ক্যাটেগরিঃ গণমাধ্যম

গত ০৫ জুন পাষন্ড স্বামী সাঈদ কর্তৃক তার দীর্ঘ ০৭ বছরের প্রেমিকা ও ১১ বছরের বিবাহিত স্ত্রীকে বীভৎস ও জঘন্য নির্যাতনের বিষযটিও এখন আমার মনে হয় দেশের সচেতন ব্যক্তি বলতে কম-বেশী সবাই জানেন। দেশের সবাই (মানে বিবেক ও সভ্যতার দাবিদার) এর দৃষ্টান্তমুলক শাস্তি দাবী করেছেন। আমিও অতি সাধারণ একজন, যার দৃষ্টান্ত মুলক ও প্রকৃত বিচার দাবী করছি। কারন অপরাধের শাস্তি না হলে তা আর একটি অপরাধের জন্ম দেয় বা আর একটি অপরাধকে উৎসাহিত করে।

আমি প্রথম আলোর আপডেটে দেখলাম যে কানাডার ব্রিটিশ কলাম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয় (ইউবিসি) রুমানা মঞ্জুরের ঘটনায় উদ্বেগ ও সমবেদনা জানিয়েছে। খবর সূত্র প্রথমা আলো
এছাড়া এ্যাকশন এইড, মানুষের জন্য ফাউন্ডেশন, টিআইবি, নারী পক্ষ, ব্লাস্ট, এ এলআরডি ও নিজেরা করি’সহ বিভিন্ন সংগঠনও এর বিচার দাবী করেছে। সুত্র ইত্তেফাক

এখন প্রশ্ন হল প্রত্যেকটি অপরাধের দুটি পক্ষ থাকে। এক. অপরাধ সংঘটন কারী দুই. ভিকটিম। এখানে অপরাধটি সংঘটিত হয়েছে পাষণ্ড সাঈদ কর্তৃক, আর ভিকটিম হলেন ঢাবি শিক্ষিকা রুমানা মঞ্জুর। ঘটনাটির বিবরনে আক্রমন ছিল এক পক্ষীয়। তাই এখানে অপরাধী সাঈদ যে অপরাধী এ বিষয়ে হয়ত কারোরই দ্বিমত নেই।

এখানে আপাতত আমি যা জেনেছি তাতে সাঈদকেই সবাই দোষী বলে স্বীকার করে নিয়েছে। যেহেতু ঘটনার দিন বিষয়টি একেবারে একপাক্ষিক হয়েছিল। গোয়েন্দা পুলিশের ভাষ্য মতে যদি রুমানা সাঈদের উপড় চড়াও হত, তাহলে তার শরীরের কোথাও না কোথাও এর চিহ্ন থাকত, কিন্তু তা নেই। কিন্তু বিষয়টি যেহেতু আদালতে বিচারাধীন তাই কে দোষী বা কে দোষী নয় এরকম বক্তব্য মনে হয় আমার দেয়া ঠিক হবে না। তাই আমি এ প্রসঙ্গ বাদ দিলাম।

তবে আমি এটুক বলার অধিকার অবশ্যই রাখি যে এ জঘন্য ও নারকীয় ঘটনার সুষ্ঠ ও নিরপেক্ষ তদন্ত চাই। এবং যে অপরাধী প্রমানিত হবে, তার দৃষ্টান্তমুলক শাস্তি চাই।

প্রিয় পাঠক এর আগে আমি রুমানা-সাঈদকে নিয়ে দুটি পোষ্ট করেছিলাম। জানিনা সেটা কে কিভাবে দেখেছেন। তারই ধারাবাহিকতায় আজ আমার এ লেখা।

আমার প্রথম লেখাটা ছিল “হাসান সাঈদকে বিদেশে পালানোর আগেই গ্রেফতার করুন”
দ্বিতীয় লেখাটি ছিল “ঢাবি শিক্ষিকা রুমানা’র পাষণ্ড স্বামীর ট্রাইবুনালে দ্রুত বিচার দাবি করছি”

আমার আজকের পোষ্টটি অনেকটা ২য়টির মত হলেও একটু আলাদা। আলাদা এ জন্যে যে আমরা ইতি মধ্যেই দেখেছি যে সাঈদকে পুলিশ দুই দিনের রিমান্ডে নিয়েছে। প্রথম দিনে সাঈদ তেমন কিছু বলে নাই। সে রীতিমত রুমানার “পরকীয়াকেই”(তার ভাষায়) প্রচারে বেশী উৎসাহী ছিল। আর স্বপক্ষে সে সত্য হোক বা মিথ্যা হোক কিছু কাহিনী পুলিশের কাছে বলেছে। পুলিশ সেগুলো পরীক্ষা-নীরিক্ষা করছে। আজ তার রিমান্ডের শেষ ও দ্বিতীয় দিন। দেখা যাক কি তথ্য সে পুলিশকে দেয়।

গতকালের রিমান্ডে সে রুমানার সাথে ইরানী এক যুবক নাভিল তাহেরী বিনের পরকীয়ার কথা পুলিশকে বলেছে। গোয়েন্দা পুলিশের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে সে রুমানার ব্যাপারে পরকীয়ার বিষয়টিকে প্রাধান্য দিয়ে বলেছে, এটাই তাদের দাম্পত্য জীবনের কলহের কারন। ঘটনার দিন ০৫ জুন ২০১১ বিকেলে রুমানার ফেসবুক একাউন্ট থেকে ঐ নাভিলের একাউন্ট ডিলেট করায় তার ভাষায় রুমানা তার উপড় চড়াও হয় এবং তার চশমা খুলে পড়ে যায় ফলে সে কিছুই দেখতে পাচ্ছিল না। উভয়ের মধ্যে ধস্তাধস্তির এক পর্যায়ে সে আঙ্গুল মনে করে নাকে কামড় দিয়েছে। কিন্তু চোখে আঙ্গুল দেয়ার বিষয়টি এখনও অস্বীকার করছে। তথ্যসূত্র -আমাদের সময়

এদিকে রুমানা তার প্রাথমিক তথ্যে বলেছেন, যে সাঈদ চোখে ৯৭% দেখতে পেতনা, ডানে-বামে কিছুই দেখতে পেতনা। এটা নিয়ে সে সবসময়ই হতাশা ও হীনমন্যতায় ভুগত। ঘটনার দিন তিনি কম্পিউটারে কাজ করছিলেন, এবং তার মেয়ে পাশে খাটে বসেই ছবি আঁকছিল। এ সময় পিছন থেকে হঠাৎ এসেই প্রথমে তার দু’চোখে আক্রমন করে, এ থেকে ছুটানোর জন্য দুজনের মধ্যে অনেক ধস্তাধস্তি হয়। সে সময় মেয়েটি চিৎকার করে কাঁদতেছিল। তাও সাঈদ গুরুত্ব দেয় নাই। এক পর্যায়ে তিনি মেঝেতে তারই রক্তে পিছলে পড়ে গেলে পরে কিছুই তিনি বলতে পারেন না বলে জানিয়েছেন। বিস্তারিত দেখুন

এখন আমার মন্তব্য হল, ঘটনা যাই হোক তার বিচার শুরু হয়েছে। রায়ও আসবে। কিন্তু সাঈদ যে কাহিনীই রচনা করুক তা আদালত কিভাবে নিবেন আমার জানা নাই। আমার দাবী হল ঘটনার সৃষ্ট ও নিরপেক্ষ এবং জাতির কাছে দৃষ্টান্ত হয়ে থাকে তেমন বিচার আমি চাই।

সাঈদ যে অপরাধ করেছে তা কোন সুস্থ বা সভ্য মানুষ যেমন মেনে নিতে পারেনা; তেমনি আমিও মেনে নিতে পারিনি। তবে আমি আদলতের কাছে দুটি বিষয় দাবী করছি।

তা হলঃ

১. সাঈদ যে তার স্ত্রীর উপর বর্বর নির্যাতন করছে তার বিচার অবশ্যই আগে চাই।
২. এর পর উভয়ের জবান বন্দীর আলোকে সত্যমিথ্যা বিচার করে, কেন তাদের ০৭ বছরের ভালবাসা এবং দীর্ঘ ১১ বছরের দাম্পত্য জীবনে হঠাৎ এ রকম একটা করুণ ও মর্মান্তিক ঘটনা ঘটল, কিই বা ছিল তার অন্তরালে, এটারও একটি সুষ্ঠ ও নিরপেক্ষ তদন্ত করুন এবং যে অপরাধী প্রমানিত হবে তারও উপযুক্ত ও দৃষ্টান্তমুলক শাস্তি দাবী করছি।

অপরাধী যেই হোক আইন তাকে আইন তাকে সাজা দিবে এবং সে সাজা পাবে এটাই আমাদের কামনা। তবে সবার আগে স্ত্রীর উপর নির্যাতনের বিচার অবশ্যই। তারপর অন্য বিষয়।