ক্যাটেগরিঃ আইন-শৃংখলা

পুলিশ শব্দটির উপর যে কোন কারনেই ছোটবেলা থেকেই একটু বিতৃষ্ণা ছিল। নীল পোষাকটি দেখলেই কেমন জানি রাগ হতো মনের অজান্তেই। কিন্তু গতকাল পত্রিকায় একটি লেখা পড়ে হঠাৎ কেন জানি মায়া জন্মে গেল নীল পোষাকধারীদের প্রতি। এই মায়ায় যদিও তাদের প্রতি আমার পূর্ব দৃষ্টিকোণ এখনো পাল্টাইয়া নাই। তারপরও মানবিকতা চিন্তা করে না লিখে পারছিনা। ৩১ জানুয়ারি ২০১৩, জামায়াতের সাথে সংঘর্ষের সময় আহত এক পুলিশ কনেস্টেবল হাসপাতাল এ নেয়ার পথে মারা যায়। মারামারির চিত্র পত্রিকা এবং টেলিভিশন এ দেখে যে কেউ বুঝতে পারবে কতটা ভয়াবহ ছিল ওই সময়টা। ঘটনার পরবর্তী সময়ে পুলিশের মুখপাত্র জানালেন তিনি এখনি কিছু মন্তব্য করবেন না। পরবর্তীতে উপর মহল এর সাথে আলোচনা সাপেক্ষে জানানো হলো, আহত হয়ে নয় হৃদক্রিয়া বন্ধ হয়ে তার মৃত্যু। যদিও একই সাথে তার আহত হবার কথাটিও স্বীকার করা হয়েছে। কারই বুঝতে বাকি থাকে না যে “পুলিশের মৃত্যু” কথাটি এড়াতেই এই ধরনের মন্তব্য।

হতভাগা পুলিশ কনেস্টেবল মৃত্যুর পরে পেলো না যথাযথ সম্মান। বলছি না তাকে শহীদ উপাধি দেয়া হোক, তবুও “হৃদক্রিয়া বন্ধ হয়ে তার মৃত্যু” না বলে যদি বলা যেত দেশসেবা করতে গিয়ে মৃত্যু হয়েছে তাহলেই তার রেখে যাওয়া পরিবার এর জন্য অনেক প্রাপ্তি ছিল। কিন্তু দুর্ভাগ্য হতভাগা কনেস্টেবল, এর কারন সে ছোটবেলা থেকে পাড়ার মোড়ে মাস্তানি করতে পারেনি। করলে আজ রাজনীতি করে জনগন এর গাড়ী অথবা বাড়ী পোড়াতে গিয়ে পুলিশের গুলি খেয়ে শহীদ হয়ে যেত অথবা টেন্ডারবাজী করে দেশপ্রেমিক পদক পেয়ে যেত।

কারও প্রতি অভিযোগ এর তীর ছুঁড়বো না, শুধু যথাযথ সম্মানটাই প্রার্থনা করি। মাননীয় প্রধানমন্ত্রীকে খোলা চিঠি দেওয়া ছাড়া আর অন্যকিছু করার বা কি আছে আমাদের। আর এই খোলা চিঠিতে বলব প্রাপ্য সম্মান না কেড়ে যথাযথ সম্মান দিলে এই অসহায় লোকগুলো তাদের কাজের প্রতি আরও বেশী করে দায়িত্ব প্রবণ হবেন। আর এই দায়িত্ব প্রবণতা আমাদের দেশের জন্য আজ বরই দরকার।