ক্যাটেগরিঃ নাগরিক আলাপ, ফিচার পোস্ট আর্কাইভ

 

আজ ১৬ জুন। বিএনপি চেয়ারপার্সন সংবাদ সম্মেলন ডেকেছেন। যতদুর জানা গেছে, তাতে তিনি আরও কিছু নতুন কর্মসূচী দেবেন। আমরা আশা করব বিএনপি জনগনের ক্ষতিকারক হরতাল-অবরোধের মত কোন কর্মসূচী আর দেবেন না। কারন দেশের বর্তমান অর্থনৈতিক অবস্থা ও বিশ্ব-অর্থনিতীর দিকে তাকালে বিশ্ব এক নতুন চ্যালেঞ্জ নিয়ে বহমান। তাই এসময় দেশের অর্থনীতিতে প্রভাব পড়ে এমন কোন জঘন্য কর্মসূচী দেবেন না।

গত ১২ ও ১৩ জুন হয়ে গেল বিএনপি ও তার মিত্র জামাতের ডাকে ৩৬ ঘন্টার টানা হরতাল। রাজনীতির ভাষায় এটা আমাদের দেশের গণতান্ত্রিক অধিকারের একটা অধিকার। যা যুগ যুগ ধরে এদেশে সরকারী দলের বিপক্ষে বিরোধী দল প্রয়োগ করে আসছে। মাঝে মাঝে সাধারন জনতাও করেছে তা দেশ স্বাধীনের পর তেমন উল্লেখ যোগ্য নয়। ছিটে-ফোটা দুএকটা হযেছে। তবে সব সময় বিরোধী দল তাদের অধিকার আমাদের উপর চাপিয়ে হোক আর স্বেচ্ছায় হোক আদায় করেছেন।

কিন্তু আমার প্রশ্ন হল সবাই বলেন এটা তাদের গণতান্ত্রিক অধিকার। হ্যা আমিও একমত এটা গণতান্ত্রিক অধিকার শুধু বাংলাদেশ, ভারত ও পাকিস্তানের মত অতি গনতন্ত্র প্রিয় দেশ সমুহে। বিশ্বের অন্যান্য দেশে এর তেমন কোন প্রচলন নেই। যা আছে তা উল্লেখ্ না করার মতই।

গত এরশাদ সরকারের আমল হতেই আমরা এ গণতান্ত্রিক অধিকার স্বাধীন দেশে বেশী দেখে আসছি। আমাদের এই দুই নেত্রী একজন তাদের সমর্থকদের ভাষায় দেশনেত্রী, আপোসহীন নেত্রী; আর অন্যজন তার সমর্থকদের ভাষায় জননেত্রী, গণতন্ত্রের মানসকন্যা। আর আমরা হলাম তাদের ভাষায় জনগন। এখানে তারা দুজন জনগনকে আবার বুঝান দুই অর্থে। একজন ভাবেন যারা বিএনপি করে তারাই জনগন, অন্যজন যারা আওয়ামি লীগ করে তারাই জনগন। এ ছাড়া জামাত, জাতীয় পার্টি সহ অন্যান্য রাজনৈতিক নেতারা তো আলাদা আলাদা ভাবে জনগনদের ক্লাসিফাই করেছেন।

যাক ওসব কথা। যা বলছিলাম, সেই এরশাদ বিরোধী আন্দোলনে ভাবি-বুবু-রাজাকার জামাত মিলে চাচামিয়া এরশাদকে হটিয়ে দেশে তাদের ভাষায় গনতন্ত্র আদায় করলেন বা আনলেন। পালিত হচ্ছে বিভিন্ন দিবস। তাও আবার ভিন্ন ভিন্ন নামে।

এরপর ভাবীকে ভাল লাগেনা। তাই বুবু-চাচামিয়া -রাজাকার মিলে আবার নতুন গণতন্ত্রের আবিস্কার করলেন ১৯৯৬ সালে। এটাও টিকল না। তাই আবার ২০০১ সালে ভাবী-রাজাকার এক হয়ে আনলেন আর এক গনতন্ত্র। এটাও টিকল না। ২০০৭ সালে সব বাদ হয়ে গেল। আসল নতুন গনতন্ত্র। এরই ধারাবাহিকতায় আজকের বুবু-চাচামিয়ার সরকার।

এখন এ সরকারও ভাবী ও রাজাকার জামায়াতের পছন্দ না। তাই আবার গণতন্ত্রের লড়াই শুরু হল। জানিনা এর শেষ কোথায়, কে জয়ী হয়। তবে ভাবী বা বুবু একজন তো আছেনই । তাই নো চিন্তা ডু ফুর্তি।

আসলে আমার লেখার বিষয় হল গণতন্ত্রের অধিকার নিয়া। যাই হোক ঐ সকল আন্দোলগুলো ছিল গণতান্ত্রিক অধিকার আদায়ের। এত আন্দোলন কোথায় সেই গনতন্ত্র ?

“বিগত সময়ে আওয়ামী লীগ ও তার মিত্ররা যখন হরতাল ডেকেছিল তাও ছিল তাদের গণতান্ত্রিক অধিকার। আজ বিএনপি-রাজাকার জামাত হরতাল ডাকে তাও গণতান্ত্রিক অধিকার। সবই তাদের গণতান্ত্রিক অধিকার।

এখন প্রশ্ন হল রাজনৈতিক নেতারা তাদের গণতান্ত্রিক অধিকারে হরতাল দেন। কিন্তু সেটা মানা বা না মানাও তো আমাদের মানে জনগনের গণতান্ত্রিক অধিকার বা স্বাধীনতা।

কিন্তু সেভাবে কি তা হচ্ছে?

যখন যারা হরতাল ডাকে হরতাল শেষে সংবাদ সম্মেলন করে গদগদ করে মুখস্ত কিছু ট্র্যাডিশনাল কথা বলেন। যেমন হরতাল সফল, জনগন হরতাল স্বতস্ফুর্ত ভাবে পালন করেছে। তাই আমাদের গণতান্ত্রিক দাবী মানতে হবে।

অন্যদিকে; সরকারী দল (যেই থাকুক) বলে দেন হরতাল জনগন প্রত্যাখ্যান করেছে। তাই এটা তাদের অযৌক্তিক দাবী।

কি নির্লজ্জ আমাদের দেশের রাজনীতিবিদেরা। তারা জানে যে এটা একটা হাস্যকর কথা তারা বলে চলছে। এটা প্রকৃত ও নিরপেক্ষ জনগনের কাছে একটা হাস্যকর বক্তৃতা। তারপরও তারা তা দেদারছে বলে যায়, আর্ আমাদের কিছু অশিক্ষিত ও নিম্ন শ্রেনীর সাংবাদিক একটাকে মুল হেডও করে। উপস্থিত ধামা ধরা সাংবাদিকরা এর উত্তরে কোন প্রশ্ন বা মন্তব্যও সেখানে করেনা, কারন পাছে নেতারা অ-খুশী হন।

এখানে সবাই জনগন শব্দটি ব্যবহার করেছেন। আর এ জনগনের সংজ্ঞা কী আমার জানা নাই। নেতারা তাই আমাদের বলবেন কি ঐ সকল জনগন কারা; যারা আপনাদের ভাষায় হরতাল / অবরোধ / রাজনৈতিক কর্মসূচী সফল বা প্রত্যাখ্যান করেছে ? আপনারা তো কোন সাধারন জনগনদের আপনাদের গণনাতেই ধরেন না। তাহলে ওরা কারা ?

এখন হরতাল করে বা প্রতিহত করে নেতারা বা সরকার তাদের তথাকথিত গণতান্ত্রিক অধিকার আদায় করছেন।

আমাদের সাধারন জনগনের গণতান্ত্রিক অধিকার কী? আমরা কেন আমাদের গণতান্ত্রিক অধিকারবলে হরতাল মানা বা না মানা সিদ্ধান্ত নিতে পারব না ?
আমাদেরকে কেন হরতাল মানতে বা না মানতে বাধ্য করা হয় ?

হরতালকারীরা হরতাল ডেকে চুপ-চাপ থেকে দেখুন জনগন (যদিও আপনাদের ভাষায় আমরা জনগন নই) স্বেচ্ছায় হরতাল পালন করে কি না ?

আবার সরকার বা হরতাল বিরোধীরা হরতাল না মানতে বাধ্য করা বা আতংক না ছড়িয়ে একবার দেখুন যে জনগন (যদিও আপনাদের ভাষায় আমরা জনগন নই) হরতাল স্বেচ্ছায় প্রত্যাখ্যান করে কি না ?

কৈ একবারও কি কেউ সেই সুযোগ আমাদের সাধারণ জনগনকে দিয়েছিলেন বা দিচ্ছেন ?

কেন এসব ভণ্ডামী দেশের সাধারন জনগনের সাথে (এখানে সাধারণ এই জন্য যে, দলীয় ব্যাক্তিরা এর আওতার বাইরে, কারন তার সাধারন নয়। কেউ বিরোধী নেতা বা দলীয় ক্যাডার বা কেউ সরকারী চামচা) ?

গণতান্ত্রিক অধিকার কি শুধুই আপনাদের (নেতা-নেত্রী. দলীয় ক্যাডার, চামচা ও প্রশাসনের তোশামদী বদমায়েশদের ) জন্য ? কে ভোগ করবে গণতান্ত্রিক অধিকার ? শুধুই আপনারা (নেতা-নেত্রী. দলীয় ক্যাডার, চামচা ও প্রশাসনের তোশামদী বদমায়েশ দ্বয় ) ?

আপনারা নেতারা রাস্তা বন্ধ করে মিছিল করবেন-এটা গনতান্ত্রিক অধিকার; মিটিং করবেন-এটা গনতান্ত্রিক অধিকার, তথাকথিত মানব বন্ধন (নেতা-চামচাদের হাতে হাত মেলানো) করবেন-এটাও আপনাদের গনতান্ত্রিক অধিকার;

তাহলে ঐ রাস্তা দিয়া হাটা বা যানবাহনে চলাচল করাওতো আমার বা যে কোন জনসাধারনের গনতান্ত্রিক অধিকার। আপনাদের অধিকার আদায়ের নামে আমাদের সকল সাধারণ জনগনের অধিকার হরনের অধিকার আপনাদের কে দিল ? কোথায় পেলেন ? একটু জবাব দিবেন আমাদের সকল জননেতা-নেত্রীদ্বয় ?

আমাদের মানে দেশের সাধারণ জনগনের কি কোন গণতান্ত্রিক অধিকার নেই ?

আপনারা একটু পরিস্কার করে উত্তর দিন। দয়া করে জাতীর সাথে আর নির্লজ্জ ও বেহায়ার মত ভণ্ডামী করবেন না।

দেশটা শুধুই আপনাদের নয়, আমাদেরও। সাধারন জনতারও।

প্লিজ ! আমাদের ক্ষমা করুন। আমাদের মুক্তি দিন !!

***
ফিচার ছবি কৃতজ্ঞতা: কৌশিক আহমেদ