আমরা ছোট বেলা থেকে একটি স্বপ্ন নিয়ে বেড়ে উঠি। লেখা পড়া করে মানুষের মতো মানুষ হবো বলে। বাড়তে থাকে জীবনের চাহিদা গুলো। তাইতো এইচএস সি পাশ করে চেষ্টা করি একটি ভাল বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা কলেজে ভর্তি হওয়ার। আমার মনে আছে, যখন আমি নবম শ্রেণীতে পড়ি আমাদের শ্রদ্ধেয় শিক্ষক-শিক্ষিকারা বলত ভালোভাবে পড়া-লেখা করো কলেজ ভর্তি হও। তখন যা চাইবে তাই পাবে। কলেজ ভর্তি হওয়ার পর যা চেয়েছি তা কিন্তু পায় নি। কলেজের শিক্ষক-শিক্ষিকারা আরেকটু বাড়িয়ে বলত বিশ্ববিদ্যালয় যাও লাইফ আসলে কী উপলদ্বি করতে পারবে। সেদিন কিন্তু আমি দুহাত উচু করে দাঁড়িয়ে আমার সেই প্রিয় শিক্ষককে বলেছিলাম এমন কথা স্কুলের শিক্ষকরা বলেছিল, কলেজে যাও যা চাইবে তাই পাবে। আজ কিন্তু আমরা কিছু পেয়েছি। কলেজের প্রথম দিন এসে আমাদের শুনতে হয়েছে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের ছাত্র নামের নেতাদের কুরুচিপূর্ণ গলা ফাটানো বক্তব্য। যেখানে তাদের উচিত ছিল আমাদের আদর্শের বাণী শুনিয়ে বরণ করে নেওয়া। সেখানে তারা নতুন আসা ছেলেদের কীভাবে তাদের দলের কর্মী তৈরি করবে সেই চিন্তা করে আধিপত্য বিস্তার করা । আমার মনে আছে, আমাদের কলেজে একটি ছেলে আসত তার আচার-আচারণ দেখে মনে হত রাজনৈতিক প্রভাব অনেক বেশি, কারণ আমাদের স্থানীয় নেতাকর্মীরা তাদের ব্যবহার করত । তাই ভাবত তারা অনেক বড় কিছূ হয়ে গেছে । আমার জানা মতে সে ছাত্র জীবনের মাধ্যমিক স্তর পেরুতে পারিনি। সে আবার তথাকথিত ছাত্র…নেতা ।

যাই হোক মূল কথাই আসি, কলেজে জীবনের শুরুটা যদি এমন একটি কুরুচিপূর্ণ ভাষা শুনে শুরু করতে হয় তাহলে বিশ্ববিদ্যালয়ের জীবনের সময়টা কেমন হতে পারে তা আমরা সামান্যতম হলেও বুঝতে পারি । তাহলে কি আমরা ভাবব বিশ্ববিদ্যালয় জীবন আরো বেশি ভয়ানক হবে । সেখানে হয়ত রিভালভার কিংবা মেশিনগানের গুলির শব্দ শুনে বিশ্ব বিদ্যালয়ে প্রথম ঘুমটা ভাঙাতে হবে।

আজ আমার সেই ভাবনা গুলো মোটামুটি বর্তমান প্রেক্ষাপটের সাথে মিলে যাচ্ছে । এইতো কয়েকদিন আগে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালযের ছাত্র লীগ ও ছাত্রদলের মাঝে ব্যাপক গোলাগুলির ঘটনা ঘটল। ঘটনার পরের দিন ২০১২-১৩ বর্ষের ভর্তি পরীক্ষা হওয়ার কথা ছিল । অনেক ভর্তিচ্ছুক ছাত্র-ছাত্রী দূর থেকে তাদের পরিচিত যারা বিশ্ব বিদ্যালয়ের বিভিন্ন হলে থাকে তাদের কাছে উঠেছিলো । ভর্তি পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করবে বলে। হঠাৎ করে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র ছাত্রলীগ ও ছাত্র দলের মধ্যে ব্যাপক সংর্ঘষের ঘটনা ঘটে। সেই সংঘর্ষে ওপেনে গুলাগুলি হয়েছিলো । তারা হয়ত তাদের শিক্ষকের কথার সঙ্গে বর্তমান অবস্থার সঙ্গে মিলিয়ে দেখতে গিয়ে মনে করবে, এটাই তাহলে বিশ্ববিদ্যালয় জীবন, যেখানে থাকবে কলমের বদৌলতে রামদা, বইয়ের বদৌলতে হাতে থাকবে পিস্তল । পড়ার গুনজন না শুনে শুনবে একে অপরের বিরুদ্ধে নগ্ন শ্লোগান, শিক্ষকদের সম্মান না করে তাদের দলীয় নেতাকর্মীদের পূজা বা গোলামী করবে। আবার হয়ত কবে প্রতিপক্ষের গুলিতে কোনো নর্দদমায় মরে পড়ে থাকবে।

আর যে মা বাবা ছোট্ট ছেলেটিকে হাজারো কষ্টের মধ্যে বড় করে আসায় বুক বেধে বসে থাকে। আমাদের সন্তান বিশ্ববিদ্যালয়ের পড়া শেষ করে ভাল চাকরি করবে।

অনেক মা আছে, যারা বছরের পর বছর একটি কাপড় পরে পার করে দিয়েছে , একটি মাত্র আসা নিয়ে তাদের ছেলে বড় হবে। তখন মন ভরে নতুন শাড়ি পরবে। অনেক বাবা আছে রিকশার প্যাডেল ঘুরাতে-ঘুরাতে বেশ খানিক অকেজো হয়ে গেছে। তাদের একটি-ই সান্তনা যেদিন তাদের সন্তান লেখা পড়া শেষ করে চাকরি করবে। তাদের সব কষ্ট দূর হয়ে যাবে।

হঠাৎ তারা যদি শুনতে পায় বিশ্ববিদ্যালযের সংর্ঘষের সময় তাদের সেই আদরের সন্তান এই পৃথিবীতে মায়া ছেড়ে চলে গেছে, সেই মা-বাবাকে আমরা কি বলে সান্তনা দেব? আপনারা আমাকে বলতে পারবেন? জানি আমরা তাদের সান্তনা দিতে পারব না । সান্তনা দেওয়ার কোনো ভাষা আমাদের জানা নেই ।