ক্যাটেগরিঃ রাজনীতি

আমাদের বিরোধী দলের নেত্রী খুব ঘটা করে লন্ডন ও আমেরিকা সফর শেষ করে রাজকীয় ভেসে জনগনের চরম ভোগান্তির মাধ্যমে দেশে অবতরণ করলেন, যখন অফিস থেকে বাড়ী ফেরা লোকজন রাস্তায় নামল। ঠিক সেই সময় ঢাকার ব্যস্ততম সড়কটি ওনার রাজনীতির কেন্দ্রে পরিনত হয়। সাধারন জনতার কী -ই বা করার আছে ? যাক সে কথা।সহ …..

কী কারনে এত ঘটা করে সম্বর্ধনা সেটা দেখা যাক। খালেদা জিয়া লন্ডনে গিয়ে প্রথমে উনার ছেলেকে নিয়া নাটকটি মঞ্চায়নের মাধ্যমে উনার মিশন শুরু করলেন।

কেউ কেউ মনে করতে পারেন যে, ছেলেকে নিয়ে কিভাবে নাটক করল ? হ্যাঁ উনি যে কাজটি হোটেল লবিতে করেছেন সেটা স্রেফ লোক দেখানো। কারন উনি এটাও রাজনীতিতে ব্যবহার করার জন্য করেছেন। জনগনের সস্তা সেন্টিমেন্ট পাওয়াই ছিল এটার মূল উদ্দেশ্য। যা পরের দিন আমরা পত্রিকায় দেখেছি। তারেককে আগে থেকেই এটা বলা ছিল ও তারেক সে অনুযায়ী যথারীতি সব প্রস্তুতি নিয়ে রেখেছিল। এটা ওনারা হোটেল লবিতে না করে একান্তে বা ঘরের মধ্যে করতে পারতেন। তা না করার উদ্দেশ্য একটাই, আর তা হল লোকজনকে দেখাতে হবে; সস্তা সেন্টিমেন্ট নিয়া তারেককে হিরো বানাতে হবে।

উনি লন্ডনে গিয়ে সে দেশের বিরোধী ও সরকারী রাজনীতিবিদদের কাছে দেশের বিরুদ্ধে, র‌্যাবের বিরুদ্ধে, ব্যাক্তি হাসিনার বিরুদ্ধে, যুদ্ধাপরাধ বিচার প্রক্রিয়া নিয়ে তাদের (লন্ডনের) বাধা দেয়ার অনুরোধ ও রাজাকারদের সাফাই গেয়ে (তাদের যে কোন মূল্যে রক্ষা করার জন্য ) নালিশ করেছন।

এরপর তারাও তার কাছে যদি তিনি (খালেদা) আগামীতে তাদের (লন্ডনের) সহায়তায় ক্ষমতায় যান তাহলে লন্ডনের স্বার্থে কি কি সুযোগ দিবেন তা জানতে চান, জবাবে উনি যে কোন সুবিধা দেয়ার পক্ষে মত দিয়েছেন, সাথে অনুরোধ করেছেন ওনাকে ক্ষমতায় যাওয়ার সব ব্যবস্থা যেন তারা করেন। তারা বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্ব সহকারে দেখবেন বলেও ওনাকে (খালেদাকে) আশ্বাস দিয়েছেন। তার মানে আগামীতে ক্ষমতার যাওয়ার পথ তৈরী করে এসেছেন, এখন দেখবেন প্রভুরা কি কি বলে সরকারকে শাসায়, ও কোন কোন সংগঠন কি কি রিপোর্ট করে । যা সবই হবে ঐ নীল নকশার আলোকে।

এরপর আমেরিকা মিশন, সেখানেও একই উদ্দেশ্য। কিন্তু কিছু সমস্যা হয়েছে হিলারী দর্শন না হওয়া, অবশ্য পরে হিলারির প্রতিনিধির কাছে একটা বিশাল নালিশের ফর্দ ও ভবিষ্যতে ওনাকে যদি আমেরিকা ক্ষমতায় এনে বসিয়ে দেয়, তাহলে আমেরিকার কী কী স্বার্থ দেখবে সে বিষয়েও মুচলেকা দিয়ে এসেছেন।

আর যার ধারাবাহিকতায় উনি ভারতকেও বন্ধু হিসাবে পেতে চান বলে মন্তব্য করেছেন। কারন আমেরিকাই ভারতের সাথে ভাল সম্পর্ক স্থাপন করার জন্য তাকে শর্ত দিয়েছে, এবং উনি (খালেদা) তাতে রাজী হয়েছেন। যা আপনারা সবাই পত্রিকায় দেখেছেন।

এখন কথা হল, উনারা ক্ষমতায় থাকলে উনাদের ভারতের বিরুদ্ধে কোন অভিযোগ থাকে না, ওনাদের কেনা বুদ্ধিজীবীরা আর ভারতের কোন দোষ পায়না, পাকিস্তানের পা চাটা কুত্তারা (আমাদের একটি পত্রিকা দৈনিক আমাদের দেশ, যা পাকিস্তানের আইএসআইএর টাকায় চলে) আর ভারতের কোন দোষ তখন দেখেনা। কিন্তু যেই ক্ষমতা থেকে সরে যায় তখনই সব ভারত নিয়ে গেল, বাংলাদেশ ভারতের অঙ্গ রাজ্য হয়ে গেল, গঙ্গা সমস্যা, সীমান্ত সমস্যা, ন্যায্য পানির হিস্যা ইত্যাদি নিয়ে রাস্তায় নেমে পরে, একমাত্র দেশপ্রেমিক। আর সবাই দেশ-দ্রোহী।

অথচ এই খালেদা তিনবার দেশের প্রধান মন্ত্রী ও দেশের দীর্ঘতম ক্ষমতায় থাকা দল বিএনপি। কেন তারা আজ পর্যন্ত একটা সমস্যারও সমাধান করল না ? কেন তারা আজ পর্যন্ত ভারতের কাছে গঙ্গার পানির ন্যায্য হিস্যা আদায়ে একবারও বৈঠক করে নাই ? এর উত্তর কি খালেদা বা তার কেনা গোলামেরা দিতে পারবে ? শুধু রাজনৈতিক ইস্যুর জন্য এটাকে জিইয়ে রাখে আর ক্ষমতার বাইরে থাকলেই দেশপ্রেম উতলে উঠে।

ওনারা ক্ষমতায় থাকলে কোন বিদেশী দেশের ব্যাপারে নাগ গলালে বলা হয় সার্বভৌমত্ব নষ্ট হয়ে গেছে, কিন্তু আজ উনি নিজে গিয়ে দেশের অভ্যন্তরীন বিষয়ে ওনার প্রভুদের সব নালিশ করে, সরকারের চাপ প্রয়োগের মাধ্যমে ক্ষমতাচ্যুত করার যে আবেদন করে আসলেন। তাতে কি দেশের ভাবমূর্তি উজ্জল হয়েছে ? এতে কি দেশের সার্বভৌমত্ব নষ্ট হয় না ? দেশের সমস্যা কি দেশের মধ্যে সমাধান করা যায়না ? না গেলে আপনারা রাজনীতি করেন কেন ? নিজেদের সম্পদ ও ক্ষমতা বৃদ্ধি ও জনগনের ভোগান্তির জন্য ?

আমরা আপামর জনতা এর জবাব চাই।