ক্যাটেগরিঃ নাগরিক আলাপ, ফিচার পোস্ট আর্কাইভ

গতকাল শেষ হল প্রধান বিরোধী দল ও তাদের শরীক জামায়াতের হরতাল। হরতাল কেন দেয়া হয়েছে বা তা জনগণ কিভাবে নিয়েছে এসব বিষয়ে আমি কিছুই লিখব না। আমার কয়েকটি অনুরোধ থাকবে মাননীয় প্রধান মন্ত্রীর নিকট এই ব্লগের মাধ্যমে। মাননীয় প্রধান মন্ত্রী একটু পড়ার সময় হবে কি ?

গতকাল সংবিধান সংশোধন কমিটি তাদের চুড়ান্ত রিপোর্ট তৈরী করেছে ৫১টি সংশোধনী করে। যা আগামী অধিবেশনে সংসদে পেশ করা হবে। সেখানে যে সকল সংশোধনীর প্রস্তাব করা হয়েছে তার কয়েকটির সাথে দ্বি-মত পোষন করেই আমার এ অনুরোধ আপনার বরাবরে।

১। “সংবিধান সংশোধনীর সুপারিশমালায় বিসমিল্লাহির রহমানির রহিম, রাষ্ট্রধর্ম ইসলাম, ধর্মভিত্তিক রাজনীতির সুযোগ কিছুটা সংশোধিত আকারে প্রায় আগের মতোই রাখা হয়েছে” প্রস্তাবে বলা হয়েছে, জাতীয়তাবাদ, সমাজতন্ত্র, গণতন্ত্র ও ধর্মনিরপেক্ষতা—এগুলো সংবিধানের মূল নীতি হবে। রাষ্ট্রধর্ম-সম্পর্কিত সংবিধানের ২(ক) অনুচ্ছেদে পরিবর্তন এনে ‘প্রজাতন্ত্রের রাষ্ট্রধর্ম ইসলাম। তবে ‘হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিষ্টানসহ অন্যান্য ধর্ম পালনে রাষ্ট্র সমমর্যাদা ও সম-অধিকার নিশ্চিত করবেন’ প্রতিস্থাপন করা হয়েছে।

আমার এখানে দ্বি-মত হল ধর্ম ভিত্তিক রাজনীতি নিয়ে। দয়া করে এই বিষয়টা সংবিধান থেকে মুছে দিন। দেশকে আর পাকিস্তান বা আফগানিস্তান বা ইয়েমেন বা অন্য কোন জঙ্গী রাষ্ট্রের আদলে হতে দিয়েন না। ধর্মীয় রাজনীতি থেকেই হিংসা ও জাতিগত দাঙ্গা বেশী ছড়িয়েছে। বিশ্বের বিভিণ্ন দেশের দিকে তাকালেই তা পরিস্কার হবে। তাই এই ধর্ম ভিত্তিক রাজনীতি নিষিদ্ধ করুন।

২। বহুল আলোচিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা বিলুপ্ত করে সংবিধান সংশোধনের খসড়া চূড়ান্ত করেছে বিশেষ কমিটি। কমিটি এ জন্য সংবিধানের সংশোধনীতে নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা-সম্পর্কিত সংবিধানের ২ক পরিচ্ছেদ (অনুচ্ছেদ ৫৮খ, ৫৮গ, ৫৮ঘ, ৫৮ঙ) বিলুপ্ত করার সুপারিশ করেছে।

আমার অনুরোধ এক কথায় “এটা বাতিল করা মোটেই ঠিক হবেনা, দয়া করে আর সংঘাত বাড়িয়ে জন-জীবনকে অতিষ্ঠ করবেন না।” এতে আপনারই বেশী ক্ষতি হবে। যারা আপনাকে এই ধ্বংসাত্মক সিদ্ধান্ত নেয়ার জন্য অনুপ্রাণিত করেছে, তারা আপনার ও আপনার দলের মোটেই ভাল চায়না।

একবার জনমত জরিপ করে দেখুন “জাতি তত্ত্বাবধায়ক ব্যবস্থা চায়” কারন তারা আপনাদের উপড় কোন প্রকারে ভরসা পায়না। বিশ্বে কোন দেশেই আপনাদের মত এমন নির্লজ্জ রাজনীতি (সকল রাজনীতিক দলকে বলছি) করেনা বা করে বলে কোন নজির নাই। এর অস্তিত্ব শুধু বাংলাদেশেই বিদ্যমান।
তাছাড়া আদালত বলেছে যে, আগামী দুই মেয়াদ সংসদ চাইলে এ পদ্ধতিতে নির্বাচন হতে পারে। তাই ঐ দিক থেকে কোন আইনের লংঘন হবে বলেও আমার মনে হয় না। তাই তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা রাখুন। প্রয়োজনে উপদেষ্টা নিয়োগ পদ্ধতি বিরোধীদলের সাথে আলোচনা করে নির্ধারন করে নিতে পারেন। এতে জাতী ও আপনি উভয়ই উপকৃত হবে। সংঘাত-হানাহানি জাতী আর চায়না।

৩। বাহাত্তরের সংবিধান অনুযায়ী ৭০ অনুচ্ছেদ প্রতিস্থাপনের সুপারিশ করেছে বিশেষ কমিটি। এতে বলা হয়েছে, ৭০(১) ‘কোন নির্বাচনে কোন রাজনৈতিক দলের প্রার্থী রূপে মনোনীত হইয়া কোন ব্যক্তি সংসদ সদস্য নির্বাচিত হইলে তিনি যদি (ক) উক্ত দল হইতে পদত্যাগ করেন, অথবা (খ) সংসদে উক্ত দলের বিপক্ষে ভোট দিলে তার আসন শূন্য হবে, তবে তিনি সেই কারণে পরবর্তী কোন নির্বাচনে সংসদ সদস্য হইবার অযোগ্য হইবেন না।’

এখানে সংসদ সদ্যসরা যদি ন্যায় ও জন-কল্যান মুলক মনে করেন তাহলে কেন তারা দলের বিরুদ্ধে ভোট দিতে পারবে না ? এটা গণতন্ত্রের ভাষা নয়। তাহলে একটা গণতান্ত্রিক দেশের সংবিধানে এটা থাকা কি সাংঘর্ষিক নয় ? তাই আমার অনুরোধ “(খ) সংসদে উক্ত দলের বিপক্ষে ভোট দিলে তার আসন শূন্য হবে, তবে তিনি সেই কারণে পরবর্তী কোন নির্বাচনে সংসদ সদস্য হইবার অযোগ্য হইবেন না।’”-এই ধারাটি পরিবর্তন করে সেখানে সংসদ সদস্যদের মতামত প্রকাশের ক্ষমতাকে উমুক্ত করে দিন। এতে প্রকৃত সত্য প্রতিষ্ঠিত হবে, প্রকৃত গনতন্ত্র চালু হবে।

আমার এর আগে বিভিন্ন মতামতের মাধ্যমে কমিটির কাছে অনুরোধ ছিল রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের বর্তমান পদ্ধতির সংশোধন। এটা কোন গণতান্ত্রিক (১০০% নয়, ৪০% গনতন্ত্র) পদ্ধতি হতে পারেনা। এটা যে আমলে করা হয়েছিল সে আমলও এক হিসাবে অবৈধ।

আমার প্রস্তাব হল সংসদ নির্বাচনের সময় আর একটি ব্যালট আলাদা থাকবে কোন মার্কা ছাড়া, প্রার্থীর ছবি সহ। এবং রাষ্ট্র পতি পদে দেশের অ-রাজনৈতিক বিশিষ্ট কোন ব্যক্তিবর্গ নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দিতা করবেন। এখানে জনগন তাদের প্রত্যক্ষ ভোটে যাকে নির্বাচিত করবেন, তিনিই হবেন রাষ্ট্রপতি। আরা রাষ্ট্র পতির বর্তমান ক্ষমতার আপডেট করে প্রধান মন্ত্রী ও রাষ্ট্রপতির ক্ষমতার ভার সম্য করার জন্য অনুরোধ করছি। এ ব্যবস্থায প্রকৃত গনতন্ত্র ও জবাবদিহিতা আসবে বলে আমি মনে করি।

তাই মাননীয় সংসদ নেত্রী ও প্রধান মন্ত্রী আগামী বিলটি সংশোধিত আকারে সংসদে উপস্থাপন করার জন্য বিশেষ কমিটিকে বলুন, এবং জাতিকে একটি সত্যিকার গণতন্ত্রের পুস্তিকা বা সংবিধান উপহার দিন। জাতি আজীবন শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করবে। অন্যথায় এর দায় আপনার উপড়ে বর্তাবে। যা আগামী নির্বাচনে জনগন আপনাকে জানিয়ে দিলে অবাক হওয়ার কিছুই থাকবে না।

তাই জনগনের কথা শুনুন। উপদেষ্টাদের কথা নয়। উপদেষ্টারা যে আপনাকে কোন ভাল পরামর্শ দেয় না, তা আমরা বিগত সময়ে বহুবার প্রমাণ পেয়েছি। এবার যদি আপনি ভুল করেন, তা আমার মনে আপনার জীবনের সর্বশ্রেষ্ঠ ভুলও হতে পারে!!!!

ভুল হলে মার্জনা করবেন।

ইতি- কোটি কোটি অভাগা জনতার পক্ষে আমি একজন।

***
কৃতজ্ঞতাঃ প্রথম আলো

***
ফিচার ছবি: অনলাইন মিডিয়া সার্ভিস