ক্যাটেগরিঃ গণমাধ্যম

আদালতে আজ বৃহস্পতিবার ২৩/০৬/২০১১ কোকোর বিরুদ্ধে মুদ্রাপাচার মামলার রায় প্রদান করা হয়েছে। রায়ে কোকোকে ০৬ বছরের সশ্রম কারাদন্ড প্রদান করে ঢাকার তিন নম্বর বিশেষ জজ আদালতের বিচারক মো. মোজাম্মেল হোসেন।

এই রায়ের আগে বিএনপির আইনজীবিরা আদলতে জোর করে ঢোকার চেষ্টা করে ব্যর্থ হয়। এক পর্যায়ে পুলিশের সাথে ধস্তাধস্তি হয়! কিন্ত কেন ? তারা কি আদালত মানে না ? আমরা বিএনপির আইনজীবীদের এ আচরন এর আগে ক্যান্টনমেন্টের বাড়ীর রায়ের সময়ও দেখেছি। তাহলে কি আদালত তাদের কাছে রাজপথ হয়ে গেল ? সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবি সমিতির সভাপতি মাহাবুব বলেছিলেন আদালতকে দলীয় রাজনীতি মুক্ত করবেন ! কি ভণ্ডামী দেখুন, রাজনৈতিক ব্যানারে নির্বাচন করে জয়ী হয়, বিচারপতিকে যেভাবে ইচ্ছা, যে ভাষায় ইচ্ছা গালাগাল ও হুমকি প্রদান করে, আবার বলেন দলীয় মুক্ত করবেন। এটার মানে কি শুধু বিএনপি দল বাদে অন্য সকল দলীয় মুক্ত হবে আদালত ? তারা সর্বদাই আদালতের সকল নিয়মনীতির বাইরে তাদের রাজনৈতিক ও দলীয় কর্মসূচী পালন করবেন, অথচ বলবেন নিরপেক্ষ আদালত, আইনের শাসন চাই। আমার জানা নাই তাদের দল ক্ষমতায় গেলে তারা আদালতের চেহারা কেমন করে ফেলবেন। একমাত্র আল্লাহই ভাল জানেন।

এদিকে মামলার বাদী দুর্নীতি দমন কমিশনের আইনজীবী আনিসুল হক বলেছেন মামলার রায়ের বা মামলার সাথে সরকারের কোন সংশ্লিষ্টতা নেই। এটা দুদকের করা মামলা। এফবিআই থেকে তথ্য পাওয়ার পর দুর্নীতি দমন কমিশন অনুসন্ধান চালিয়ে অপরাধের তথ্যপ্রমাণ পেয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, “এগুলো পর্যালোচনা করে আদালত রায় দিয়েছে। তাই এর সঙ্গে সরকারের কী সংযোগ, তা আমি বুঝতে পারছি না।” বিস্তারিত দেখুন বিডিনিউজ২৪.কম-এর সংবাদে-এখনের ক্লিক করুন।

তারা সকল ক্ষেত্রেই রাজনীতি দেখেন। আজকের মামলার রায়ও নাকি রাজনৈতিক ভাবে মোকাবিলা করবেন। এ ঘোষনা দিয়েছেন ১/১১-তে হঠাৎ হিরো জনাব সানাউল্লাহ। কোকোর কৌঁসুলি ও বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা সানাউল্লাহ মিয়া সাংবাদিকদের বলেন, “আমরা রাজনৈতিকভাবে এ রায় মোকাবেলা করবো।” তাহলে এটা কি রাজনৈতিক ইস্যু ? দুর্নীতি করবেন, অথচ শাস্তি দেয়া যাবেনা, এটা কি মামা বাড়ীর আবদার ? আর শাস্তি হলে তা রাজনৈতিক হবে কেন ? তাহলে যখন দুর্নীতি করে সিমেন্সের কাছ থেকে ঘুষ নিয়ে সেই টাকা (সে সময়ের বাজারদর অনুযায়ী ২০ কোটি ৮৫ লাখ ৮৪ হাজার ৫১৮ টাকা) সিঙ্গাপুরে পাচার করেছিল তখনও কি এটা বিএনপি দলীয়ভাবে করেছিল ? আমরা জানি কোকো বিএনপির কেউ না। তার কোন দলীয় পদবী নেই, তাহলে রাজনৈতিক কেন? তিনি সাবেক প্রধান মন্ত্রী ও বর্তমান বিরোধী নেত্রীর সু-সন্তান, তাই ? আমরা এ নোংরা রাজনীতির অবসান চাই।

আবার বিএপির ফখরুল সাহেব বলেছেন, এটা সাজানো রায়। মানলাম। কিন্ত সিঙ্গাপুর সরকার এবং আমেরিকার কোর্ট কি সাজানো রায় দিয়েছিল ? তারাও তো কোকোকে দোষী সাব্যস্ত করেছিল, এমনকি এফবিআই এ জন্য বাংলাদেশে এসে স্বাক্ষ্য পর্যন্ত দিয়েছে। এটাও কি সাজানো? আমেরিকার সিমেন্স কোম্পানিকে সে দেশে আদালত ঘুষ দেয়ার অপরাধে শাস্তি ও জরিমানা করেছে, সেটাও কি সাজানো ছিল ? দুটি দেশের আদালত (সিঙ্গাপুর ও আমেরিকা) সেদের স্ব-স্ব নাগরিক ও প্রতিষ্ঠানকে শাস্তি ও জরিমানা করল ঘুষ দেয়া ও তাতে সহায়তা করার জন্য, আর আমাদের দেশে ঘুষ গ্রহণকারীর শাস্তি হলে তা সাজানো হবে তাইনা ? আপনারা এর আগে ভাঙ্গা সুটকেসের কত কেচ্ছা কাহিনী ও মুজেজা দেখালেন, এখন দেশে কু-সন্তানদের নিয়া সাধারন মানুষের সাথে রাজনীতি, রাজনীতি খেলা খেলবেন, কি চমৎকার আমাদের সোনার বাংলাদেশ !!!

ফকরুল সাহেব বলেছেন, কোকোর অনুপস্থিতিতে এ বিচার হয়েছে, এটা এক তরফা। আসলে কি তাই ? কোকোর প্যারোলের মেয়াদ গত আগস্টে শেষ হয়। তিনি সম্পূর্ন সুস্থ। তিনি সিঙ্গাপুর নাইট ক্লাবে এসে ঘুরে যান, মালয়েশিয়ায় ব্যবসায়িক মিটিং করেন। এটা কি কোন অসুস্থ মানুষ করতে পারে ? তার প্যারোলের শর্ত ছিল, প্রতিদিন না হলেও প্রতি সপ্তাহে তার অবস্থান ও অবস্থা বাংলাদেশের ব্যাংকক দূতাবাসে জানাতে হবে। কিন্ত তিনি আজ পর্যন্ত কোন যোগাযোগ করেন নাই। কারন তারা সাবেক প্রেসিডেন্ট ও সাবেক প্রধান মন্ত্রীর ছেলে তাই ? তারা কেউই (খালেদা জিয়া, কোকো, তারেক রহমান) বাংলাদেশের কোন আইন আদালত মানেন না যা তাদের বিভিন্ন সময় কথা ও কাজে প্রমানিত। পাকিস্তানের হলে হয়ত বা মানতেন ! তাই নয় কি ?
কোকোকে বার বার আদালতে হাজির হতে বললেও তিনি হাজির হন নাই কেন ? তিনি তো আসলে অসুস্থ নন ! আর আদলত যেহেতু তাকে বার বার নোটিশ দেয়ার পরও কোন সদুত্তর পায় নাই, তাই পলাতক দেখিয়ে এ রায় দিয়েছে, এতে কোকোর অনুপস্থিতির অপশন কি প্রযোজ্য মিঃ ফখরুল সাহেব? বিএনপির মহাসচিব হওয়ার খায়েশে সব কিছু একেবারে গুলিয়ে খেয়ে ফলেছেন ? তবে আমি ১০০% নিশ্চিত, যতই লাফালাফি করন তারেক বাবাজী আপনাকে পূর্ণাঙ্গ মহাসচিব কোনদিনই দেবেনা। সে পরিস্কার বলে দিয়েছে, তার ইচ্ছায় মহাসচিব হবে। তাই তার গ্রীণ সিগনাল না পেলে তার মমতাময়ী মা’ও আপানার পক্ষে কিছুই সিদ্ধান্ত নিতে পারবেনা। আগে সিদ্ধান্ত হত “হাওয়া” ভবনে, এখন “বিলেতে”।

আজ যদি বিএনপি ক্ষমতায় থাকত তাহলে আরও ২ বছর আগেই তারা দুই ভাই (তারেক ও কোকো) সম্পূর্ন সুস্থ হতেন এবং দেশে ফিরে আসতেন এবং আগের মত নয় তার চেয়েও অতি সুক্ষ ভাবে আমাদের ও আমাদের দেশকে শোষণ করতেন !!!

আমরা এখন কোকোকে দেশে ফিরেয়ে এনে রায়ের বাস্তবায়ন দেখতে চাই। সাথে সাথে সরকারকে ও তার চামচা-চ্যালাদেরও এ রায় থেকে শিক্ষা নেয়ার জন্য বলছি। কারন আগামীতে আপনারাও এরকম রায়ের আওতায় আসতে পারেন, এটা মাথায় রাখলেই জাতির জন্য বেশী মঙ্গল।

***
খবর ও তথ্য সূত্রঃ
প্রথম আলো
প্রথম আলো
বিডিনউজ২৪.কম – রায়ের মোকাবেলা রাজনৈতিক ভাবে
বিডিনিউজ২৪.কম।