ক্যাটেগরিঃ মতামত-বিশ্লেষণ

 

জুতা পায়ে দলে দলে শহীদ মিনারে কি মজা! কি মজা!

গত কিছুদিন যাবত দেশে রাস্তা রাস্তা নিয়ে বেশ হৈ চৈ দেখা যাচ্ছে। কেউ বলছে দেশ গেল রসাতলে। দেশে পানি নেই, বিদ্যুৎ নই, গ্যাস নেই, রাস্তা নেই, খাদ্য নেই, বস্ত্র নেই শুধু নেই আর নেই। অথচ বড় একটা জিনিষ যে আমরা সবাই হারিয়েছি চরিত্র ও আত্ম সমালোচনা সেখানে কেউ বলে না যে এটা নেই। বরং মনে হচ্ছে না থাকাতেই সবাই খুশি। তাই চরিত্রহীনদের মত অন্যের সমালোচনায় সর্বদা মত্ত। নিজের পাছার খবর নেই।

কোন বুদ্ধিব্যবসায়ীর নিজের মেয়ে অন্য ছেলের সাথে রাস্তায় বা পার্কে ডিটিং দিলে কি হবে কিন্তু উনাকে যদি ঐ বিষয়ে কোন প্রবন্ধ লিখতে বলা হয় লিখবেন বেশ সুন্দর করে আপন মহিমার মনের মাধুরী মিশিয়ে। ঐ গ্রুপের চৌদ্দ গোষ্ঠী উদ্ধার করে ছাড়বেন। সাথে সাথে তার বাবা-মাকেতো অবশ্যই। ওনার লেখা পড়ে যার পরনাই আমরা হবুচন্দ্র পাঠকরা হাততালি দিব। যদি প্রকাশ্যে না পারি ডিজিটালের সুবাধে মাউস টিপে । যদিও জীবনে বাস্তবে যদি একটি হাততালি নাও দেই, তাতে কি ? এবারওতো নিজে দেই নাই, দিয়েছে মাউস !!! আর এর মাঝেও ঐ লেখক বলবেন ধন্যবাদ। শুভ কামনা। বাহ! নগদ দোয়া।

আবার যদি ঐ বুদ্ধিব্যবসায়ীকে বলা হয় এবার টিভি ক্যামেরা আসবে। তো কোন বিশিষ্ট ব্যাক্তির ছবি, বইয়ের সেলফ (কোন কোন বই হয়ত জীবনে একবার স্পর্শও করেনাই), সাদামাটা ড্রইং রুম (বিশিষ্ট বুদ্ধিব্যবসায়ী বলে কথা), এর পর সাদামাটা একটা ড্রেস (বলবেন আমি কমুনিস্টের ইজারাদার বা আলেম-কোরআনের ইজারাদার) ইত্যাদি সব আমার জানা নাই। কারন কোনদিন করা হয়নাই। দেখে দেখে যা বুঝলাম তাই লিখলাম।

এরপর দেখা যাবে দুনিয়ায় যদি কোন ভাল লোক থাকে তো তিনিই ! যদি ভাল কোন ন্যাজ্য কথার মানুষ থাকে তো তিনিই। যদি কোন দেশ ও জন দরদী থাকে তো তা কেবল তিনিই। এক কথায় সকল ভাল কথা ও গুনের অধিকারী ওনি একজন। উপস্থাপক আবার মাঝে মাঝে তৈল মর্দন করবেন। এরপর যাবার সময় ক্যাশ কাউন্টারে গিয়ে পাওনাটা বুঝে নিবেন। কারন উনি বুদ্ধি বিক্রি করতে এসেছেন, বিক্রি করলেন এবং পাওনা নিয়ে বাসায় গিয়ে টিভিটা অন করে সবাইকে বলবেন দেখ দেখ আমি কত কিছু বলতে পারি !!!

আমাদের দেশ মহা পন্ডিতের এক ভান্ডার। এখানে সকল ধরনের পন্ডিতদের পাওয়া যায়। ওনারা যতটুক মানুষের সমালোচনা করেন, তার এক হাজার ভাগের একভাগ যদি নিজেদের সমালোচনা করতেন তাহলে আজ এই অবস্থা হতনা। আকবর আলী খান সাহেব বড় বড় কথা বলেন কিন্তু উনি কেন উপদেষ্টা পদ হতে দৌড় দিয়েছেলেন। ডঃ কামাল সাহেব খুব মানবতাবাদী । অথচ আমার বাবা সহ ১৫৩ জন সাধারন সরকারী চাকুরীজীবি ১৯৯৩ সালে খালেদার ক্যাপিট্যাল বাড়ানোর প্রতিযোগীতায় চাকুরী হারিয়ে আদালতে যান। উকিল কামাল সাহেব। তাদের শেষ হাজিরা যেদিন সবকিছু সেটেল হবে সেদিন কামাল সাহের রহস্য জনক ভাবে আদালতে যান নাই। গেটে দারোয়ানকে বলেছেন পুরো দেড় লক্ষ টাকা ছাড়া উনি আদালতে উঠবেন না। উনি দেখা পর্যন্ত করেন নাই। কেস ওখানেই থেমে গেল। আমার বাবা টাকার শোকে ধুকে ধুকে মারা গেলেন। এরা হলে মানবতা বাদী। এই বিষয়টি বিস্তুারিত পড়ে লিখব। সুলাতানা কামালরা কেন পদত্যাগ করেছিলেন ? আজ বড় বড় কথা বলেন ।

আসি মূল কথায়। শহীদ মিনারে ঈদ এবং জাতীর সাথে আর একটি নাটক মঞ্চস্থ। উনারা কি এদেশে নতুন এসেছেন ? এদেশে এ সমস্যাতো অনেক পুরোনো। ইলিয়াছ কাঞ্চনতো বহু আগেই এই নিরাপদ সড়কের জন্য আন্দোলনে নেমেছিলেন, কৈ কোন বুদ্ধিজীবিদের এতদিন দেখিনাই কেন ? এমনকি কোন কলাম পর্যন্ত তারা লেখেনাই। আজ কেন হঠাৎ করে এই হাস্যকর অবস্থার নাটক মঞ্চস্থ্য করছেন ? এটাকি মন থেকে নাকি জিরো হতে হিরো, বাম হতে ডান দিকে যাবার জন্য ? প্রশ্নটা খুবই স্বাভাবিক। কারন যারা এবার বাড়ী গেছেন তাদের কাছে নীরপেক্ষ স্বাক্ষাৎকার নিলেই পরিস্কার হবে। আমি আমার সকল আত্মীয় স্বজনদের কাছে খবর নিয়ে জেনেছি গত ১৫ বছরের মধ্যে এবারই কোন রকম চাঁদাবাজী ছাড়া, রাস্তায় ঝামেলা ছাড়া, সব চেয়ে কম দুর্ঘটনার মধ্যে সবাই গ্রামের বাড়ী গেছেন ঈদ করতে এবং তারা খুশি। যারা আমাকে জানিয়েছেন তারা এসব বুদ্ধিব্যবসায়ীদের মত রাজনীতি করেন না বা বুঝেন না।

কারোও প্রতি কারোও ব্যাক্তিগত আক্রোশকে নিয়ে নোংরা রাজনীতি মানায় না। এ আয়োজকের প্রধানকে জিজ্ঞাসা করুন। সব জানতে পারবেন। তাছাড়া এ আয়োকের প্রধানতো মনে হয় এমনিতেই দেশে গিয়ে ঈদ করেন না। তাই উনি যেহেতু ঢাকায় থাকবেন তাই টাইম পাস এবং জিরো হতে হিরো দুটোই অর্জন করার জন্যই এ নাটক।

সরকারের অনেক মন্ত্রী ব্যর্থ। এটা কারও অ-স্বীকার করার সুযোগ নেই। তাই বলে একজন মন্ত্রীর বিরুদ্ধেই আন্দোলন কেন ? শুধু কি এই একজন যোগাযোগ মন্ত্রীই ব্যর্থ ? এর আগের যোগাযোগ মন্ত্রীরা কি সফল ছিলেন ? এটাকে এমন ভাবে প্রমান করার চেষ্টা হচ্ছে যে, এর আগে কোন দিন কোনও সড়ক দুর্ঘটনা দেশে হয়নাই, মানুষ যেন সব দুর্ঘটনার ভয়ে রাস্তায় বা তাদের সাথে শহীদ মিনারে এসে ঈদ করার ঘোষনা দিয়েছে । সম্মেলনে যার এসেছে বা যাদের দেখা গেছে তারা বেশীর ভাগই কৌতহলী জনতা। যারা ঘুরতে বেড় হয়ে এক নজর নাটক দেখতে গেছেন। যে কোন সভা হলে দল না করলেও চলমান পথিকরা একটু দাড়ায়। এখানেও এরকম সংখ্যই বেশী ছিল। প্রত্যক্ষ দর্শীদের কাছ হতে প্রাপ্ত তথ্যের আলোকে বললাম।

ক্যামেরা রেডি ১ ২ ৩---১০ এ্যাকশান । সূত্র: বিডিব্লগ ফিচার পোষ্ট


বিডিব্লগের ফিচার পোষ্টের কমেন্টস এবং কমেন্টসের অংশগ্রহনকারীর সংখ্যা দেখলেও বুঝা যায় যে এটা কতটা গুরুত্বহীন। কারন এমন কিছুই ঘটেনাই বা এমন খারাপ অবস্থার সৃষ্টি হয়নাই, যেমন ভাবে তুলে ধরার চেষ্টা হচ্ছে। যারা আয়োজোক হিসাবে উপস্থিত হয়েছে, তাদের বলব, আগে নীজের সমালোচনা করুন, তারপর অন্যের, তারপর দেশের ।

এটাতো খালেদা জিয়ার ঐ হুংকারের প্রতিবিম্ব । আমেরিকা ও লন্ডন ঘুরে এসে বলেছিল এবার আন্দোলল হবে একটু অন্য রকম। এই সেই অন্যরকম আন্দোলন। ব্লগ কেনা-বেচা হচ্ছে । যেখানে কাদের সিদ্দিকীর মত লোকজন রাজাকারের প্রসংশায় ব্যস্ত। বি চৌধুরীরা রেল লাইনের ধাওয়া খাওয়া ও আগুনে ঘর পোড়ানোর কথা ভুলে গেছে (জানিনা সেটা তাদের নাটক ছিল কিনা), সেখানে বামেরা যদি কৌশলে ডানে যান তাতে দোষের কি ? আর এভাবেই ওনারা কৌশলে বিএপিকে আন্দোলন বেগবান করে দিচ্ছেন আরকি ?

এদেশে এ অবস্থা এবারই প্রথম নয়। এর চেয়ে আরও ভয়াবহ অবস্থা আমরা দেখেছি। কৈ তখনতো কেউ আন্দোলনে আসেনাই। কৈ তারেক-খালেদার দুর্নীতির বিচার বা জামাত-রাজাকারদের বিচার নিয়েতো কাউকে শহীদ মিনারে অনশনে দেখিনাই ! কৈ কাউকেতো দেখিনাই হরতাল বন্ধে শহীদ মিনারে যেতে ? অথচ একটি মিমাংসিত বিষয়ে লোক দেখানো নাটক করতে শহীদ মিনারে ঈদ। তাও আবার জুতা পায়ে দিয়ে !!! অথচ আমরা জানি শহীদ মিনারের মত পবিত্র স্থানে জুতা পায়ে উঠা নিষেধ। যারা দেশকে ভাল বাসে, শহীদদেরকে শ্রদ্ধা করেন তারা অন্তত জুতা পায়ে যাননা।

আমরা এরকম নাটক আর দেখতে চাইনা। চাই সত্যিকার দেশ-প্রেম। ব্যাক্তিগত আক্রোশকে রাজনীতি করন হিসাবে দেখতে চাইনা, চাই সকল রাজনৈতিক সমস্যার শান্তিপুর্ন সমাধান।