ক্যাটেগরিঃ ব্লগালোচনা

 

আজ আমার এটা পোষ্ট হওয়ার কথা ছিলনা। কিন্তু কিছুই করার নাই। এর আগেও বহু লেখা ব্লগে দেয়া হয়েছিল এই অশ্লীল ভাষা ও নগ্নভাবে ব্যাক্তি আক্রমন করে বক্তব্য বন্ধ করার জন্য। কিন্তু এটা আরোও বেড়েছে বৈ কমেনি। যার প্রমান বিগত ১ মাসের ব্লগগুলো ঘাটলেই দেখা যাবে। এটা এমনই একটি পোষ্ট যেখানে লেখক ও তার সহযোগীরা নগ্নভাষায় আক্রমণের প্রমান পাওয়া যায়। এভাবে বহু পোষ্ট আছে কোনটাতে লেখক, কোনটাতে মন্তব্যকারী বাজে ভাষাগুলো ব্যবহার করে থাকেন। আর মডারেটর মডারেট করে তা প্রকাশ করেছেন। কিন্তু ঐ সকল মন্তব্য গুলো পুরো-পুরি বাতিল করলে কিন্তু এ সমস্যার অনেক সমাধান হত। তা কিন্তু কর্তৃপক্ষ দাবী সত্ত্বেও বাস্তাবায়ন করছেন না।

এ সম্পর্কিত আমার আগের পোষ্টটি এখানে দেখুন।

এর আগেও এ বিষয়ে ব্লগ কর্তৃপক্ষকে অনুরোধ জানানো হয়েছিল যেন এ জাতীয় লেখা প্রকাশ না পায়। কিন্তু তা হয়নাই। একজন অ-নিবন্ধিত মন্তব্যকারীর লেখা প্রকাশ হওয়ার আগে নিবন্ধিতদের চেয়ে বেশী পরীক্ষা করে দেখার কথা, কিন্তু তা দেখা হয়না বলেই মনে হয়। কারন আমাদের অনেক নিবন্ধিত লেখকের লেখাও মডারেট করা হয়। কিন্তু একজন অ-নিবন্ধিত যখন ব্যাক্তি আক্রমন বা জঘন্য ভাষায় গালা-গাল করে মন্তব্য করে থাকে এবং তা কোন মডারেশন ছাড়াই প্রকাশ পায় তখন এটাই ভাবা স্বাভাবিক নয় কি ?

উদাহরন হিসবাবে: মোসাদ্দিক উজ্জলের একটি পোষ্ট “১১ ঘণ্টার হরতাল: সেই সাথে আমাদের প্রাপ্তি!” । এখানে ২৩ নম্বর কমেন্টস-এ লেখককে উদ্দেশ্য করে mohsin নামের একজন অ-নিবন্ধিত মন্তব্যকারী যে মন্তব্যটা করেছে তা নিম্নরুপ:

mohsin বলেছেন: 23
সন্ধ্যা ৭:৫৬, শুক্রবার ২৩ সেপ্টেম্বর ২০১১
লেখকের এবং সমালোচকের ঝগড়া দেখে অনেক সত্য প্রকাশ হল। পক্ষ বিপক্ষ নাকি নিরপেক্ষ তা স্পষ্ট। পক্ষ অবলম্বন করা দোষের নয় তবে নিরপেক্ষতার ভাব দেখানোটা জঘন্য (মিছকি শয়তানী)। জবাব দিতে গিয়ে লেখক শেয়ার বাজার নিয়ে যা বলেছেন
‘কেননা যে ইস্যু নিয়ে তারা হরতাল ডেকেছে সেই ইসুর কোন ভিত্তি সরকারের কাছে নাই। তেলের দাম কমবেনা। আর শেয়ার এর দাম বাড়বেনা। ’

[অশ্লীল বাক্য ব্যবহার করে ব্যক্তি অবমাননা করা মন্তব্যটুকু মুছে ফেলা হয়েছে। ভবিষ্যতে এমন ব্যবহার না করার জন্য সতর্ক করা হচ্ছে মন্তব্য প্রদানকারীকে – ব্লগ টিম]

তবে এই ক্ষেত্রে আমি জানিনা পুঁজি বাজার সম্পর্কে কত টুকু সম্যক ধারনা আপনার আছে। একটি দেশের ইনভেস্টর রা শেয়ার কিনবে কোন ভিত্তিতে? শেয়ার কেনার জন্য একটি স্ট্যান্ডার্ড পি রেশিও থাকে। যেমনঃ ব্যাংক এর পি ধরা হয় ২০, নন ব্যাংকিং আর্থিক প্রতিষ্ঠান এর পি ৩০, ফুড বা অন্যান্য সেক্টরে ৪০ এই রেশিও থাকলে বুঝা যায় বিনিয়োগ নিরাপদ। আমাদের দেশের শেয়ার বাজারের গড় পি হচ্ছে বর্তমানে ১৪। এখন বুঝুন। বাজার যখন ঊর্ধ্ব গতি পাগলা ঘোড়ার মত বেড়ে গেল তখন এস ই সি নীরব ভূমিকা পালন করে কতিপয় দুষ্ট চক্রের হাতে পুঁজি বাজার এর ঝাণ্ডা তুলে দিল। অন্য দিকে অর্থ মন্ত্রী বললেন দেশের পুঁজি বাজার অতি মুল্যায়িত নয়। কিন্তু ২ দিন পর আবারো অর্থ মন্ত্রীর ঘোড়া রোগ দেখা গেল। এবার সে বলল পুঁজি বাজার অতি মুল্যায়িত। এর পর রেগুলারিটি সকালে এক সিদ্ধান্ত নেয় তো বিকালে আর এক সিদ্ধান্ত। অন্য দিকে প্রধান মন্ত্রী আহভান করতে থাকে পুঁজি বাজারে বিনিয়োগ করার জন্য। আবার ডি এস ই রোড শো করলো শেয়ার বাজারে ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারীদের ইনভল্ব হবার জন্য। আবার অন্যদিকে দেশে প্রথম বারের মত শেয়ার মেলার আয়োজন করা হল। জনগণ কে এই ভেবে উদ্ভুদ্দ করার কারনে অনেক ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারী সেই সময় বাজারে ঢুকে গেল। কিন্তু ইনডেক্স যখন ৮০০০ প্লাস তখন বাজার আসলে অতি মূল্যায়ন হয়ে গিয়েছিল। কিন্তু এখন সেই বাজার অর্ধেক এর নিচে নেমে এসেছে। যেখানে এক দিনে টার্ন ওভার হত ৩ হাজার কোটি টাকা সেখানে এখন টার্ন ওভার হচ্ছে ২৫০ কোটি টাকা! অবিশ্বাস্য ব্যাপার এটি। সম্প্রতি আর একটি ঘোষণা আসছে সেটি হল এশিয়ার মধ্যে সব চাইতে বাজে পুঁজি বাজার হচ্ছে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ। এই সরকার কোন ভাবেই এই বাজার টি কে নিয়ন্ত্রন করতে পারেনি। ৯৬ সালেও একি অবস্থা। তবে সেই বার ছিল ১০০০০ মানুষ এবার ৪০ লাখ বিনিয়োগকারী প্লাস তাদের পরিবার। বর্তমান শেয়ার বাজারের যে অবস্থা সেটি হল বাজারে যদি এখন ১ কেজি ইলিশ মাছের দাম ৮০ টাকা হয় সেই রুপ। অর্থাৎ প্রতিটি শেয়ার এর দাম অর্ধেক এর নিচে নেমে এসেছে। এমন কি ফেস ভ্যালুর চাইতেও নিচে!! এটি কি করে সম্ভব? ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারীদের দায় হচ্ছে তারা টোপে ধরা খেয়েছে। আর সেই টোপ কিন্তু রেগুলারিটি ই করেছে। কেজেই সেই দায় ২০ ভাগ জনগনের আর ৮০ ভাগ সরকারের।

তবে ঐ বোল্ড করা অংশে যা ছিল তা লেখকের আপত্তির কারনেই সম্ভবত অনেক পরে কর্তৃপক্ষ মডারেট করেছেন। কিন্তু তার আগে হয়ত শত শত ব্লগার ও ভিজিটর তা পড়ে ফেলেছেন। আরোও মজার কথা হলো এ জাতীয় জঘন্য মন্তব্য করার পরও শুধু সংশ্লিষ্ট অংশটুক মডারেট করা হয়েছে। তার মানে এখানে একটা খারাপ কিছু ছিল তা মডারেটরের কথায়ও প্রকাশ পায়। এখানে যদি পুরো মন্তব্যটা বাতিল করে দিতেন তাহলে এ জাতীয় প্রবনতা অনেক কম হত।

এখন আমার কিছু জিজ্ঞাসা:
১। আমরা কি বিডিব্লগকে সুস্থ্য ব্লগিংএর ব্লগ হিসাবে চেয়ে ভুল করেছিলাম ?
২। আমি আমার অন্য লেখায় বলেছিলাম ব্লগের লেখায় অ-নিবন্ধিতদের মন্তব্য বন্ধ করে দিন তা কি ভুল ছিল ?
৩। ব্লগার মানে লেখকে মন্তব্য মুছেফেলা, ব্লক করা ও সম্পাদনার জন্য আবেদন করা কি ভূল ছিল ?
৪। এভাবে কি সুস্থ্য ও মার্জিত ব্লগিং সম্ভব ?

কর্তৃপক্ষ আমাকে ভুল বুঝবেন না আশা করি। আমার উপরোক্ত অভিযোগ ও জিজ্ঞাসাগুলোর জবাব তো আপনাদের কাছেই। তাই এ লেখা ছাড়া আমাদের আর কিই বা করার আছে ?

আমরা কি সুস্থ্য ভাবে লিখতে পারব না ? ব্লগিং করতে পারব না ? এটা চাওয়াটা কি আমাদের অপরাধ ?