ক্যাটেগরিঃ রাজনীতি

জামায়াতকে সমাবেশের অনুমতি না দেওয়ায় কাল মঙ্গলবার ঢাকাসহ সারাদেশে হরতালের ঘোষণা দিয়েছে জামায়াত ইসলামী বাংলাদেশ।

আমি জানি, একটি রাষ্ট্রের জন্য হরতাল একটি জঘন্যতম পন্থা তবে গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে এটা খুব স্বাভাবিক ব্যাপার। একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে বিরোধীদল তার প্রধান প্রতিবাদের ভাষা হিসাবে হরতালের ডাক দেয়। সরকারের দোষত্রুটি গুলো তুলে ধরে, সরকারকে একটি সুষ্ঠু গণতান্ত্রিক চর্চার তাগিদ দেয়। আর আমাদের মতো সাধারণ জনগণের অধিকার গুলো প্রতিষ্ঠিত করতে সরকারকে বাধ্য করে, বা করার কথা । আমরা বিগত চার বছর দেখেছি, আমাদের বিরোধী দল জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠিত করার জন্য কতবার হরতাল বা রাস্তায় নেমেছে। যে কয়েকবার হরতাল কিংবা বিক্ষোভ সমাবেশ করেছে তা নিজেদের স্বার্থ উদ্ধারের জন্য । জনগণের সুবিধার জন্য কোনো ইস্যুতে হরতাল কিংবা বিক্ষোভ হয়নি। ইস্যু কিন্তু অনেক গুলো ছিলো। যেমন- দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি, গ্যাস-বিদ্যুতের লাগামহীন মূল্য বৃদ্ধি, কয়েকমাস পর-পর বাড়ি ভাড়া বৃদ্ধি ইত্যাদি। আমরা যেই চাকরি-বাকরি করিনা কেন, বেতনের একটি বড় অংশ বাড়ি ভাড়া দিতে গিয়ে চলে যায়। মধ্যবিত্ত পরিবারের ছেলে-মেয়েদের রাজধানী ঢাকা শহরে থেকে পড়াশুনা করা খুবই কষ্ট সাধ্য। আর এক শ্রেণীর ছেলে-মেয়ে আছে যারা ঢাকা শহরে পড়াশুনাকে দুঃস্বপ্ন মনে করে। কিন্তু আমাদের সম্মানিত বিরোধী দলগুলো এই সব ইস্যু গুলো দেখতে পায় না। তাদের দলীয় স্বার্থ উদ্ধার করতে গিয়ে জনগণ নিয়ে ভাববার সময় থাকে না। জামায়াত আগামীকাল যে ইস্যুতে হরতালের ডাক দিয়েছে তা আমরা সবাই জানি, নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকার, শীর্ষ নেতাদের মুক্তি, নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার, সরকারের দুঃশাসন ও দমনপীড়ন, সর্বগ্রাসী দুর্নীতির প্রতিবাদে আন্দোলনের অংশ হিসাবে সোমবার সমাবেশ ও বিক্ষোভ কর্মসূচির ঘোষণা দিয়েছিল।

কিন্তু স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মহীউদ্দীন খান আলমগীর বিনা অনুমতিতে বে-আইনিভাবে রাজধানীসহ সারা দেশে জামায়াতকে কোনো সমাবেশ করতে দেয়া হবে না বলে ঘোষণা দেয় ।

আর দলীয় কর্মসূচিতে বাধা দেওয়ায় মঙ্গলবার সারাদেশে হরতালের ডাক দিয়েছে জামায়াত ইসলামী বাংলাদেশ ও তার অঙ্গসংগঠন।

আমার প্রশ্ন হল জামায়াতকে সমাবেশ করতে না দিয়ে কতটুকু লাভবান হলো সরকার, জামায়াত একটি নিবন্ধিত দল, আর আমরা যদি গণতন্ত্র কে শ্রদ্ধা করি তাহলে তাদের কর্মসূচি পালন করতে দেওয়াটা কী ঠিক ছিলনা? নাশকতামূলক কর্মকাণ্ড- যদি ঘটানোর ইচ্ছে করে থাকে তাহলে আমার মনে হয়, তারা যে কোনো ভাবে ঘটাতে পারে। আর এই জন্য আমাদের আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও গোয়েন্দা সংস্থা গুলোকে সক্রিয় থাকতে হবে।

আগামীকাল যে সারাদেশে একটি বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হবে না আমাদের সরকার কতটুকু শিয়র দিতে পারবে। আজকের চাইতে আরও বেশি কিছু ঘটতে পারে । এমনিতে জামায়াতের শীর্ষ নেতারা যুদ্ধাপরাধীর দায়ে আটক আছে। আর এই সরকার এই বিজয়ের মাসেই যুদ্ধাপরাধীদের বিচারকাজ সম্পন্ন করবে বলে ঘোষণা দিয়েছে। জামায়াত চাইলে বিচার কার্য বন্ধ করার জন্য হরতালের ডাক দিতে পারতো না । আবার চাইলে, যে ইস্যুতে তারা সমাবেশ ও বিক্ষোভ কর্মসূচি করতে যাচ্ছিল সেই ইস্যুতে হরতালের ঘোষণা দিতে পারতো না। এতে জনগণ তা মেনে নিতো না।

কিন্তু সরকার তাদের কে বাধ্য করল হরতালে মতো কর্মসূচি দিতে। আর জামায়াত কিন্তু এটাই চাচ্ছিল। যাতে তারা এটিকে বড় ইস্যু হিসাবে উপস্থাপনা করতে পারে। আর সারাদেশ ব্যাপী একটি বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করে তাদের দলীয় স্বার্থ উদ্ধার করতে পারে।